ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবি : হবিগঞ্জের দুই যুবক নিখোঁজ

আব্দুল কাইয়ুম ও আব্দুল মোক্তাদির। ছবি: সংগৃহীত

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি :: লিবিয়া থেকে নৌ-পথে ইতালি যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবির ঘটনায় হবিগঞ্জের দুই যুবক নিখোঁজ রয়েছেন। একসঙ্গে রওনা হয়ে চার বন্ধুর একজন ইতালি পৌঁছালেও বাকি তিনজনের একজন উদ্ধার ও দুইজন নিখোঁজ রয়েছেন।

নিখোঁজরা হলেন- সদর উপজেলার লোকড়া গ্রামের হাজী আলাউদ্দিনের ছেলে আব্দুল কাইয়ুম (২২) ও আব্দুল জলিলের ছেলে আব্দুল মোক্তাদির (২২)। তারা হবিগঞ্জ সরকারি বৃন্দাবন কলেজের অনার্সের শিক্ষার্থী ছিলেন।

তবে তাদের সঙ্গী একই গ্রামের মর্তুজ আলীর ছেলে নূরুল আলম (২৪) ইতালী পৌঁছে গেছেন। অপর সঙ্গী সদর উপজেলার আষেঢ়া ভাটপাড়া গ্রামের আব্দুল হাইয়ের ছেলে মামুন মিয়া (২৩) সাগরে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার হলেও বর্তমানে তিউনিসিয়ার উদ্বাস্তু শিবিরে রয়েছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে লুকড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফরহাদ হোসেন আব্বাস জানান, তাদের নিখোঁজের বিষয়টি তিনি জেনেছেন। সার্বক্ষণিক তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। এখনও পর্যন্ত নিখোঁজ দুইজনের হদিস পাওয়া যায়নি। তবে তারা জীবিত না মারা গেছেন সেটাও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

নিখোঁজদের পরিবার জানায়, কাইয়ূম, মুকতাদির, নূরুল আলম ও মামুন মিয়া ইতালী যাওয়ার জন্য ৬/৭ মাস আগে বাড়ি থেকে বের হন। দালালের মাধ্যমে তারা প্রথমে লিবিয়া যান। তাদের সঙ্গে সিলেট, মৌলভীবাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আরও লোকজনকে একত্রিত করে দালাল।

গত ৮ মে রাতে লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার উদ্দেশ্যে দু’টি নৌকায় তোলা হয় তাদের। আব্দুল কাইয়ুম, আব্দুল মোক্তাদির ও মামুন মিয়া এক নৌকায় ছিলেন। ওই নৌকায় যাত্রী ছিল ৭৫ জন। অপর নৌকায় ছিলেন নূরুল আলম। এ নৌকাটি সাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি পৌঁছে যায়। ইতালি পৌঁছে নূরুল আলম পরিবারকে তার পৌঁছানোর খবর নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে কাইয়ূম, মুক্তাদির ও মামুনকে বহনকারী নৌকাটি তিউনিসিয়া উপকূলে ডুবে যায়। মামুনের কাছে বড় বেলুন থাকায় তিনি পানিতে ভাসতে থাকেন। এ সময় মুক্তাদিরও তার হাত ধরা ছিল। সাগরে সাঁতরানোর একপর্যায়ে মামুন নিজেকে রক্ষায় মুক্তাদিরকে ছেড়ে দেন। এরপর মুক্তাদির কোন অবস্থায় আছেন, মারা গেছেন নাকি বেঁচে আছেন এর কিছুই বলতে পারেন না মামুন।

এদিকে প্রায় ৮ ঘণ্টা সাগরে ভাসমান অবস্থায় থাকার পর মাছ ধরার একটি ট্রলারের লোকজন দেখতে পেয়ে মামুনকে উদ্ধার করে। ডুবে যাওয়া নৌকাতে ৭৫ জন যাত্রী ছিল বলে জানা যায়।

লোকড়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. জাহির মিয়া জানান, উদ্ধার হওয়া মামুন মিয়া তার ভাগ্নে। মোবাইলে মামুন মিয়া জানিয়েছেন নৌকাডুবির পর মোক্তাদিরের সঙ্গে তিনি হাত ধরে সাঁতার কেটেছেন অনেকক্ষণ। হাত ছেড়ে দেয়ার পর আর মোক্তাদিরকে দেখতে পাননি।

শেয়ার করুন