ভবনের অগ্নিনিরাপত্তায় প্রেসক্রিপশন

ড. মুনাজ আহমেদ নূর

সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা শহরে বেশ কয়েকটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এই অগ্নিকাণ্ডে বড় ধরনের ক্ষতির পাশাপাশি ঘটেছে প্রাণহানি। শুধু বাংলাদেশ নয়; বিশ্বের অনেক উন্নত দেশেও বড় বড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। গত ১৫ এপ্রিল প্যারিসের নটর ডেম ক্যাথেড্রালেও ঘটেছে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। আগুনে পুড়ে ৮৫০ বছর বয়সী ভবনটির ছাদ ও প্রধান চূড়া ভেঙে গেছে। শুধু প্যারিসের নটর ডেম ক্যাথেড্রাল নয়, আমেরিকার মতো উন্নত দেশেও প্রতি ঘণ্টায় ২৪টি স্ট্রাকচারে আগুনের সূত্রপাত হয়। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, প্রতি বছর শুধু যুক্তরাজ্যে আগুনে মারা যায় প্রায় ৩০০০ লোক। আহত হয় ১৮০০০; ফায়ার ফাইটার মারা যায় ১০০ জন এবং ১০০ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ নষ্ট হয়। আগুন হচ্ছে একটা টেক্ট্রাহের্ডন-হিট অক্সিজেন, ফুয়েল এবং এই তিনটির মধ্যে চেইন রিঅ্যাকশনের ফলে আগুন জ্বলে। তবে বাতাসে অক্সিজেনের পরিমাণ ১৬ পার্সেন্টের নিচে গেলে আগুন আর জ্বলে না।

অগ্নিদুর্ঘটনার কথা মাথায় রেখে ভবন নির্মাণে আমরা ইঞ্জিনিয়াররা কোডের ব্যবহার করে থাকি। এই কোড হচ্ছে একটা সর্বনিম্ন রিকোয়ারমেন্ট, যে ভবন নির্মাণে এই কোডে উলেল্গখ করা রিকোয়ারমেন্টের নিচে নামা যাবে না এবং এই কোডগুলোকে আমরা বলি প্রেসক্রিপশন বেজড কোড। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশের ৯৩ ভাগের মতে ভবন নির্মাণে প্রেসক্রিপশন বেজড কোডের সর্বনিম্ন রিকোয়ারমেন্ট মানা হয়নি। সম্প্রতি পুরান ঢাকার চুড়িহাট্টা এবং বনানীর এফ আর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের পর নড়েচড়ে বসেছে আমাদের প্রশাসন। যেসব ভবন নির্মাণের সময় প্রেসক্রিপশন বেজড কোডে উল্লিখিত রিকোয়ারমেন্ট মানা হয়নি, তাদের বিরুদ্ধে রাজউকের অভিযান শুরু হয়েছে। রাজউক সূত্রে জানা গেছে, রাজউক আওতাধীন এলাকায় ২৫ লাখ ভবন রয়েছে। তার মধ্যে ছয়তলা পর্যন্ত ভবন আছে ২১ লাখ ৫০ হাজার। সাততলা থেকে ২৪-২৫ তলা পর্যন্ত ভবন আছে ৮৮ হাজার। রাজউকের বক্তব্য হচ্ছে, এখন আর পিছু হটার কোনো সুযোগ নেই।

অগ্নিনিরাপত্তার জন্য যেসব সরঞ্জামের কথা প্রেসক্রিপশন বেজড কোডে বলা আছে, সেগুলো তারা কীভাবে ব্যবহার করছে, সেটাও খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই বিশ্ব এখন প্রেসক্রিপশন বেজড কোড থেকে আস্তে আস্তে বের হয়ে আসতে চাইছে। তারা বলছে, প্রেসক্রিপশন বেজড ডিজাইন থেকে যদি আমরা পারফরম্যান্স বেজড ডিজাইনে চলে আসি, তাহলে কেমন হবে।

