নেপালে বন্যায় ৩০ জনের মৃত্যু, আসামে মারা গেছে ৬ জন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: টানা বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে নেপালে অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার পুলিশের বরাত দিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিমালয়ান টাইমস এ তথ্য জানিয়েছে।

অন্যদিকে লাগাতার বর্ষণে ভারতের আসাম রাজ্যে বন্যায় ছ’জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রায় সাড়ে আট লাখ মানুষ। গুয়াহাটিতে ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমা ছাড়িয়ে গিয়েছে। একই অবস্থা রাজ্যে অন্যান্য নদীগুলিরও।-খবর আনন্দ বাজার

হিমালয়ান টাইমস জানায়, নেপালের ২১টি জেলায় প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে বন্যা ও ভূমিধস দেখা দিয়েছে। এখনো অন্তত ১৮ জন নিখোঁজ রয়েছে এবং ১২ জন আহত হয়েছে।

টেলিভিশনে প্রচারিত দৃশ্যে দেখা গেছে, রাজধানী কাঠমান্ডুর রাস্তাঘাট বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা বন্যাক্রান্ত বাড়িঘর থেকে লোকদের নৌকায় করে বের করে আনছে। নেপাল পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, শনিবার বিকেলে ৮৩১ জনকে সরিয়ে আনা হয়েছে।

জ্যেষ্ঠ পুলিশ সুপার রমেশ থাপা বার্তা সংস্থা সিনহুয়াকে বলেছেন, ‘দেশের বিভিন্ন স্থানে উদ্ধার তৎপরতা চালাতে সব মিলিয়ে ২৭ হাজার ৮৩০ জন পুলিশ সদস্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।’

আনন্দবাজার জানায়, আসামে তিন দিনের বৃষ্টিতে ৬৬ হাজার ৭১৮ একর চাষযোগ্য জমি বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। রাজ্য জুড়ে ৬৮টি ত্রাণ শিবিরও গড়ে তোলা হয়েছে। বন্যা কবলিত এলাকা থেকে সাত হাজার মানুষকে উদ্ধার করে সেখানে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছে।

আসামের যে জেলাগুলি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম ধেমাজি, লখিমপুর, বিশ্বনাথ, সোনিতপুর, দারান্ড, বাকসা, বরপেতা, নলবাড়ি, চিরাং, বঙ্গাইগাঁও, কোকরাঝড়, গোয়ালপাড়া, মরিগাঁও, হোজাই, নগাঁও, গোলাঘাট, মাজুলি, জোরহাট, ডিব্রুগড়, তিনসুকিয়া এবং শিবসাগর। এর মধ্যে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বরপেটা। সেখানে প্রায় ৮৫ হাজার মানুষ ঘরছাড়া বলে জানিয়েছে রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বিভাগ।

অন্য দিকে, কাজিরাঙা ন্যাশনাল পার্কেও বন্যার জল ঢুকে পড়েছে। সেখানে পশুদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে এখনই পরিস্থিতি উন্নতির কোনো সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। সপ্তাহান্তে সেখানে ফের ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে জানিয়েছে তারা। এ কারণে শুক্রবার থেকেই বিভিন্ন জায়গায় ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।

গোটা পরিস্থিতির দিকে নজর রেখেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল। বন্যা কবলিত এলাকার ডেপুটি কমিশনারদের সঙ্গে বৃহস্পতিবার ভিডিও কনফারেন্সে কথা বলেছেন তিনি। ২৪ ঘণ্টা কন্ট্রোল রুম চালু রাখার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

শেয়ার করুন