ভূমধ্যসাগরে নৌকা ডুবে বাংলাদেশীসহ ৬৫ অভিবাসীর মৃত্যু

তিউনিসিয়ায় জারযিজে একটি আশ্রয় কেন্দ্রে সাগর থেকে উদ্ধারকৃত কয়েকজন। অধিকাংশই বাংলাদেশী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: ভূমধ্যসাগরের তিউনিসিয়া উপকূলে নৌকা ডুবে অন্তত ৬৫ অভিবাসন প্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর এ তথ্য জানিয়েছে।

অন্যদিকে তিউনিসিয়া রেড ক্রিসেন্টের বরাত দিয়ে সংবাদ সংস্থাগুলো বলছে, নৌকা ডুবিতে নিহত অভিবাসীর অধিকাংশই ছিল বাংলাদেশী নাগরিক।

সংস্থাটি জানিয়েছে, ১৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছে তিউনিসিয়ার জেলেরা। এদের মধ্যে ১৪জনই বাংলাদেশী; তাদের একজন আহমেদ বিলাল, যার বাড়ি সিলেটে।

উদ্ধার হওয়া লোকজন জানিয়েছেন, নৌকাটি বৃহস্পতিবার লিবিয়ার জুওয়ারা এলাকা থেকে ছেড়ে আসে। প্রচণ্ড ঢেউয়ের কারণে এতে সমস্যা দেখা দেয়। নৌকার সব আরোহী সাহারা অঞ্চল থেকে আসা বলে ধারণা করা হচ্ছে।  ঠাণ্ডা সাগরের পানিতে তারা প্রায় আট ঘণ্টা ভেসে ছিল বলে জানিয়েছে।

তিউনিসিয়ার রেড ক্রিসেন্ট কর্মকর্তা মঙ্গি স্লিমকে উদ্ধৃত করে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, রাবারের তৈরি ‘ইনফ্লেটেবেল’ নৌকাটি ১০ মিনিটের মধ্যে ডুবে যায়।

ত্রিপলিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শেখ সিকান্দার আলী বিবিসিকে বলেন, তারা দুর্ঘটনার কথা জানেন এবং তিউনিসিয়ার কর্তৃপক্ষের সাথে তাদের যোগাযোগ চলছে। তিনি বলেন, ‘যত দ্রুত সম্ভব তারা জারযিজে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে লড়াই চলার কারণে সড়কপথে যাওয়া সম্ভব হচ্ছেনা বলে তাদের আকাশপথে যেতে হবে।’

বেঁচে ফেরা অভিবাসীদের ভাষ্যমতে, নৌকাটিতে ৫১জন বাংলাদেশী ছাড়াও তিনজন মিশরীয় এবং মরক্কো, শাদ এবং আফ্রিকার অন্যান্য কয়েকটি দেশের নাগরিক ছিল।

চলতি বছর সাগর পথে অবৈধভাবে ইউরোপ যাওয়ার সময় যে কয়টি নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে এটি সবচেয়ে ভয়াবহ বলে মনে করা হচ্ছে। চলতি বছরের প্রথম চার মাসে লিবিয়া থেকে ইউরোপ যাওয়ার চেষ্টাকালে নৌকা ডুবে ১৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

তিউনিসিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দুর্ঘটনার খবর শোনার পর নৌবাহিনী দ্রুত একটি জাহাজ পাঠিয়েছিল। একটি মাছ ধরার নৌকা ডুবে যাওয়া লোকদের উদ্ধার করেছিল।

ইউএনএইচসিআরের কর্মকর্তা ভিনসেন্ট কোচেটেল এক বিবৃতিতে বলেছেন, যারা এখনো ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করছেন তাদেরকে যে ঝুঁকি মোকাবেলা করতে হচ্ছে এটা সেই মর্মান্তিক ও ভয়াবহ ঘটনার কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে।’

-তথ্যসূত্র: বিবিসি, এএফপি

শেয়ার করুন