সেজেছে বিপণী বিতান, জমেনি বেচাকেনা

মাজেদ আহমদ :: রমজানের ঈদের আর মাত্র পনের দিন। তবে এরই মধ্যে জমে উঠতে শুরু করেছে সিলেটের ঈদ বাজার। লাল-নীল আর সবুজের মিশেলে বর্ণিল আলোকসজ্জায় সেজেছে বিপনি বিতান আর শপিং মলগুলো। ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে রাখা হয়েছে র‌্যাফেল ড্র’ উপহার আর ছাড়ের ছড়াছড়িও।

তবে ক্রেতাদের ভীড় বাড়লেও এখনও বেচাকেনা জমে উঠেনি বলে জানিয়েছেন দোকানীরা। তাদের মতে, ‘বিশ রোজার পর থেকেই সিলেটের বিক্রি বাড়ে। এর আগে বেশীরভাগ ক্রেতাই এ মার্কেট ও মার্কেট ঘোরাঘুরি করে বেড়ান। যে কারণে ভীড় থাকলেও বিক্রি কিছুটা কম।’

নগরীর জিন্দাবাজারের আল-হামরা, ব্লু-ওয়াটার, মিলেনিয়াম, শুকরিয়া, লতিফ সেন্টার, বন্দরবাজারের মধুবনসহ বেশিরভাগ মার্কেটগুলো বর্ণিল সাজ নজর কাড়ছে ক্রেতাদের। মার্কেটগুলো আকর্ষণীয় তোড়ণ ও বিজলি বাতিতে বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে। অনেক দোকানের ভিতর বেলুন ও ফানুস দিয়ে সাজানো হয়েছে। ক্রেতাদের নজর কাড়তে সাজসজ্জায় দিক দিয়ে চেষ্ঠার ত্রুটি করছেন না ব্যবসায়ীরা। আর এতে খুশি ক্রেতারাও।

মধুবন সুপার মার্কেটে কেনাকাটা করতে আসা আলেয়া বেগম বলেন, ‘প্রতিবছরই মার্কেটগুলোর সামনে আকর্ষণীয় তোড়ণ দেখা যায়। এতে ঈদের আমেজ ফুটে ওঠে। এবারের সাজসজ্জায় অনেক সুন্দর হয়েছে বলে জানান তিনি।’

ঈদের বেচাকেনায় মার্কেটগুলো প্রস্তুত হলেও পুরোদমে বিক্রি শুরু হয়নি বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তবে অনেকেই ঝামেলা এড়াতে আগেভাগেই সারছেন ঈদের কেনাকাটা। এখন ক্রেতাদের উপস্থিতি কম হলেও ঈদের সপ্তাহ খানেক আগে জমজমাট ব্যবসা শুরু হবে বলে আশাবাদী ব্যবসায়ীরা।

জিন্দাবাজারের শুকরিয়া মার্কেটের কসমেটিকস ব্যবসায়ী বেলাল উদ্দিন জানান, ‘ঈদে পছন্দের কসমেটিক্স কিনতে নারী ক্রেতাদের আনাগোনা অন্য সময়ের চেয়ে একটু বেড়েছে। তবে ঐতিহ্য অনুযায়ী শেষ মুহূর্তে বেচাকেনা হয় সবচেয়ে বেশি। তাই শেষ মূহুর্তের চাপ সামলাতে পর্যাপ্ত মজুত আছে।’

জিন্দাবাজারের একটি ব্র্রান্ড হাউসের ব্যবসায়ী জাবেদ আহমদ জানান, ‘এখনো বিক্রি জমেনি। তবে আরো এক সপ্তাহ পর বেচাকেনায় প্রাণ আসবে বলে আশা করছেন তিনি।’

এদিকে ঈদকে সামনে রেখে অনেকটাই চিন্তিত ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা। জিন্দাবাজার, বন্দরবাজার ও আদালত পাড়ার সামনের ফুটপাত ব্যবসায়ীরা ঈদের ব্যবসা করতে পারবেন কিনা তা নিয়ে দোটানায় পড়ছেন। সম্প্রতি সিসিক ও পুলিশের উচ্ছেদ অভিযান ভাবিয়ে তুলেছে তাদের।

জিন্দাবাজার থেকে চৌহাট্টা রাস্তার পাশের অস্থায়ী দোকানগুলো নিয়মিতই বসছে। তবে রাস্তার ড্রেইনের কাজ চলায় তারাও পড়েছেন বেশ অসুবিধায়। বিগত বছরগুলোতে ফুটপাতে ভালো ব্যবসা হওয়ায় এবারও সকল জটিলতার মাঝেও ভালো ব্যবসার আশা করছেন তারাও।

শেয়ার করুন