সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে শাবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্ত্রীর যত অভিযোগ-

সিলেটের সকাল রিপোর্ট॥ শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান রাজুর বিরুদ্ধে স্ত্রীর সঙ্গে প্রতারণা ও নির্যাতনের অভিযোগ ওঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় প্রধানের দ্বারে ঘুরেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ওই মহিলা।
বুধবার সিলেট প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে নির্যাতিতা স্ত্রী এই অভিযোগ করেন।
লিখিত বক্তব্যে ওই মহিলা নিজেকে সিরাগঞ্জের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদল্যায়ের শিক্ষিকা হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি বলেন, ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে পারিবারিকভাবে তাদের মধ্যে পরিচয় এবং ২০১৭ সালের ৪ মার্চ তাদের আক্দ হয়। কথা ছিল পরবর্তীতে বিয়ের আনুষ্ঠানাকিতা হবে। আকদের রাত থেকেই কাবিননামা নিয়ে ঝামেলা শুরু হয়। একপর্যায়ে ৬ লক্ষ টাকা দেনমোহন নির্ধারণ করে বিবাহ সম্পন্ন হয়। বিয়ের পরই স্বামীর শারীরিক অক্ষমতা ধরা পড়ে তার কাছে। তবুও তিনি সংসার চালিয়ে যেতে চান। এভাবে কিছুদিন মোস্তাফিজুর রহমান তার নোয়াখালির গ্রামের বাড়িতে থাকার পর সিলেটে চলে আসেন। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে তার স্বামী সিলেট নগরীর বাগবাড়িতে একটি বাসা ভাড়া করে রাখেন।
ওই নারী জানান, মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে পারিবারিকভাবে পরিচয় হলেও তাদের দুজনের মধ্যে অসম্ভব ভালো রকমের সম্পর্ক গড়ে ওঠেছিল। কিন্তু হঠাৎ জানতে পারেন তার স্বামী আরেকটি বিয়ে করেন এর আগে। সে বিয়ে ৫ মাসের বেশি টেকেনি। এ বিষয়টি জানান পর স্বামী কাছে জানতে চাইলে তিনি ওই মেয়েকে নানা অপবাদ দেন। সবকিছু মেনে নিয়ে সংসার চালিয়ে গেলেও শাবির এই শিক্ষক একদিনের জন্যও তার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নেননি তাকে। কিংবা কারো সঙ্গে পরিচিত হতে দেননি।
তিনি বলেন, ২০১৮ সালের আগস্টে আমাকে স্থায়ীভাবে সিলেটে নিয়ে আসার কথা ছিল। কিন্তু সেসময় থেকে তার আচার-আচরণে পরিবর্তন দেখতে পাই। সে আমাকে অবহেলা, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করতে থাকে এবং কোনো টাকা-পয়সাও দিতে চায়নি। এমনিতেই খুব একটা আর্থিক সহায়তা সে আগেও করেনি। আমাকে ছাড়াই মোস্তাফিজ সিলেটে চলে আসে। পরবর্তীতে আমাকে সিলেটে আনলে বাসায় গিয়ে দেখি অন্য মেয়ের জামা-কাপড়। এগুলো কার এবং কে এই মেয়ে জানতে চাইলে তার বোন আমার সাথে দুর্ব্যবহার করে এবং বাসা থেকে বের হয়ে যেতে বলে। হঠাৎ করে আমাকে ডিভোর্সের কথা বলে। ডিভোর্স না দিয়ে সংসার টিকিয়ে রাখতে অনুরোধ করায় আমার স্বামী তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আমার ওপর নির্যাতন চালায়। তিনি বলেন, এরপরও তার সাথে দেখা করতে আমার বাবাকে নিয়ে শাবিতে গেলে বিভাগীয় প্রধান তাকে পালাতে সাহায্য করেন। স্বামীর অনুরোধে তাকে ভালো একটি চাকরিও ছাড়তে হয়েছে বলে অভিযোগ ওই মহিলার। এ ব্যাপারে তাৎক্ষনিকভাবে ওই শিক্ষকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শেয়ার করুন