গভীর রাতে উৎসবমুখর সিলেট নগরী!

সিলেটের সকাল রিপোর্ট ।।  ঈদের আর মাত্র দু্ইদিন বাকি। পছন্দের পোষাকসহ প্রয়োজনীয় কেনাকাটা সারতে শেষমূহুর্তে মানুষ আসছে স্রোতের মতো। ফলে গভীর রাতেও উৎসব মুখর নগরী।  একই সাথে নগরীতে বেড়েছে যানবাহনেরও চাপ রেড়েছে। যে কারণে বিভিন্ন পয়েন্টে যানজট সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন ট্রাফিক পুলিশরাও। তবে রাত একটার পর নগরে গাড়ির চাপ কমতে থাকে, ফলে যানজটও কমে যায়।

নগরীর জিন্দাবাজার, বন্দরবাজার, নয়াসড়ক, কুমারপাড়ার বিভিন্ন বিপণিবিতানে রোববার রাতে সিলেটের সকালের প্রতিবেদক কথা বলেন ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে।

ক্রেতাদের অনেকেই বলেছেন, ঈদের আর মাত্র দুইদিন বাকি, তাই শেষদিকের কেনাকাটা করতে মার্কেটে এসেছেন তারা। আর বিক্রেতারা বলেছেন, যতক্ষণ ক্রেতা আছেন, ততক্ষণ তাঁরা আছেন। ঈদের আগে পর্যন্ত এভাবেই থাকবেন।

রাত ১২টার দিকে জিন্দাবাজারের সিটি সেন্টার, ব্লুওয়াটার, শুকরিয়া, বন্দরবাজারের মধুবন, হাসান মার্কেট ও হকার্স মার্কেটে বহু মানুষের উপস্থিতি চোখে পড়ে। উচ্চ থেকে নিম্নবিত্ত—সবাই কেনাকাটা করছেন কমবেশি। দোকানিরা জানান, বিশ রোজার পর থেকেই ক্রেতাদের এই ভিড়। চলবে চাঁদরাত পর্যন্ত।

নয়াসড়ক ও কুমারপাড়ায় বেশ কয়েকটি নামিদামি ব্র্যান্ডের দোকান থাকায় সেখানে ক্রেতাদের বাড়তি সমাগত লক্ষ্য করা গেছে। সেখানে মূলত বেশি ভিড় করছেন উচ্চবিত্ত ও উচ্চ মধ্যবিত্ত শ্রেণীর ক্রেতারা।

রাস্তার দুই পাশে আড়ং, মাহা, অঞ্জন’স, দেশিদশ, কে ক্র্যারাফট, এডিশন, কমলা ভান্ডার-এর মতো নামীদামি ব্রান্ডের পাশাপাশি আছে স্থানীয় বুটিক ও জামাকাপড়ের দোকান। ফলে অনেক রাত পর্যন্ত এসব এলাকাও জমজমাট। তাছাড়া গোটা এলাকাকে বর্ণিল আলোকসজ্জায় সাজানো হয়েছে।

আডং-এ কেনাকাটা করতে আসা কলেজ ছাত্রী মেহজাবিন আইরিন জানান, ‘আগে পোশাক কেনা হয়েছিল। আজ এসেছি পোশাকের সাথে মিলিয়ে প্রসাধনী ও গহনা সামগ্রী কিনতে। আড়ংয়ে ভালো মানের্ গহণা পাওয়া যায়। তাই এখানে আসা।’

এদিকে, রাতে ফুটপাতও সরগরম রয়েছে। ফুটপাতজুড়ে রয়েছে হকারদের রকমারি পসরায় সাজানো দোকান। ঈদের বাজার করতে আসা ক্রেতাদের উপস্থিতিতে ফুটপাত আর অভিজাত মার্কেট এখন একাকার। ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা ফুটপাত ছেড়ে এখন অনেক স্থানে রাস্তাও দখল করে নিয়েছে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের ক্রেতাদের ভিড় বেশি ফুটপাতে।

যানজট এড়াতে অনেক ক্রেতা মধ্যরাতে বাজারে যাচ্ছেন। তারপরও যানজট থেকে মুক্তি মিলছে না। নগরীর মার্কেটগুলোতে পর্যাপ্ত পার্কিংয়ের ব্যবস্থা না থাকা যানজটের অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন অনেকে। এদিকে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়ায় নির্বিঘ্নে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন বিক্রেতারা। ক্রেতারাও নিরাপত্তার অভাববোধ করছেন না।

শেয়ার করুন