।। নিঃসঙ্গ পথিকের কথা।। মো. মিজাহারুল ইসলাম

ছবি ইন্টারনেট থেকে সংগৃহিত

গঞ্জ থেকে ফেরার পথে
হঠাৎ দেখি আজ,
পাখিরা সব গল্প করতে,
বসল পথের মাঝ।

পথের মাঝে ঠায় দাঁড়িয়ে
যাচ্ছে দোয়েল ডাকি,
প্রশ্ন করে আগ বাড়িয়ে,
কোথায় যেন থাকি?

মুচকি হেসে চলছি যখন
বাঁশ বাগানের পাতা,
থর থরিয়ে কাঁপছে তখন,
কি জানি! কি ব্যাথা!

একটু যখন এগুই তবে
সোনা রঙের ধান,
কাটছে তখন কৃষক সবে,
গাইছে সুরে গান।

কৃষকের ঐ ধানে বসে
দেখছে শকুন চিল,
গাছগুলো সব পুড়ছে কিসে!
আকাশ শান্ত নীল।

চলতি পথেই বায়ে ঘুরে
পদ্ম পাতার বিল,
যাচ্ছি যেথাই নায়ে চড়ে,
রোদ্রে ঝিল মিল।

বিল পেড়িয়ে ঝিল পেড়িয়ে
ভীষণ ক্লান্তি ধরে,
মাঠ পেড়িয়ে ঘাস মাড়িয়ে,
পৌঁছি কুড়ে ঘরে।

ক্লান্তি দেখে গাছের শসা
বলছে আমায় একি!
তোমার কেন ক্লান্তি দশা?
একটু বলো দেখি!

কচি শসার ডগার গায়ে
রোদ বিলিয়ে রবি,
সবুজ গাঁয়ে আঁধার দিয়ে,
পশ্চিমে যায় ডুবি।

অন্ধকার এর বুকটি ছিড়ে
উঠল যখন শশী,
ঘর পেড়িয়ে চুপটি মেরে
দিঘির পাড়ে বসি।

শশীর আলোয় যাচ্ছে ভেসে
দিঘির কালো জল,
কল কলিয়ে শব্দে হেসে,
করছে টল মল।

ফুলের সাথে ফলের সাথে
দিঘির কালো জলের সাথে,
গাছের সাথে মাছের সাথে,
বলছি কথা নিশি রাতে।

কথার শেষে খানিক থামি
তাকাই আকাশ পানে,
নিঃসঙ্গ এক পথিক আমি,
ভাবছি মনে মনে।

তাং – ২৭/০৯/১৮ খ্রীস্টাব্দ, সিলেট।

শেয়ার করুন