মে দিবসে একজন সংবাদকর্মীর আত্মকথন

তখন আমার ম‌নোগ্রাফ চল‌ছিল। রাত নয়টায় বস‌কে ফোন দি‌য়ে বললাম, ভাইয়া আজ আমা‌কে এক ঘণ্টা আ‌গে বের হ‌তে হ‌বে। তি‌নি বল‌লেন, তাহ‌লে কাল দু ঘণ্টা আ‌গে আস‌তে হ‌বে।

আ‌মি একট‌ু বে‌শি বু‌ঝি, ভাবলাম এক ঘণ্টা চে‌য়ে‌ছি, আ‌গে আস‌তে হ‌লে এক ঘণ্টা আ‌গে আস‌বো। দু ঘণ্টা আ‌গে কেন? ওনা‌কে কোমলভা‌বে বললাম, স্য‌রি ভাইয়া লাগ‌বে না।

এরপরের দিন এ‌সেই উ‌নি আমা‌কে দু‌দিন টানা ১২ ঘণ্টা ক‌রে কাজ কর‌তে বল‌লেন। আমা‌কে তাই কর‌তো হ‌লো।

আ‌রেকটা ঘটনা ব‌লি, শী‌তের রাত। সোয়া ১১টা বা‌জে। পি‌সি অফ ক‌রে অ‌ফিস থে‌কে বের হলাম। হো‌টেল লে মে‌রে‌ডিয়া‌নের সাম‌নে থে‌কে খিল‌ক্ষেত ওভারব্রিজ পর্যন্ত চ‌লে এ‌সে‌ছি। এরম‌ধ্যে ব‌সের ফোন-

-কই তু‌মি?
-ভাইয়া বের হ‌য়ে‌ছি।
-যাও অ‌ফি‌সে যাও, আ‌রেকটা নিউজ আ‌ছে ওটা তু‌লে দা‌ও।
-এখন?
-হ্যাঁ, এখন।

মু‌খের উপর না কর‌তে পারলাম না। ঠিক সে সময় বাসা থে‌কে খালার ফোন- বের হই‌ছিস রে? রাগটা তখন খালার উপ‌রেই ঝারলাম। বললাম নাহ, প‌রে। ফোন কে‌টে দিলাম।

এরপর অ‌ফি‌সে গেলাম। পি‌সি চালু করলাম। নিউজ তু‌লে শেয়ার দিলাম। জেদ ক‌রে আরও চুপচাপ ১০ মি‌নিট ব‌সে থাকলাম। ভাবলাম নিয়ন ভাই যে বল‌তো পৃ‌থিবীটা সুন্দর। কই সুন্দর!

‌রাত বে‌ড়ে‌ছে। সা‌ড়ে ১২টা বা‌জে। নিয়ম মে‌নে ওনাকে ব‌লে বের হলাম। গাড়ি পে‌তে সমস্যা হ‌লো। তখন ঢাকার রাস্তা ফাঁকা। অনেকক্ষণ পর দে‌খি বলাকা আস‌ছে। উ‌ঠে গেলাম। কুয়াশার জন্য বাই‌রের আকাশ দেখ‌া যা‌চ্ছে না। একটা দীর্ঘশ্বাস এলো, মাথা‌ কাজ কর‌ছে না।

আমার ম‌তো এরকম অসংখ্য শ্র‌মি‌কের গল্প আ‌ছে।সুতরাং কাউ‌কে কো‌নোম‌তেই অ‌ধিক প‌রিশ্রম বা শ্রমঘণ্টার অ‌ধিক শ্রম কা‌রো উপর চা‌পি‌য়ে দেয়া ঠিক না। এটা চরম অমান‌বিক।

স্বয়ং আল্লাহও কাউ‌কে তার সাধ্যাতীত কা‌জের দা‌য়িত্ব চে‌পে দেন না।

য‌দি এটা মানা হ‌তো তাহ‌লে ১৮৮৬ সা‌লের এই‌দি‌নে আ‌মে‌রিকার শিকা‌গো শহ‌রে শ্র‌মিক ও শ্রম ই‌তিহা‌সের মমার্ন্তিক ঘটনা ঘট‌তো না।

-লেখক: পাপলু রহমান, সংবাদকর্মী।

 

শেয়ার করুন