সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ সড়কে সকল ধরণের নৈরাজ্য বন্ধের দাবি তিন ব্যবসায়ী সংগঠনের

কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি :: সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ সড়কে ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের নামে চাঁদাবাজি, ৪০০ ফুটের অধিক লোড নিয়ে পরিবহন চলাচল ও অন্য জেলার ট্রাক প্রবেশে বাঁধা প্রদানসহ সড়কে নৈরাজ্য বন্ধের দাবি জানিয়েছেন কোম্পানীগঞ্জের তিন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

সোমবার কোম্পানীগঞ্জ প্রেসক্লাবে এ তিন সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পাথর ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড এর ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোঃ শওকত আলী বাবুল।

এসময় উপস্থিত ছিলেন কোম্পানীগঞ্জ স্টোন ক্রাশার মিল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আপ্তাব আলী কালা, উপজেলা পাথর ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড এর সভাপতি মোঃ আব্দুল জলিল ও চুনাপাথর আমদানীকারক গ্রুপের সদস্য সিরাজুল ইসলামসহ তিন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ী নেতারা আগামী তিনদিনের মধ্যে সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ-ভোলাগঞ্জ সড়কে শ্রমিক ইউনিয়ন কর্তৃক সকল ধরনের নৈরাজ্য বন্ধের দাবি জানান। অন্যথায় ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ-ভোলাগঞ্জ সড়কটি নানা কারণে গুরুত্বপূর্ণ। এ সড়ক দিয়ে ভোলাগঞ্জ, শাহ আরফিন ও উৎমা কোয়ারির পাথর পরিবহন করা হয়। এসব কোয়ারি থেকে সরকার প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় করে। ভোলাগঞ্জ শুল্ক স্টেশন দিয়ে চুনাপাথর ও কয়লা আমদানী করে এই সড়ক দিয়েই পরিবহন করা হয়। আর্থসামাজিক গুরুত্ব বিবেচনায় বর্তমান সরকার এই সড়কটিকে জাতীয় মহাসড়কে উন্নীত করেছে। ইতোমধ্যে সড়কের নির্মাণ কাজ প্রায় দুই তৃতীয়াংশ হয়ে গেছে। টেকসই ও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে ৬ চাকার বড় ট্রাকগুলোও এখন কোম্পানীগঞ্জে প্রবেশ করছে। ফলে দ্রুত ও কম খরচে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাথর পরিবহন করা যাচ্ছে। এতে কোম্পানীগঞ্জের ব্যবসায়ীরা যেমন লাভবান হচ্ছেন, তেমনি দেশের অর্থনীতির গতি বৃদ্ধিতেও সড়কটি ভূমিকা রাখছে।

‘কিন্তু, ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের নামে একটি সুবিধাবাদী চক্র নিজেদের স্বার্থ ও অসৎ উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য এই সড়কে ৪০০ ফুটের অধিক লোড নিয়ে পরিবহন চলাচলসহ অন্য জেলার ট্রাক প্রবেশে বাঁধা দিচ্ছে। যা সম্পূর্ণ অনৈতিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। চক্রটি কথায় কথায় গাড়ির চাকা অচল করে দেওয়ার হুমকি দেয় এবং সড়কের গাড়ি আটকে প্রতিদিন চাঁদাবাজি করছে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর অভিযোগ দিয়েও কাজ হয়নি বলে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়।’

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ‘কোম্পানীগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিজেন ব্যানার্জীর আহবানে গত ২৯ এপ্রিল উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে উপজেলার ব্যবসায়ী ও শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ সড়কে গাড়ি চলাচলে কোনপ্রকার প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা যাবে না মর্মে সিদ্ধান্ত হয়। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এমন সিদ্ধান্তের পরও চক্রটি সড়কের বিভিন্ন স্থানে ট্রাক আটকে চাঁদাবাজি করছে। এমনকি চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ট্রাক মালিক ও সাধারণ শ্রমিকদের নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।’

ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, ‘শ্রমিক সংগঠনের এসব চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পাথর ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্টোন ক্রাশার মিল মালিক সমিতি ও চুনাপাথর আমদানীকারক গ্রুপ বারবার প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে। প্রতিবাদের অংশ হিসেবে গত শুক্রবার থেকে কোম্পানীগঞ্জে সকল প্রকার পাথর লোড- আনলোড বন্ধ রাখা হয়েছে।’

এতে আরও বলা হয়, ‘সুবিধাবাদী চক্রটি এখন নিজেদের অপকর্ম আড়াল করার জন্য ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর উপর চাঁদাবাজির অভিযোগ এনেছে। তারা জেলা ট্রাক, পিকআপ ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আবু সরকারের নির্দেশে সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ সড়কে ধর্মঘট ডেকেছে। ধর্মঘটের নামে তারা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস ও খাদ্যদ্রব্য বহনকারী পরিবহনগুলোও কোম্পানীগঞ্জে প্রবেশ করতে দিচ্ছেনা।’ সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, আবু সরকারের নির্দেশেই সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ সড়কে চাঁদাবাজি হচ্ছে। তার স্বার্থেই এখানে শ্রমিকদের ব্যবহার করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন