এমপি আব্দুস শহীদকে হত্যার তথ্য দিয়ে চিঠি: লুলু আটক

তাজুল ইসলাম লুলু

শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি :: অনুমিত হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি, সাবেক চীফ হুইপ ও মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য উপাধ্যক্ষ ড. মো. আব্দুস শহীদ এমপিকে হত্যার উড়ো চিঠির ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে নাম ব্যবহারকারী তাজুল ইসলাম লুলুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।

বুধবার রাত ৯টার দিকে মৌলভীবাজার শহরের বেরীর পাড় এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

মৌলভীবাজার জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ রাশেদুল ইসলাম সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ মো.আব্দুছ ছালেক বলেন, যেহেতু তাজুল ইসলাম লুলু নিজেকে নির্দোষ দাবী করে দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে বিভিন্ন বক্তব্য তুলে ধরেছেন, তাই তাকে চিঠির বিষয়স্তু নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন। একারণে তাকে থানায় নেয়া হয়েছে। আমরা তার হাতের লেখা চিঠির লেখার সাথে মিলে কি না তা যাচাই করছি। তার বিরুদ্ধে কোন মামলা দায়ের হবে কি না তা এখনো সিদ্ধান্ত হয় নি।

এদিকে তাজুল ইসলাম লুলু বুধবার দুপুরে তিনি সাংবাদিকদের বলেছিলেন, জীবন ও জীবিকার তাগিদে ছোট একটি ব্যবসা পরিচালনা করছেন ও তার সাথে কারো পূর্ব শত্রুতা বা বিরোধ নেই। তাকে ফাসানো জন্য তার কোন শক্রপক্ষ তার নাম ও ঠিকানা ব্যবহার করছে। তিনিও এর প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের দাবী জানান। তিনি দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে নিজের নির্দোষ দাবী করলেও এর কয়েক ঘন্টা পরেই রাত ৯টায় দিকে শহরের বেরীর পাড় থেকে তাকে আটক করে পুলিশ।

উল্লেখ্য এমপি আব্দুস শহীদের শ্রীমঙ্গল মিশন রোডস্থ বাসার ঠিকানায় ১৩ জুন ডাকযোগে এক চিঠি আসে। অনুরূপ একটি চিঠি এসেছে কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বরাবরে।

হাতে লেখা চিঠিতে উল্লেখ করা হয়- ‘উপাধ্যক্ষ মো. আব্দুস শহীদ এমপিকে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে হিজমা থেরাপি এন্ড রোকিয়া সেন্টার, কুসুমবাগ, মৌলভীবাজার এসএ পরিবহনের পূর্ব পাশে দোতলা থেকে তা পরিচালনা করা হচ্ছে। ষড়যন্ত্রকারী আইএস মৌলভীবাজার জেলার পরিচালক তাজুল ইসলাম লুলু, গ্রাম দরগাহপুর, পোষ্ট বৃন্দাবনপুর কমলগঞ্জ, মৌলভীবাজার। তার চাচা বিশিষ্ট রাজাকার আব্দুল হক (মাষ্টার ছিলেন) বর্তমানে মৃত। টাকার ব্যবস্থা হচ্ছে জামিমা স্টোর রাজদীঘিরপাড় কমলগঞ্জ, মৌলভীবাজারের স্বত্তাধিকারী ফজলুর রহমানের বিকাশসহ বিভিন্ন হুন্ডির মাধ্যমে যা আসছে লন্ডন ও আমেরিকা থেকে’।

চিঠির খামের উপরে প্রেরক হিসেবে লিখা আছে- ‘সুজন মিয়া, কদমতলী, সিলেট’।

শেয়ার করুন