পারফরম্যান্স বেজড ডিজাইন হচ্ছে কিছু গোল নির্ধারণ করে সেগুলোকে পূরণ করা, যেটা কোনো প্রেসক্রিপশনের ওপর ভিত্তি করে নয়। এটি নতুন বিল্ডিং এবং কোড নন-কমপ্লায়েন্ট পুরনো বিল্ডিংয়ের জন্য প্রযোজ্য হতে পারে। এ দুই প্রকারের বিল্ডিংয়ে যারা বসবাস করছে, তাদের আগুন থেকে নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য কিছু গোল সেট করাকেই বলা হচ্ছে পারফরম্যান্স বেজড ডিজাইন। প্রেসক্রিপশন বেজড কোডের সঙ্গে পারফরম্যান্স বেজড ফায়ার ডিজাইনের এক নম্বর পার্থক্য হচ্ছে, প্রেসক্রিপশন বেজড কোড শুধু একটি পদ্ধতির কথা বলে দেয়; কোনো রিস্ক পর্যালোচনা করে না যে, ভবনটি কতটুকু অগ্নিঝুঁকিতে আছে। ভবন কি হাই রিস্কে আছে নাকি লো রিস্কে আছে, তার পর্যালোচনা করে না। কিন্তু পারফরম্যান্স বেজড ফায়ার ডিজাইনে রিস্ক পর্যালোচনা করে সে অনুযায়ী পারফরম্যান্স বেজড ফায়ার ডিজাইন করে। দ্বিতীয় পার্থক্য হচ্ছে, প্রেসক্রিপশন বেজড কোড শুধু সাধারণ ভবনের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা যায়। আর পারফরম্যান্স বেজড ফায়ার ডিজাইনে জেনরিক এবং নন-জেনরিক বিল্ডিং উভয় ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হয়। পারফরম্যান্স বেজড ফায়ার ডিজাইন করতে হলে কিছু গোল মাথায় রাখতে হবে। যেমন লাইফ সেফটি, এনভায়রনমেন্ট, বিল্ডিং অপারেশন, সিকিউরিটি, রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট, রিস্ক অ্যানালাইসিস, ওয়ার্কপ্লেস সেফটি, কনটেন্ট, স্মোক কন্ট্রোল, কোন কোন ফ্লোরে আগুন লাগার ঝুঁকি আছে তা চিহ্নিত করা, মিশন প্রটেকশন দেওয়া।

যখন আগুন লাগে, সেই আগুন তিনটি স্টেজে থাকে। তার একটাকে আমরা বলি প্রি ফ্লাশ ওভার, আরেকটি হচ্ছে ফ্লাশ ওভার এবং অপরটি হচ্ছে পোস্ট ফ্লাশ ওভার। আগুন যখন প্রি ফ্লাশ ওভারে থাকে, তখন মানুষ ও সম্পদ বাঁচানো খুবই সহজ। যখনই আগুন ফ্লাশ ওভার এবং পোস্ট ফ্লাশ ওভারে চলে যায়, তখন ভবনের ভেতরের মানুষদের বাঁচানো খুব কঠিন হয়ে যায়। সুতরাং যা করার প্রি ফ্লাশ ওভারেই করতে হবে। পৃথিবীব্যাপী যত অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে তাতে দেখা গেছে, প্রি ফ্লাশ ওভারে যখনি ফায়ার স্টিংগুইশ করা যায়নি, তাতেই সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আর প্রি ফ্লাশ ওভারে যখনি এটাকে বন্ধ করে দেওয়া সম্ভব হয়েছে, তখন কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। আগুন প্রি ফ্লাশ ওভারে থাকে খুবই অল্প সময়; তিন থেকে পাঁচ মিনিট। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে প্রি ফ্লাশ ওভারে এত অল্প সময়ে কখনোই ফায়ার ব্রিগেড আসতে পারে না। তারা আসতে আসতে আগুন ফ্লাশ ওভার ও পোস্ট ফ্লাশ ওভারে চলে যায়। তখন তাদের পক্ষে মানুষ ও সম্পদ রক্ষা কঠিন হয়ে যায়। আগুন ফ্লাশ ওভার ও পোস্ট ফ্লাশ ওভারে চলে গেলে তখন ফায়ার ব্রিগেড এসে আগুনের গতি কমায়, আগুন যেন অন্যত্র না ছড়ায়, ধোঁয়াটা কীভাবে অন্য জায়গায় সরিয়ে দেওয়া যায়, এগুলো তারা করার চেষ্টা করে এবং ওই সময়ে ওটাই তাদের কাজ। ওই সময়ে তাদের পক্ষে মানুষ বাঁচানো আর সম্পদ রক্ষা, কোনোটাই সম্ভব হয় না।

