কোম্পানীগঞ্জে বিদ্যুতের আসা-যাওয়ার খেলায় দুর্ভোগ চরমে

কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি :: সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের বাসিন্দাদের বিদ্যুতের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তারা বলবেন, ‘এখানে বিদ্যুৎ যায় না, মাঝে মধ্যে আসে।’ তাদের এমন কথার প্রমাণও মিলেছে বৃহস্পতিবার। এদিন রাত ৭টার দিকে হঠাৎ দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টির সঙ্গে সঙ্গে চলে যায় বিদ্যুৎ। বাতাস-বৃষ্টি থেমে গেল পনের মিনিটের মধ্যেই। কিন্তু বিদ্যুৎ আসে ঘন্টাখানেক পর। দশ মিনিটের মাথায় আবার চলেও যায়। এরপর রাত সোয়া নয়টায় এলেও রাত সাড়ে দশটার দিকে আবারও অন্ধকারে নিমজ্জিত হয় পুরো উপজেলা। এরপর সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রতি ঘন্টায় তিন-চারবার করে বিদ্যুৎ যাওয়া-আসা করেছে।

ভোক্তভোগীদের মতে, সারাদিনে ২৪ ঘন্টার মধ্যে সবমিলিয়ে তারা বিদ্যুতের দেখা পান ৮ থেকে ১০ ঘন্টা। এমনকি পবিত্র রমজান মাসে তারাবির নামাজ, সেহরি ও ইফতারের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়েও বিদ্যুতের যাওয়া আসার খেলা অব্যাহত রয়েছে। উপজেলাজুড়ে অব্যাহত লোডশেডিংয়ের কারণে গ্রাহকদের মধ্যে বিরাজ করছে চরম অসন্তোষ ও উত্তেজনা। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ক্ষোভ ঝাড়ছেন অনেকে।

তবে উপজেলায় কোন লোডশেডিং নেই বলে দাবি করেছেন সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর কোম্পানীগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. সিরাজুল ইসলাম। তিনি জানান, ‘ঝড়ের কারণে বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে যায়। খুঁটি থেকে ট্রান্সফরমার পড়ে যায়। বিভিন্ন স্থানে গাছ উপড়ে পড়েও বিদ্যুৎ সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটে। তাই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় মেরামত কাজ শেষে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করতে কিছুটা বিলম্ব হয়।’

তবে ডিজিএম’র এমন দাবি মানতে নারাজ উপজেলার ভোক্তভোগীরা। ইসলামপুর পশ্চিম ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামের ভুক্তভোগী আব্দুর রাজ্জাক জানান, ‘ঝড়-বৃষ্টির কারণে বিদ্যুৎ যেতেই পারে। কিন্তু তাদের এলাকায় কোনো কারণ ছাড়াই দিন-রাত সমান তালে বিদ্যুৎ যাওয়া-আসা করছে। গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ ছাড়াই তারাবির নামাজ পড়তে হচ্ছে।’

একই ভাবে প্রতিদিন মোমবাতি জ্বালিয়ে সেহরি ও ইফতার খেতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন উপজেলার ফেদারগাঁও, পাড়–য়াসহ কয়েকটি গ্রামের লোকজন। এছাড়া লোডশেডিংয়ের কারণে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবা নিতে আসা রোগীদেরও বেশ দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. কামরুজ্জামান।

এ ব্যাপারে সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর পরিচালক মো. মুর্শেদ আলম জানান, ‘ছাতক গ্রীড থেকে প্রাপ্ত বিদ্যুৎ কোম্পানীগঞ্জ উপ-কেন্দ্র থেকে ট্রান্সমিশন লাইন টেনে ছাতক ও দোয়ারাবাজারের কিছু এলাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে কোম্পানীগঞ্জবাসী বিদ্যুৎ বিভ্রাটের শিকার হচ্ছেন।’

সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর পরিচালকের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি বিদ্যুতের এ সমস্যা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সাথে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান তিনি।

শেয়ার করুন