মহান কবি ওমর খৈয়ামের ৯৭১তম জন্মবার্ষিকী

সিলেটের সকাল রিপোর্ট :: ‘রুটি মদ ফুরিয়ে যাবে, প্রিয়ার কালো চোখ ঘোলাটে হয়ে যাবে, বই সেতো অনন্ত যৌবনা।’-বই নিয়ে এমন উক্তি পারস্যের কবি ওমর খৈয়ামের। তিনি ছিলেন বিরহের কবি, গণিতবিদ, দার্শনিক ও জ্যোতির্বিদ। তার যার সম্পূর্ণ নাম গিয়াসউদিন আবুল‌ ফাতেহ ওমর ইবনে ইব্রাহিম আল-খৈয়াম নিশাপুরি।

মহান এ কবির ৯৭১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গুগল বিশেষ ডুডল দিয়েছে। বাংলাদেশ থেকে ইন্টারনেটের মাধ্যমে গুগলে (www.google.com) গেলে কিংবা সরাসরি (www.google.com.bd) ঠিকানায় ঢুকলেই চোখে পড়বে বিশেষ ডুডলটি। বিশেষ এ ডুডলে একটি গাছের নিচে বসে কবিতে বই পড়তে দেখা যাচ্ছে।

শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টার পরেই সার্চ ইঞ্জিনটি এটি চালু করেছে, যা দিনব্যাপী থাকবে। ওই ডুডলে ক্লিক করলে ওমর খৈয়ামকে নিয়ে গুগলে নানা অনুসন্ধান ফলাফল দেখাচ্ছে।

মহান এ কবির জন্মদিন আজ ১৮ মে। ১০৪৮ সালে তিনি ইরানের নিশাপুর শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা ছিলেন তাঁবুর কারিগর ও মৃৎশিল্পী। ছোটবেলায় তিনি বালি শহরে সে সময়কার বিখ্যাত পণ্ডিত শেখ মুহাম্মদ মানসুরীর তত্ত্বাবধানে শিক্ষাগ্রহণ করেন। ইরানের নিশাপুরে জন্মগ্রহণ করার পর যুবা বয়সে তিনি সমরখন্দে চলে যান এবং সেখানে শিক্ষা সমাপ্ত করেন। এর পর বুখারায় নিজেকে মধ্যযুগের একজন প্রধান গণিতবিদ ও জ্যোতির্বিদ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করেন।

তার বীজগণিতের গুরুত্বপূর্ণ “Treatise on Demonstration of Problems of Algebra“ গ্রন্থে তিনি ত্রিঘাত সমীকরণের সমাধানের একটি পদ্ধতি বর্ণনা করেন। এই পদ্ধতিতে একটি পরাবৃত্তকে বৃত্তের ছেদক বানিয়ে ত্রিঘাত সমীকরণের সমাধান করা হয়। ইসলামি বর্ষপঞ্জি সংস্কারেও তাঁর অবদান রয়েছে।

তিনি তাঁর কবিতা সমগ্র, যা ওমর খৈয়ামের রূবাইয়াত নামে পরিচিত, তার জন্য বিখ্যাত। তাঁর কাব্য-প্রতিভার আড়ালে তার গাণিতিক ও দার্শনিক ভূমিকা অনেকখানি ঢাকা পড়েছে। ধারণা করা হয় রনে দেকার্তের আগে তিনি বিশ্লেষণী জ্যামিতি আবিষ্কার করেন। তিনি স্বাধীনভাবে গণিতের দ্বিপদী উপপাদ্য আবিষ্কার করেন। বীজগণিতে ত্রিঘাত সমীকরণের সমাধান তিনিই প্রথম করেন। বহুমুখী প্রতিভার দৃষ্টান্ত দিতে বলা হলে বিশ্বসাহিত্য কিংবা ইতিহাসে যাদের নাম উপেক্ষা করা কঠিন ওমর খৈয়াম তাদের মধ্যে অন্যতম ও শীর্ষস্থানীয়।

১১৩১ সালের ৪ ডিসেম্বর মহান এ কবির মৃত্যু হয়। নিশাপুরে ওমরের সমাধি দেখতে অনেকটা তাঁবুর মতো। তার কয়েকটি বিখ্যাত কবিতা সেখানে উৎকীর্ণ করা আছে।

তথ্যসূত্র- উইকোপিডিয়া

শেয়ার করুন