তাকওয়ার জন্যই বদর যুদ্ধে বিজয় অর্জিত হয়েছিলো : মুহিব্বুল হক গাছবাড়ী

সিলেটের সকাল ডেস্ক :: দরগাহ হযরত শাহজালাল (রহ.) মাদরাসার মুহতামিম ও শায়খুল হাদিস আল্লামা মুহিব্বুল হক গাছবাড়ি বলেছেন, ‘ঐতিহাসিক বদর দিবসের তাৎপর্য অপরিসীম। ইসলামের বিজয় সূচনা হয়েছিল বদর যুদ্ধের মাধ্যমে। নবী মুহাম্মদ (স.) ও সাহাবায়ে কেরাম কোনো শক্তি না থাকা সত্ত্বেও তৎকালীন ক্ষমতাধর কাফের বাহিনীর বিরুদ্ধে মরণপণ লড়াই করে বিজয় লাভ করেছিলেন। এটাই ছিলো ইসলামের প্রথম বিজয়।’

বৃহস্পতিবার (১৭ রমজান) নগরীর বালুচরস্থ জামিআ সিদ্দিকিয়ায় ঐতিহাসিক বদর দিবস উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া মাহফিল ও ইফতারপূর্ব আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় তিনি আরও বলেন, ‘তাকওয়া অর্জনের মাস রমজান। আজ ১৭ রমজান চলে গেলো। কিন্তু আমাদের কতটুকু তাকওয়া অর্জন হলো, সেটা ভাবতে হবে। এই তাকওয়ার জন্যই বদর যুদ্ধে মুসলমানরা বিশাল কাফের শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করে বিজয় অর্জন করতে পেরেছিলেন। আমরাও যদি তাকওয়া অর্জন করতে পারি, তবে কেউ আমাদের পরাজিত করতে পারবে না।’

জামিআ সিদ্দিকিয়ার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কবি ও গবেষক সৈয়দ মবনুর সভাপতিত্বে ও উপ-পরিচালক মাওলানা রেজাউল হক ও শিক্ষাসচিব মাওলানা আফতাবুজ্জামান মোহাম্মদ হেলালের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জামিআ সিদ্দিকিয়ার পরিচালক মুফতি মনসুর আহমদ।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ৫ নং টুলটিকর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এসএম আলী হোসেন, ইসলামী ঐক্যজোট নেতা মুফতি ফয়জুল হক জালালাবাদী, গল্পকার সেলিম আউয়াল, কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান মাহমুদ রাজা চৌধুরী ও বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক কর্মকর্তা মীর ফয়সল আলী।

সভাপতির বক্তব্যে সৈয়দ মবনু বলেন, জামিআ সিদ্দিকিয়া এদেশের শিক্ষা আন্দোলনে কিছুটা ভূমিকা রাখার চেষ্টা করছে। এক্ষেত্রে এই অঞ্চলের সর্বশ্রেণীর মানুষের সহযোগিতা আমাদেরকে কৃতজ্ঞতায় আবদ্ধ করে রেখেছে। ১৭ রমজান ‘ইয়াওমে বদর’ বা ‘বদর দিবস’। এ দিন মুসলমানদের প্রথম বিজয় এসেছিলো বলে ইসলামে ইতিহাসে এটা স্মরণীয় দিন। আমরা আজ স্মরণ করছি আসহাবে বদরের ওই সাহাবীদেরকে, যাদের অনেক ফজিলত কোরআন-হাদিসে বর্ণিত রয়েছে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআন তিলাওয়াত করেন জামিআর ছাত্র হাফিজ আব্দুর রাজ্জাক। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন মাহফিল উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক মাওলানা মো. জাফর ইকবাল। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি অনুষদের ডীন ড. মেহদী হাসান খান, ছড়াকার এডভোকেট আব্দুস সাদেক লিপন, কবি বাছিত ইবনে হাবীব, ইসলামী ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা মাওলানা মামুনুল হক, কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক এডভোকেট আব্দুল মুকিত অপি, সাংবাদিক মাওলানা রুহুল আমীন নগরী, ছাত্র অভিভাবক মাওলানা মাসুমুর রহমান, ডা. আব্দুর রহমান, শৈলীর উপদেষ্টা সচিব মাহবুব মুহম্মদ, উপদেষ্টা হেলাল হামাম, উপদেষ্টা ফিদা হাসান, উপদেষ্টা সালেহ আহমদ সাদী এবং শৈলীর সভাপতি মাজিদুল ইসলাম চৌধুরী।

শেয়ার করুন