‘মসজিদের নামে চিকিৎসকের ক্রয়কৃত জমি দখলের অপচেষ্টা’

সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন

সিলেটের সকাল ডেস্ক :: সিলেট শহরতলীর শাহপরাণ বাইপাসের পূর্ব পাশে বহর এলাকায় এক চিকিৎসকের ক্রয়কৃত জমি দখলের অপচেষ্টা করছে ভূমিখেকো একটি চক্র। এক্ষেত্রে জনসমর্থন আদায়ের কৌশল হিসেবে তারা সেখানে ‘মা খাদিজা’ নামে একটি মসজিদের সাইনবোর্ডও টানিয়ে দিয়েছে। তাছাড়া ভূমির মালিকের কাছে ২০লাখ টাকা চাঁদাও দাবি করছে চক্রটি।

রোববার সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ করেন ভূমির মালিক সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার মোল্লাপুর গ্রামের ডা. মো. ফারুক উদ্দিন। তিনি নর্থইস্ট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগের বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্বে রয়েছেন।

লিখিত বক্তব্যে এ চিকিৎসক দাবি করেন, ‘বহর এলাকায় তার ক্রয়কৃত ৬০শতক ভূমি চাঁদাবাজ, দখলবাজ প্রবাসী শাকুর সিদ্দিকী ও তার সহযোগীরা দখল করার চেষ্টা করতেছে। একই সাথে এ চক্র তাকে প্রাণনাশসহ চরম ক্ষতির হুমকিও দিচ্ছে। এজন্য তাদের কবল থেকে ভূমি রক্ষাসহ জানমালের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আমি সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি উল্লেখ করেন, ‘২০১৪ সালে বহর মৌজায় ১১৪৩১/১৪ নম্বর রেজিস্টার দলিলমূলে (দাগ নং ৪৫৬৫/৮) ৬০ শতক জায়গা ক্রয় করে ভোগ দখল করে আসছেন তিনি। ভূমি ক্রয় করার পর মাটি ভরাট করে সীমান পিলার স্থাপনসহ ২০১৮ সালে সেখানে একটি পাকা ঘর ও একটি আধাপাকা ঘর নির্মাণ করেন। এ ভূমির বিপরীতে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সরকারি খাজনাদিও পরিশোধ রয়েছে। বর্তমানে বিএস জরিপে ৪৭১৫ নং খতিয়ানে ভূমি আমার নিজ নামে রেকর্ড হলে সেখানে তার নামের সাইনবোর্ডও টানিয়ে দেন।’

তিনি বলেন, ‘এত বছর ধরে সেখানে কোন স্বত্ব দাবিদারও না আসলেও চলতি বছরের শুরুর দিকে শাহপরাণ এলাকার প্রত্যাশা টাওয়ারের বাসিন্দা মৃত ফজলু মিয়ার ছেলে মুজিবুর রহমান ডালিম ও মেজরটিলার প্যারাগন টাওয়ারের বাসিন্দা জসিম উদ্দিন সিলেটের কানাইঘাটের শাকুর সিদ্দিকী চৌধুরীর নাম করে এ ভূমি দখল করতে যায়। এসময় তারা আমাকে হুমকি-ধমকিও দেয়। পাশাপাশি আমার কেয়ারটেকারকে বলে দেয়, যেন ভূমি রক্ষা করতে হলে তাদের ২০ লাখ টাকা চাঁদা দেই।’

তিনি বলেন, ‘দাবিকৃত চাঁদা না পাওয়ায় শাকুর সিদ্দিকীর নির্দেশনায় মুজিবুর রহমান ডালিম একদল সন্ত্রাসী নিয়ে গত ১৯ মার্চ আমার ভূমিতে নির্মিত আধাপাকা ঘর ভাঙতে যায়। এসময় সেখানে তার কাছে কারণ জানতে চাইলে সে বলে, এ ভূমি দখল করে দিলে শাকুর সিদ্দিকি তাকে ২০ লাখ টাকা দেবে এবং এই ভূমিতেই তার নির্দেশে তারা ‘মা খাদিজা’ নামে একটি মসজিদ নির্মাণ করবে। এসময় তারা আমায় হুমকিও দেয়। এর প্রেক্ষিতে আমি শাহপরাণ থানায় সাধারণ ডায়রী করি (জিডি ৭৯৯ তারিখ-২০ মার্চ২০১৯)। এ জিডির খবর পেলে ডালিম বিষয়টি আপোষ করার প্রস্তাব দিলে আমি তা সরল মনে মেনে নেই এবং সেখানে নতুন ঘর নির্মাণের জন্য বেশ কিছু রড়, সিমেন্টসহ নির্মাণসামগ্রী গোদামজাত করি।’

‘কিন্ত গত ২২ এপ্রিল দুপুরে তারা ওই ভূমিতে বাউন্ডারী ও ঘরের মালামাল ভাংচুর করে এবং আমার নামের সাইনবোর্ড ভেঙ্গে ফেলে দিয়ে নতুন করে ‘মসজিদের নামে’ সাইনবোর্ড টানিয়ে দেয়। ঘরের তালা ভেঙ্গে মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যায়। প্রায় ৪ লক্ষ টাকার ক্ষতি সাধন করে। এসময় আমি বাধা দিলে প্রাণে মারার হুমকি ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ তান্ডব সৃষ্টি করে। ফের ২০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে, না দিলে প্রাণে মারার হুমকি দিচ্ছে। পরে তিনি শাহপরান থানায় মামলা দায়ের করেন।’

তিনি বলেন, ‘এ ভূমি ক্রয়ের পর থেকে তিনি ভোগ দখলে থাকলেও শাকুর সিদ্দিকির নির্দেশে মুজিবুর রহমান ডালিম ও জসিম উদ্দিন গংরা বার বার এ ভূমি দখলের অপচেষ্টায় লিপ্ত। তারা ভূমি পাহারাদারকেও প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে পাশাপাশি আমার চরম ক্ষতি করবে বলে এলাকায় বলে বেড়াচ্ছে। মাটি ভরাট করার পর উক্ত ভূমির মূল্য বেড়ে যাওয়ায় জনসমর্থন আদায়ের কৌশল হিসেবে তারা মসজিদের নাম করে তা দখলের চেষ্টা করছে। তাদের অত্যাচার এবং হুমকিতে আমরা স্বাভাবিক জীবন যাপনও করতে পারছি না।’ এমতাবস্থায় এ ভূমিখেঁকো চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসীদের কবল থেকে আমার ক্রয়কৃত ভূমি রক্ষা এবং জানমালের নিরাপত্তায় সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

শেয়ার করুন