চিকিৎসককে ধর্ষণ ও হত্যার হুমকি: ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে এবার মামলা

সিলেটের সকাল রিপোর্ট :: সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক নারী ইন্টার্ণ চিকিৎসককে ধর্ষণের পর হত্যার হুমকির ঘটনায় ছাত্রলীগ নেতা সারোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে এবার মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সারোয়ার হোসেন চৌধুরীকে প্রধান আসামী ও ৮-১০ জনকে অজ্ঞাতনামা করে সোমবার রাতে কোতোয়ালি থানায় মামলাটি করেন হাসপাতালের পরিচালক ডা.ফেরদৌস হাসান।

মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোতোয়ালি থানার ওসি সেলিম মিয়া।

এর আগে গত শনিবার (১১ মে) ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা. নাজিফা আনজুম নিশাতের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (নং-৬১৭ দায়ের) করেছিলেন ডা. ফেরদৌস হাসান।

প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে শিক্ষানবিশ চিকিৎসককে অকথ্য ভাষায় গালমন্দের পাশাপাশি অস্ত্র উঁচিয়ে হত্যা এবং ধর্ষণের হুমকি দেন সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক আজাদুর রহমানের অনুসারী দক্ষিণ সুরমা উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি সারোয়ার হোসেন।

চিকিৎসকদের দাবি, চিকিৎসা নিতে এসে হাসপাতাল কম্পাউন্ডে অস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্য হত্যার হুমকির কারণে তারা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। তবে অভিযুক্ত ওই ছাত্রলীগ নেতার দাবি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে কটুক্তি করায় তিনি রেগে এমন কাণ্ড ঘটিয়েছেন।

ওই ঘটনার ভুক্তভোগী হাসপাতালের শিক্ষানবিশ চিকিৎসক ডা. নাজিফা আনজুম নিশাত তার ফেসবুকে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার দুপুরে ইউরোলজির এক রোগী হাসপাতালে আসলে ডিউটি চিকিৎসকের অনুরোধে আমি তাকে রিসিভ করি। কারণ আমার অ্যাডমিশন ছিল। তখন তার সাথে আরও ১৫-১৬ জন ছেলেও হাসপাতালের ওয়ার্ডে প্রবেশ করে। পেশেন্টের (রোগীর)হিস্ট্রি নিতে নিতে খুব বিনয়ের সাথে তাদের একজনকে সেখানে থেকে বাকিদের নিয়ে বাইরে যেতে বললে তারা উত্তেজিত হয়ে যায়।’

“এ সময় তারা বলেন, ‘তোমার এমডিকে আমি কানধরে এনে দাঁড় করাবো। কর ট্রিটমেন্ট।’ আমি তখন বললাম, কি বললেন আপনি? সে বললো (আঙুল উঁচিয়ে), ‘কিছু বলি নাই। পেশেন্ট ছাত্রলীগের প্রেসিডেন্ট। ট্রিটমেন্ট দাও।’”

নিশাত আরও বলেন, “এর মধ্যে আমি পেশেন্টের বিপি মাপা শুরু করে দিয়েছি। তখন তিনি আমাকে তুই-তোকারি শুরু করলেন। আমি আর সহ্য করতে না পেরে কান্না করতে করতে সিএ, আইএমও রুমে গিয়ে ভাইয়া-আপুদের ঘটনা জানাই। তারপর সেই ছেলে আমার পেছন পেছন এসে কোমর থেকে ছুরি দেখিয়ে বললো, ‘তোর সাহস কত। লাশ ফেলে দিবো।…বাইরে বের হ একবার। রেইপ করে ফেলবো। আমার পা ধরে তোকে মাফ চাওয়া লাগবো…।’ এছাড়া অকথ্য ভাষায় গালাগালিও করতে থাকে সে।”

শেয়ার করুন