সিলেটে মৌসুমী ফলের সমাহার ॥ দামও চড়া

সিলেটের সকাল রিপোর্ট :: সিলেটের বাজারে উঠতে শুরু করেছে হরেক রকমের মৌসুমী ফল। আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, জামরুল ও আনারসে ভরে গেছে পুরো শহর। একই সাথে রয়েছে তরমুজ, বাঙ্গিসহ বিদেশী নানা ধরণের ফলও।

আর পাল্লা দিয়ে মৌসুমী ফল বাজারে আসতে শুরু করলেও চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে এগুলো। বিশেষ করে সাধারণ বাজারের সাথে সুপারশপগুলোতে বিক্রি করা ফলে দামে বেশ ফারাক রয়েছে। তবে রমজান মাস হওয়াতে বেশি দাম দিয়ে হলেও মধুমাসের ফলের স্বাদ নিচ্ছেন ভোক্তারা।

বিক্রেতারা জানালেন, রাজশাহীতে সবেমাত্র আম ভাঙা শুরু হওয়াতে আমের দাম একটু বেশি। আর রাজশাহী অঞ্চলের লিচু এখনও আসছেনা, যে কারণে লিচুর পরিপূর্ণ স্বাদ পেতে আরও কিছুদিন অপেক্ষায় থাকতে হবে সিলেটবাসীকে। তাদের মতে, বাজারে আম ও লিচু যত বেশি আসবে দামও তত কমবে।

বিভিন্ন ফলের দোকান ঘুরে দেখা গেছে, রাজশাহীর গুটি আম বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১২০ টাকায়; যেখানে সুপারশপগুলোতে একই আম বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা থেকে ১৮০ টাকায়। একই ভাবে বাহিরে লিচু শ’ প্রতি বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হলেও সুপারশপে তা বিক্রি হচ্ছে ৩৬০ টাকা থেকে ৪০০ টাকায়। এছাড়া বাজারে কাঁঠাল আকারভেদে ১৫০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আনারস প্রতি হালি ৮০ টাকা থেকে ১৫০ টাকায় এবং তরমুজ আকারভেদে ১৮০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া ফিজি আপেল প্রতিকেজি ১৫০ থেকে ২৪০, গালা আপেল ১৮০ থেকে ২৭০, সবুজ আপেল ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, আঙ্গুল লাল ৩০০ থেকে ৩৮০, ডালিম প্রতিকেজি ২২০ থেকে ২৮০, পেয়ারা প্রতিকেজি ৮০ থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে সিলেটের বাজারে। তাছাড়া বাজারে বিদেশি ফলেরও বেশ চাহিদা রয়েছে বলে জানিয়েছেন দোকানিরা। তবে ফলের দাম চড়া হলেও বিক্রিও ভালো বলে জানানা তারা।

বন্দরবাজারে ফল কিনতে আসা এহসানুল হক মুন্না জানালেন, ‘সবেমাত্র মৌসুমী ফল বাজারে উঠেছে। তাই দাম বেশী হলেও তা কিনতে হচ্ছে। তিনি ৪ কেজি আজ কিনেছেন বলেও জানালেন।’ এদিকে বাজারে ফলের সমাহারের মাঝেও ক্রেতাদের মধ্যে ফরমালিন আতঙ্ক বিরাজ করছে। এজন্য মধুমাসের ফলের মান নিয়ে শঙ্কায়ও রয়েছেন তারা।

বন্দরবাজারে কয়েকজন ক্রেতা জানালেন, ফল কেনার আগে সেটাতে রাসায়নিক পদার্থ কিংবা ফরমালিন আছে কিনা তা যাচাই করার চেষ্টা করেন তারা। এছাড়া টাটকা কিনা তাও যাচাই করা হয়। এক্ষেত্রে একটু বেশি দাম হলেও ভাল মানের ফল কিনতে চান তারা।

ফল বিক্রেতা ফয়সল আহমদ বললেন, ‘রমজান মাস হওয়াতে দেশি ফলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কিন্তু গত বছরের তুলনায় এবার মৌসুমী ফল বাজারে আসতে দেরি হচ্ছে। যে কারণে এবার ফলের দাম কিছুটা বেশি। তারপরও ক্রেতাদের চাহিদা থাকায় বিক্রিও বেশি হচ্ছে।’

তিনি আরও জানান, ঈদের পরে রাজশাহীর আম বেশি আসবে, তখন দামও কমে যাবে। একই ভাবে মৌসুমী অন্যান্য ফলের দামও কমবে বলে জানান তিনি।

শেয়ার করুন