সাড়ে ১২ লাখ কোটি টাকার বিকল্প বাজেট অর্থনীতি সমিতির

সিলেটের সকাল রিপোর্ট :: আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য ১২ লাখ ৪০ হাজার ৯০ কোটি টাকার বিকল্প বাজেট প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি। সরকার নতুন অর্থবছরে ৫ লাখ কোটি টাকার বেশি বাজেট দিতে যাচ্ছে। সরকারের খসড়া বাজেটের চেয়ে অর্থনীতি সমিতির প্রস্তাবিত বাজেটের আকার দ্বিগুণেরও বেশি।

শনিবার সকাল ১১টায় সিলেট জেলায় সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এ বাজেট উত্থাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতি ও ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ এর ডিন প্রফেসর ড. জসিম উদ্দিন আহাম্মদ। ২০১৫-১৬ অর্থবছর থেকে এ ধরণের বিকল্প বাজেটের প্রস্তাবনা দিয়ে আসছে অর্থনীতিবিদদের পেশাদার এই সংগঠন।

সমিতির প্রস্তাবিত মোট বাজেট ১২ লাখ ৪০ হাজার ৯০ কোটি টাকা, যা সরকারের সম্ভাব্য ৫ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকার প্রায় দ্বিগুণ। প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ১০ লাখ ২ হাজার ৫১০ কোটি টাকা, যার মধ্যে ৬৯ শতাংশ হবে প্রত্যক্ষ কর (আয়কর) ও ৩১ শতাংশ হবে পরোক্ষ কর (ভ্যাট), অর্থাৎ মোট বাজেট বরাদ্দের প্রায় ৮১ শতাংশের যোগান দেবে সরকারের রাজস্ব আয়। বাজেটটি সম্পূর্ণ বৈদেশিক ঋণমুক্ত।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, রাজস্ব আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে মোট ২০টি নতুন উৎস নির্দেশ করা হয়েছে যা অতীতে ছিল না। রাজস্ব আয় বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক নির্দেশনা পূর্বক এবারই প্রথম বৈদেশিক ঋণ নির্ভরতামুক্ত বাজেট প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেছে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি।’

‘শিক্ষা ও প্রযুক্তি, জন প্রশাসন, পরিবহন ও যোগাযোগ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, স্বাস্থ্য, সামাজিকনিরাপত্তা ও কল্যাণ, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন, সুদ, কৃষি, জনশৃংখলা ও নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা, গৃহায়ণ, শিল্প ও অর্থনৈতিক সার্ভিস, বিনোদন, সংস্কৃতি ও ধর্ম প্রস্তাবিত বাজেটে উল্লেখিত খাতসমূহকে অগ্রাধিকার দেয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।’

বিকল্প বাজেটে প্রফেসর ড. জসিম উদ্দিন আহাম্মদ বলেন, সরকারি আয় বৃদ্ধির নতুন এ সব উৎসের মধ্যে রয়েছে অর্থপাচার রোধ থেকে আহরণ, কালো টাকা উদ্ধার থেকে আহরণ, বিদেশী নাগরিকদের উপর কর, বিদেশী পরামর্শক ফিস, বন্ডমার্কেট, সরকারি-বেসরকারি যৌথ অংশীদারিত্ব, সেবা থেকে প্রাপ্তি কর, সম্পদ কর, তার ও টেলিফোন বোর্ড, টেলিকম রেগুলেটরী কমিশন, এনার্জি রেগুলেটরী কমিশন, ইন্সুরেন্স রেগুলেটরী কমিশন, সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, বিআইডাবিøউটিএ, বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক অনুমতি নবায়ন ফিস, ঔষধ প্রস্তুতকারী কোম্পানির লাইসেন্স ও নবায়ন ফিস, সরকারি স্টেশনারী বিক্রয় ইত্যাদি।

সিকৃবি ডিন কাউন্সিল আহবায়ক প্রফেসর ড. মো. আবুল কাশেমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. মতিয়ার রহমান হাওলাদার।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ বিনির্মানে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির বাজেট প্রস্তাবনা ২০১৯-২০ সিলেটে প্রথম বারের মতো ‘বিকল্প বাজেট’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শেয়ার করুন