পারফরম্যান্স বেজড ফায়ার ডিজাইনে প্রথমেই মাথায় রাখতে হবে, আগুনের ইন্টিমেট কন্টাক্টে যারা থাকে, তাদের বাঁচানো খুবই কঠিন। তার বাইরে সব মানুষকে বাঁচানোর চেষ্টা করা যেতে পারে। তারপর সম্পদের নিরাপত্তার বিষয়টি দেখতে হবে, বিল্ডিংটা ভেঙে পড়বে কি-না এবং বিল্ডিংয়ের ভেতরে যেসব কনটেন্ট আছে, সেগুলো কতটা মূল্যবান? যদি বিল্ডিংটি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হয়ে থাকে, তাহলে সেখানে লাইফ সেফটির চেয়ে অনেক সময় ভেতরের সম্পদ রক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। কারণ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হলে সেখানে অনেক মূল্যবান শিল্প থাকতে পারে, যা হারিয়ে গেলে পুরো ইতিহাস হারিয়ে যাবে। তার পর দেখতে হবে বিল্ডিংয়ের মিশন প্রটেকশন; যেমন বর্তমানে গুগল, ইয়াহু, ফেসবুকের মতো অনেক কোম্পানি আছে, যারা তাদের সার্ভিস এক মিনিটের জন্যও বন্ধ রাখতে চায় না। সে জন্য তাদের তৎপরতাও থাকে অনেক বেশি। তাই এটাও হতে পারে একটি গোল। তারপর পরিবেশে কতটুকু গোল নেবে? ধোঁয়াকে কতটুকু ছড়াতে দেবে বা ধোঁয়া কতটুকু জায়গা দূষিত করতে পারে, সেটাও একটা গোল। কারণ ৭০ শতাংশের মতো মানুষ মারা যায় ধোঁয়ায়। এই ধোঁয়া থেকে বাঁচতে ভবনে আগুন লাগার পর সব সময় চেষ্টা করতে হবে আগুন প্রি ফ্লাশ ওভারে থাকা অবস্থায় ৩ থেকে ৫ মিনিটের মধ্যে ভবনের নিচের দিকে নেমে আসার। কারণ ধোঁয়া সব সময় ওপরের দিকে ওঠে।

