দাম বাড়ছে যেসব পণ্যের

সিলেটের সকাল ডেস্ক :: অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জাতীয় সংসদে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট পেশ করছেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে এ বাজেট অধিবেশন শুরু হয়। এর আগে মন্ত্রিসভা কক্ষে বিশেষ বৈঠকে ‘সমৃদ্ধ আগামীর পথযাত্রায় বাংলাদেশ: সময় এখন আমাদের, সময় এখন বাংলাদেশের’ শিরোনামে ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব অনুমোদন করে মন্ত্রিসভা। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বাজেটে নতুন করে কর আরোপ করায় বেশকিছু পণ্যের দাম বাড়ছে। এতে গাড়ির রেজিস্ট্রেশনের খরচসহ বিড়ি-সিগারেট, তেলসহ বেশকিছু পণ্য ও সেবার দাম বাড়তে পারে। অন্যদিকে, দেশীয় শিল্পের স্বার্থ রক্ষায় বেশকিছু খাতের ওপর শুল্ক কমানোর প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। এতে রাইস ব্র্যান অয়েল, ফিচার ফোন, দেশে উৎপাদিত রেফ্রিজারেটরসহ বেশকিছু পণ্যের দাম কমবে।

অর্থমন্ত্রীর প্রস্তাবনা অনুযায়ী, যানজট নিরসনে গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক, লরি, থ্রি হুইলার, অ্যাম্বুলেন্স ও স্কুলবাস ছাড়া সব গাড়ির রেজিস্ট্রেশন, রুট পারমিট, ফিটনেস সনদ ও মালিকানা সনদ গ্রহণ ও নবায়নে নিয়মিত চার্জের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে গাড়ির রেজিস্ট্রেশনের খরচ বাড়বে।

এদিকে, চার্টার্ড বিমান ও হেলিকপ্টারে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। ৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হয়েছে আইসক্রিমে। মোবাইল ফোনের সিম ও রিম কার্ডের ওপর শুল্ক ৫ থেকে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

বাজেট ব্ক্তৃতায় টিভি ও অনলাইনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান সরবরাহকারী জ্যোতিষী ও ঘটকালি সেবার ওপর স্থানীয় পর্যায়ে এবং টেলিকম খাতে আমদানি পর্যায়ে ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী।

এছাড়া, সিগারেট, বিড়ি, জর্দা, গুলসহ সকল তামাক পণ্য, মোবাইল কল, এলপি গ্যাস, চিনি, আমদানি করা গুঁড়ো দুধ, গুঁড়া মসলা, টমেটো কেচাপ, চাটনি, ফলের জুস, টয়লেট টিস্যু, টিউবলাইট, চশমার ফ্রেম, সিআর কয়েল, জিআই তার, তারকাঁটা, স্ক্রু, ব্লেড, ট্রান্সফরমার, সানগ্লাস, রিডিং গ্লাস, আমদানি করা পার্টিকাল বোর্ড, আমদানি করা সব ধরনের টায়ার ও স্মার্টফোনের দামও বাড়ছে।

প্লাস্টিক ও অ্যালুমিনিয়ামের তৈজসপত্র, সয়াবিন তেল, পামঅয়েল, সানফ্লাওয়ার অয়েল ও সরিষার তেলের ওপর আমদানি পর্যায়ে ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। সিএনজি, বেবি ট্যাক্সি ও হালকা যানবাহনে ব্যবহৃত রাবার টিউবের ওপর শুল্ক ৩ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশের প্রস্তাব করা হয়েছে।

সোনা ও রুপার অলংকার, ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল, লঞ্চের এসি কেবিন, ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট, ইনডেনটিং, আসবাবপত্র, পরিবহন ঠিকাদার, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সেবার ওপর খরচ বাড়বে। এছাড়া, বৈদ্যুতিক গৃহস্থালী পণ্যে আমদানি পর্যায়ে ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে এবারের বাজেটে।

শেয়ার করুন