ঋণ করে সংসার চলছে, ঈদ করবো কীভাবে?

শাহাদাৎ স্বপন :: আজও বেতন-ভাতা পায়নি বেসরকারি টেলিভিশন ‘চ্যানেল নাইন’র বন্ধ হয়ে যাওয়া বার্তা বিভাগের সাংবাদকর্মীরা। এতে করে ১৬০ জন সংবাদকর্মী পবিত্র এই রমজানে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

চাকরিচ্যুত এসব সংবাদকর্মীরা জানান, চ্যালেনটি বার্তা বিভাগ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর মালিকপক্ষের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তাদের বেতন-ভাতা আজও পরিশোধ করা হয়নি।

তারা জানান, রোজা শুরু হয়েছে। পাশাপাশি চলছে ঈদের প্রস্তুতি। বর্তমানে ব্যয়বহুল এই নগরীতে দিন পার করাই কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। ধার-দেনা করে সংসার চালাতে হচ্ছে। ছেলে-মেয়েদের জন্য ঈদের কেনাকাটা করবো কীভাবে?

চ্যানেলটির মালিকপক্ষ বন্ধ হয়ে যাওয়া বার্তা বিভাগের সংবাদকর্মীদের মার্চ, এপ্রিল ও মে এই তিন মাসের বেতন-ভাতা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নোটিশ দিয়েছিলেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত বড় সংখ্যককর্মীর বেতন ভাতা পরিশোধ করেনি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চাকরিচ্যুত প্রায় ১৬০ জন সংবাদকর্মীর মধ্যে যাদের বেতন ১৮ হাজার টাকার ঊর্ধ্বে নয়, তাদের সবার টাকা পরিশোধ করেছেন মালিকপক্ষ।

আর যাদের বেতনের টাকা ৪২ হাজারের মধ্যে তাদের মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসের বেতন এখনও পরিশোধ করা হয়নি।

আবার যাদের বেতন ৪২ হাজার টাকার ঊর্ধ্বে তাদের ফেব্রুয়ারি, মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসের বেতন বকেয়া রাখা হয়েছে।

মফস্বল শহরে কাজ করা একাধিক জেলা প্রতিনিধির সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা যায়, চ্যানেলটির ঢাকার বাইরে যারা চাকরিচ্যুত হয়েছে তাদের অধিকাংশের প্যাকেজ বিল দেওয়া হয়নি প্রায় দেড় বছর ধরে। আর ৬ মাসের মধ্যে এ পর্যন্ত বেতন পরিশোধ করা হয়েছে মাত্র এক মাসের।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চ্যালেন নাইনের এক সাংবাদিক এ প্রতিবেদককে বলেন, আমাদের মোট ১৬০ জনের মতো সাংবাদিককর্মী চাকরিচ্যুত হয়েছে। এর মধ্যে ১২ থেকে ১৫ জন বিভিন্ন গণমাধ্যমে চাকরি পেয়েছেন। বাকী সবাই এখনও বেকার। এভাবে বেকার থাকার কারণে আমাদের মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, এভাবে বেকার অবস্থায় কোনো হাউজে গেলে সেখানে সামান্য বেতন অফার দেওয়া হয়। যা পূর্বের বেতনের তিন ভাগের এক ভাগও নয়। ফলে আমরা বিপদেই আছি।

চ্যানেলটির নরসিংদী জেলা প্রতিনিধি আইয়ুব হোসেন বলেন, আমরা প্যাকেজ ও উভ বিলসহ মাসে গড়ে প্রায় ১০ হাজার টাকা করে পাই। এই হারে গত আড়াই বছরে প্রায় ৩ লাখ টাকার মতো করে পাবো। এভাবে জেলা ও ব্যুরো মিলে প্রায় ৮০ জন প্রতিনিধির অনেক বড় অঙ্কের টাকাই বকেয়া রেখেছেন চ্যানেল নাইনের কর্তৃপক্ষ।

এ ব্যাপারে প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজিং ডাইরেক্টর এনায়েতুর রহমান বাপ্পী বলেন, ৩০ মের পর আমি সাংবাদিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করবো। করতে না পারলে আমার নামে তাদের মামলা করে দিতে বলবেন।

তিনি বলেন, যাদের চাকরির মেয়াদ ৬ মাসও হয়নি, বিধান অনুযায়ী তাদের আমি তিন মাসের অতিরিক্ত বেতন না দিলেও পারতাম। কিন্তু আমি তা করিনি। কারণ তারা আমার সঙ্গে অনেক দিন কাজ করেছে। তাদের সঙ্গে একটা হৃদ্যতা তৈরি হয়েছে।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের গত ২৮ মার্চ মালিকপক্ষ হঠাৎ করে চ্যানেল নাইনের বার্তা বিভাগ বন্ধ করে দেন।

কৃতজ্ঞতা: পরিবর্তনডটকম

শেয়ার করুন