ক্যালিফোর্নিয়ার নেভাডায় একটি হোটেলে আগুনের সূত্রপাত। যারা ইন্টিমেট কন্টাক্টে ছিল ১৫ থেকে ২০ জন, তাদের সবাই মারা গেছে। নিচতলায় আগুন লাগার কারণে তারা কেউ বের হতে পারছিল না। তাদের বলা হয়েছে নিজ নিজ কক্ষে অবস্থান করতে। যারা নিজ নিজ কক্ষে অবস্থান করেছে তাদের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। কিন্তু হোটেলের ১৪ থেকে ২৪ তলার মধ্যে যারা ওপরে ওঠার চেষ্টা করেছে, তাদের সবাই মারা গেছে শুধু ধোঁয়ায়। তবে ছাদে গিয়ে পৌঁছাতে পারলে হয়তো বাঁচার সম্ভাবনা ছিল। আমাদের এখানে এফ আর টাওয়ারেও একই ঘটনা ঘটেছে। পত্রিকায় দেখলাম, একজন নারী চেষ্টা করছেন ১৪ তলা থেকে ওপরদিকে যাওয়ার। তাকে ওপরদিকে অর্থাৎ ছাদে যেতে বলা হয়েছিল। জানি না, ১৪ তলায় থাকলে ওই নারী বেঁচে থাকতে পারতেন কি-না? কিন্তু তিনি ২১ তলা পর্যন্ত গিয়ে আর বাঁচতে পারেননি। কারণ তিনি ছাদে পৌঁছাতে পারেননি। ২১ তলায় ওঠার পর ধোঁয়ায় দম বন্ধ হয়ে মারা গেছেন। তাই এ বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্ব দিতে হবে। তারপর রিস্ক অ্যানালাইসিস করতে হবে, বিল্ডিংটা কতটা ঝুঁকিতে আছে। যেমন প্রেসক্রিপশন বেজড কোডে বলা আছে, আপনার সিঁড়ির প্রশস্ততা ৫ ফুট। কিন্তু ৫ ফুট সিঁড়ি করা সম্ভব হয়নি। সিঁড়ি করা হয়েছে তিন ফুট। এখন এই তিন ফুটের জন্য কি আমার বিল্ডিং ভেঙে ফেলে দেবে? এই তিন ফুট দিয়ে হয়তো ইভাকুয়েশন রেট স্লো হবে; কিন্তু সেখানে যদি স্টেয়ারওয়েল প্রেশারাইজেন দেওয়া হয়, তাহলে মানুষ বেরিয়ে আসতে পারবে। যে বিল্ডিংগুলো কোড নন-কমপ্লায়েন্ট আছে সেগুলোকে পারফরম্যান্স গোলে একটা স্টেজে নিয়ে আসার চেষ্টা করতে হবে। তা সম্ভব না হলে অকপেন্সি এবং কনটেন্ট রিমুভ করে দিতে হবে। যেমন যদি কোনো বিল্ডিংয়ে ১০০০ মানুষ থাকে, পারফরম্যান্স অ্যানালাইসিস করে যদি দেখা যায়, এখানে ৭০০ মানুষ থাকতে পারবে লাইফ সেফটি বিবেচনায়, তাহলে তাকে সেটা করে দেওয়া যেতে পারে। তারপর কোন কোন ফ্লোরে আগুন লাগার আশঙ্কা আছে, রিস্ক অ্যানালাইসিস করে ফায়ার স্মোক যেন ওই ফ্লোরের এদিক-ওদিক না যেতে পারে। সেটাকে আমরা বলি জোনাল স্মোক কন্ট্রোল। আগুন ওই ফ্লোরের মধ্যেই থাকবে, অন্য কোথাও যাবে না। এটাও হতে পারে একটি পারফরম্যান্স গোল। তবে এ সবকিছুর পরও প্রতিটি বিল্ডিংয়ে একটা ডেজিগনেটেড ফায়ার মার্শাল রাখতে হবে এবং প্রত্যেকটা ব্যবসায়িক ভবনে যারা ব্যবসায়ী আছেন, তাদের একটা সাব ফায়ার মার্শাল থাকবে। ওই ফায়ার মার্শালের সব নলেজ থাকবে প্রি ফ্লাশ ওভারে কখন আগুন বন্ধ করতে হবে। তার সব জানা থাকবে ভবনের কোথায় কী আছে। কারণ আগুন লাগার পর যথার্থ জ্ঞান না থাকলে অযথা দৌড়াদৌড়ি করে লাভ নেই।

ফায়ার মার্শালকে নিয়মিত ফায়ার ড্রিল করতে হবে, যাতে ভবনের ভেতরে যারা অবস্থান করছেন তারা নিয়মিত অগ্নিনিরাপত্তার বিষয়টি জানতে পারেন এবং এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে যান।

আরেকটি যা করতে হবে তা হচ্ছে, ফায়ার ডিজাইন বা ফায়ার ইঞ্জিনিয়ারিং। এখন শুধু আর্কিটেক্ট, সিভিল ইঞ্জিনিয়ার, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার কিংবা ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারের কাজ না। এগুলো থেকে বিশ্ব এখন বের হয়ে এসেছে। ফায়ার প্রোটেকশন ইঞ্জিনিয়ার, ব্যাচেলর অব সায়েন্স ইন ফায়ার প্রোটেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়গুলো বিশ্বে এখন চালু হয়ে গেছে। আমাদের এখানে যে যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সক্ষমতা আছে, তারা এ বিষয় চালু করতে পারে। আজ থেকে চার বছর পরে হলেও তো এরা বের হবে বা দুই বছর পরেও ট্রেনিং দিয়ে কিছু বের করে দেওয়া যেতে পারে। তাদের কাজ হবে সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ব্যবহার করে আগুন থেকে কীভাবে জনগণ, সম্পদ, পরিবেশ ও অর্থনীতিকে রক্ষা করা যায়। তা না হলে আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছি; খুব অল্প সময়ে আমরা মধ্যম আয় এবং সেখান থেকে উন্নত বিশ্বের কাতারে পৌঁছে যাব। এখন অনেক হেজার্ড, যেগুলো উন্নত বিশ্বের আছে। আমাদেরও তা পোহাতে হবে। কিন্তু আমরা যদি এখন থেকে প্রস্তুতি নিই এবং এগুলো প্রয়োগ করি, তাহলে আমরা একটি নিরাপদ বাংলাদেশ পেয়ে যাব।

অধ্যাপক ও উপাচার্য, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ

উৎস: সমকাল

শেয়ার করুন