‘মাওলানা শিহাবুদ্দীন (রহঃ) ছিলেন হাদীস জগতের অন্যতম নক্ষত্র’

সিলেটের সকাল ডেস্ক :: ওলি ইবনে ওলি মুফতি রশীদুর রহমান পীর সাহেব বরুন বলেছেন, সিলেটের ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জামেয়া তাওয়াক্কুলিয়া রেঙ্গার দীর্ঘ ৫২ বছরের শায়খুল হাদীস আল্লামা শিহাবুদ্দীন (রহঃ) ২২ বছর বয়সে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ দ্বীনি বিদ্যাপীঠ দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদরাসা থেকে তাকমীল ফিল হাদীস সমাপ্ত করে সরাসরি বুখারী শরীফের উস্তাদ হিসাবে নিয়োগ প্রাপ্ত হয়ে চলে এসে ছিলেন জামেয়া তাওয়াক্কুলিয়া রেঙ্গায়। কর্মজীবনের প্রথম দিন থেকেই তিনি অলংকৃত কলেছিলেন বুখারী শরীফের দরসের মসনদ। ইন্তেকাল পর্যন্ত দীর্ঘ ৫২ বছর একই প্রতিষ্ঠানে বুখারী শরীফের খেদমত করে গেছেন। হাজার হাজার ছাত্রকে বুখারী শরীফের দারস দ্বারা আলোকিত করে ছিলেন। পাশাপাশি আরো কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের শায়খুল হাদীস ও পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ছিলেন আযাদ দ্বীনী এদারায়ে তা’লীম বাংলাদেশ এর নাজিমে ইমতিহান। এ দায়িত্ব দীর্ঘদিন থেকে আমৃত্যু পালন করেছিলেন। এছাড়া তিনি ওয়াজ নছিহতের মাধ্যমে দেশ-জাতি ও ধর্মের খেদমত করে গেছেন। তাজকিয়ায়ে নফসের খেদমতের মাধ্যমে গড়ে তুলেছেন অনেক খোদাভীরু ব্যক্তিত্ব। গত ২৬ শে রমজান তিনি ইন্তেকাল করেছেন। নিদ্বিধায় বলা যায় হযরত শায়খুল হাদীস শিহাবুদ্দীন (রহঃ) ছিলেন হাদীস জগতের অন্যতম নক্ষত্র। তার ইন্তেকালে জাতির যে ক্ষতি হয়েছে তা পূরণ করা সম্ভব নয়।

পীর সাহেব বরুনা বৃহস্পতিবার বিকালে সিলেট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে তাওয়াক্কুলিয়া ফুযালা ও আবনা পরিষদ সিলেট মহানগর শাখার উদ্যোগে জামেয়া তাওয়াক্কুলিয়া রেঙ্গা সিলেটের শায়খুল হাদীস আল্লামা শিহাবুদ্দীন রহ. এর জীবন ও কর্ম শীর্ষক আলোচনা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।

জামেয়া তাওয়াক্কুলিয়া রেঙ্গার মুহতামিম এবং ফুযালা ও আবনা পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা মুহীউল ইসলাম বুরহানের সভাপতিত্বে এবং মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ইহতেশামুল হক কাসেমী ও সহ সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মামুনুর রশীদ ও মাওলানা শামসুদ্দনি মু. ইলয়াসের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠিত আলোচান সভা ও দোয়া মাহফিলে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন রেঙ্গার শিক্ষা সচিব মুফতি গোলাম মোস্তফা এলাহীগঞ্জী, জামেয়া আঙ্গুরার মুহতামিম মাওলানা শায়খ জিয়া উদ্দিন, মাওলানা নুরুল ইসলাম খান সুনামগঞ্জী, জামেয়া গলমুকাপনের মুহতামিম মাওলানা শায়খ আব্দুস শহীদ, জামেয়া মাহমুদিয়া সুবহানীঘাটের শায়খুল হাদীস মাওলানা নাজির হুসাইন প্রথমপাশী, জামেয়া সুরাইঘাটের মুহতামিম মাওলানা ওলীউর রহমান, জামেয়া নয়াসড়কের শায়খুল হাদীস মাওলানা মুজিবুর রহমান, জামেয়া গহরপুরের মুহতামিম হাফিজ মাওলানা মুসলেহুদ্দীন রাজু, শায়খুল হাদীস শিহাবুদ্দীন রহ.’র সাহেবজাদা হাফিজ মাওলানা নজমুদ্দীন, জামেয়া দরগার মুহতামিম মাওলানা মুহিব্বুল হক গাছবাড়ী, জামেয়া ভার্থখলার মুহতামিম হাফিজ মাওলানা মজদুদ্দীন আহমদ, জামেয়া কাজিরবাজারের শায়খুল হাদীস মাওলানা আহমদ আলী, জামেয়া ধনকান্দির মুহতামিম মাওলানা মুশতাক আহমদ খান, জামেয়া দারুল কুরআনের মুহতামিম মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরী, জামেয়া ঝেরঝেরিপাড়ার মুহতামিম মাওলানা মাহমুদ সোয়াবি, আল-খাযরা মারকাযী মসজিদ লন্ডনের ইমাম ও খতিব মুফতি বাহাউল ইসলাম আহসান প্রমুখ।

সভার ১ম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন মহানগর সভাপতি হাফিজ মাওলানা মিযবাহুদ্দীন আহমদ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সম্মেলন বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি মাওলানা হারুনুর রশীদ আল আযাদ। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জামেয়া আব্বাসিয়া কৌড়িয়া মাদ্রাসার শায়খুল হাদীস হযরতের সুর্যসন্তান মাওলানা আব্দুল হামিদ সাকিব, দারুল আযহার মডেল মাদরাসা গোয়ালাবাজারের প্রিন্সিপাল মাওলানা মিনহাজ উদ্দিন মিলাদ, জামেয়া দেউলগ্রাম মাদরাসার মুহাদ্দিস মাওলানা আব্দুল বাসিত , জামেয়া তাওয়াক্কুলিয়া রেঙ্গা মুহাদ্দিস মাওলানা তালিব উদ্দিন, সাদীপুর জামে মসাজিদের ইমাম ও খতিব হাফিজ মাওলানা খাইরুল ইসলাম, জামেয়া তাওয়াক্কুলিয়া রেঙ্গার শিক্ষক মিজানুর রহমান, মাওলানা নজমুদ্দীন সাহেব জাদায়ে শায়খ শিহাব উদ্দিন র:, চতুল দারুল হাদীস ঈদগাহ মাদরাসার মুহাদ্দিস মাওলানা তবারক আলী, আয়শা সিদ্দিকা মাদরাসার মুহাতামীম মাওলানা মখলিসুর রহমান রাজাগঞ্জী, জামেয়া রেঙ্গা মাদরাসার সাবেক শিক্ষক মাওলানা আতাউর রহমান বাহুবলী হুজুর, গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা গোলাম আম্বিয়া কয়েস।

শেয়ার করুন