ভিড় এখন আতর-টুপির দোকানে!

সিলেটের সকাল রিপোর্ট :: আজ চাঁদ দেখা গেলে কাল ঈদ। পছন্দের পোষাক কেনা শেষ। শেষ হয়েছে মানানসই জুতা কেনাও। তাই এবার কিনতে হবে আতর আর টুপি। ঈদের দিনে নতুন পোষাকের সাথে সবার চাই নতুন টুপি। তাছাড়া প্রয়োজন সুগন্ধি আতরও। এজন্য শেষ মুহূর্তে সকলেই ভিড় করছেন আতর-টুপির দোকানে। ফলে ব্যস্ত সময় পার করছেন সিলেটের আতর-টুপির দোকানীরাও। ক্রেতাদের সরব উপস্থিতির কারণে দম ফেলার ফুসরত নেই তাদের।

নগরীর আতর-টুপির মার্কেট বলে খ্যাত কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ মার্কেট, বন্দর বাজারের কুদরত উল্লাহ্ মসজিদ মার্কেটসহ দরগাহ গেইট এলাকার দোকানগুলো ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র। এরমধ্যে অন্যতম হচ্ছে- কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ মার্কেটের আল-রব্বানী পারফিউমস, আফতাব পারফিউম সেন্টার, আশরাফিয়া আতর হাউস, লাকি স্টোর, আল-মক্কা আতরহাউস, আল-মদিনা আতর হাউস, বোরাক আতর সেন্টার, জামান আতর সেন্টার, খালেক আতর সেন্টার, এজাজ আতর সেন্টার।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, ক্রেতাদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে এবার দেশ-বিদেশের আতর ও বিভিন্ন ডিজাইনের টুপির কালেকশন এনেছেন তারা। বিক্রিও ভালো হচ্ছে। আতরের বাজারে ভারতীয় কোম্পানীর চাহিদা বেশী। এছাড়া, দুবাই ভিত্তিক আতরের চাহিদাও রয়েছে। তবে, দেশীয় আতরের চাহিদাও একেবারে কম নয়।

ঘুরে দেখা যায়, ১০ টাকা থেকে শুরু ৫’শ টাকাতেও টুপি বিক্রি করা হচ্ছে। ক্রেতারা আতর কিনছেন ৫০ টাকা থেকে শুরু করে হাজার টাকায়। এ ভিড় ঈদের দিন সকাল পর্যন্ত থাকবে বলে জানালেন দোকানীরা। এসব সামগ্রীর স্থায়ী দোকানের পাশাপাশি পাড়া-মহল্লার মসজিদের সামনেও বসেছে অস্থায়ী দোকান।

কুদরত উল্লাহ মার্কেটের টুপি ব্যবসায়ী হোসেন আহমদ জানান, এবারও সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে ভারতীয় আতর। এর মধ্যে রয়েছে আল নাঈম, আল মাস, রয়ের প্রসেসিং, সুইট হার্ট, নাজমীন, চকলেট মাক্স, আলীশাহ, রোজ মাক্স, উদ আল আরব, রয়েল মিরাজ, হাজর আল আসওয়াদ, বাকুর, সিদরা, রয়েল মেরী, ডেস্ট, ম্যাট, চকলেট, সিলভার হুয়াইট, জেটেক্স ইত্যাদি।

দুবাই ভিত্তিক আতরের চাহিদার মধ্যে আল রাইয়্যান, লাওহে মাহফুজ, প্রিন্স, উদ আল মনসুর, মেরাজ, কমর, আল রিহ্যাব, আম্বার হেনা, আম্বারী উদ, জান্নাতুল ফেরদৌস, নোহা ইত্যাদি। দেশীয় আতরের মধ্যে বেশী বিক্রি হচ্ছে সিলভার, স্ট্রবেরি, বকুর, উদ, সাদ সফা, আল বকুর, বেলী, রজনীগন্ধা, হাসনা হেনা, রেড রউজ, তিব্বত ও স্কয়ার কোম্পানীর আতর। বিক্রেতারা জানালেন, বড়লেখার আতরের চাহিদাও রয়েছে ক্রেতাদের মাঝে। তবে, এর দাম বেশী হওয়ায় হাতে গোনা কয়েকজন গ্রাহক রয়েছেন।

ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদের পোষাকের সাথে মিল রেখে অনেকেই টুপি কিনছেন। সাথে চলছে আতর কেনার কাজ। নগরীর ফুটপাতেও বসেছে আতর টুপির দোকানের পসরা। আম্বরখানা এলাকার ফুটপাতের দোকানী সোহেল জানান, তার কাছে দেশী বিদেশী প্রায় বারো রকমের আতর আছে। ছোট বোতল প্রতি ২০ টাকা থেকে শুরু করে ২শ’ টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন কোম্পানির আতর বিক্রি করছেন।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, আতর টুপির ব্যাপক চাহিদা থাকলেও চোখে সুরমা লাগাবেন এমন ক্রেতা খুবই কম। সোলেমানী, নূরানী, হাবিবী, নার্গিসী কোম্পানীর সুরমা বিক্রি হচ্ছে। ১০ থেকে ২শ’ টাকার মধ্যেই পাওয়া যাচ্ছে সুরমা।

 

শেয়ার করুন