পহেলা বৈশাখে শাবির ৩২০ একর

হাবিবুল হাসান, শাবি প্রতিনিধি:: ‘আজি নতুন রতনে ভূষণে যতনে/ প্রকৃতি সতীরে সাজিয়ে দাও’-আজ নব আলোর কিরণশিখা শুধু প্রকৃতিকে নয়, রঞ্জিত করে নবরূপে সাজিয়ে যাবে প্রত্যেক বাঙালির হৃদয়কোণও। নব আলোর শিখায় প্রজ্বলিত হয়ে শুরু হবে আগামী দিনের পথচলা। যতসব জীর্ণতা, সব মঙ্গলের অগ্নিস্নাতে পূণ্য করতে আসছে নতুন বর্ষ। আজ পহেলা বৈশাখ ১৪২৬।

দেশের উত্তর-পূর্ব সীমান্তে অবস্থিত দুটি পাতা একটি কুঁড়ির দেশ এবং ৩৬০ আউলিয়ার পূণ্যভূমি সিলেটে পহেলা বৈশাখ মানেই শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। প্রেমিক-প্রেমিকা, বন্ধু-বান্ধব কিংবা পরিবার; ঘোরাঘুরি আর বাঙালিয়ানা মানেই শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩২০ একর।

সারাদেশের ন্যায় ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী উৎসবের জন্য প্রস্তুত সিলেটের সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠ শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী কিংবা সাংস্কৃতিক সংগঠক কেউই প্রস্তুতির বাইরে নেই। বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্যের পার্বণ বাংলা নববর্ষ। সংস্কৃতির শেকড়, চেতনায় পহেলা বৈশাখ আমাদের জাতিসত্ত্বার বিকাশধারার এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

বাসন্তীরাঙা শাড়ি কিংবা শ্বেতশুভ্র পাঞ্জাবি, পান্তা-ইলিশ, মঙ্গলশোভাযাত্রায় বছরের একটি দিন পুরাতন জরাজীর্ণতা, সংকীর্ণতা কিংবা কুপমন্ডুকতা পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যেতে সবাই নিচ্ছে শেষ মূহুর্তের প্রস্তুতি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্টিন থেকে শুরু করে ক্যাফেটেরিয়া, ফুডকোর্ট কিংবা টং, শহীদ মিনার থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় সেন্টার কিংবা গোলচত্বর- বৈশাখের উন্মাদনা ছড়িয়েছে সবখানে।

নতুনরূপে সাজানো হয়েছে বিভিন্ন বিভাগ, জায়গায় জায়গায় বসানো হচ্ছে বৈশাখী স্টল। এ যেন এক প্রাণের মেলা, নিজেদের সংস্কৃতির শেকড়ে ফিরে যাওয়া। চায়ের কাপে কিংবা আড্ডায় শুধুই পহেলা বৈশাখ। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও সাংস্কৃতিক সংগঠনসমূহ। তবে বর্ষবরণের মূল অনুষঙ্গ মঙ্গল শোভাযাত্রাকে রাঙ্গায়িত করতে বরাবরের মতো এবারও রঙ-তুলি নিয়ে বেশি ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা গেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্যবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থীদের।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের “ই” বিল্ডিং এর সামনে রাত জেগে তৈরি করছে মঙ্গল শোভাযাত্রার জন্য বিভিন্ন প্রাণীর ভাস্কর্য,সড়ক আল্পনা,পুতুলনাচ, বায়োস্কোপসহ অন্যান্য সামগ্রী। স্থাপত্য বিদ্যার তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী চৌধুরী মোহাম্মদ আরিফ জানান, আমাদের এবারের পহেলা বৈশাখ উদযাপনে প্রতিপাদ্য হিসেবে ধরা হয়েছে “ষোলআনায় বাঙালিআনা”। সেই বাঙালিয়ানার শান্তির প্রতীক হিসেবে গ্রামীণ জীবনের বর্ণিল উপকরণের সাথে মিল রেখে আমরা তৈরি করছি গ্রামীণ পশু-পাখির কিছু প্রতীকি জিনিস-যা শান্তির বার্তা বহণ করে। আমাদের আয়োজনে বৈশাখী শোভাযাত্রা ছাড়াও রয়েছে পুতুল নাচ, পটচিত্র, গ্লাসপেইন্ট প্রদর্শনী, রিক্সা যাত্রা।

পহেলা বৈশাখ উদযাপন প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক জহীর উদ্দিন আহমদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে সকাল ১০টায় মঙ্গলশোভাযাত্রার মাধ্যমে পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। এছাড়াও দিনব্যাপী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সংগঠনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বাউলগান, মোড়গ লড়াই, সাপখেলাসহ বিভিন্ন বিভাগের আলাদা আলাদাভাবে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান আয়োজিত হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক নিরাপত্তার দিকে সজাগ রেখে পহেলা বৈশাখের সকল অনুষ্ঠান বিকাল ৫টার মধ্যে শেষ করে আগত দর্শক, শ্রোতা ও অতিথিদের বিকাল সাড়ে ৫টার মধ্যে ক্যাম্পাস ত্যাগ করতে হবে। ওইদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাড়তি নিরাপত্তার জন্য অতিরিক্ত পুলিশও নিয়োজিত থাকবে।

এদিকে নতুন বছরকে বরণ করে নিতে পিছিয়ে নেই আদিবাসী শিক্ষার্থীরাও। পূরাতন বছরকে বিদায় এবং নতুন বছরকে বরণ করে নিতে পহেলা বৈশাখের দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের আদিবাসী শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘এসোসিয়েশন অব ইন্ডিজেনাস স্টুডেন্টস, সাস্ট’ এর উদ্যোগে প্রথমবারের মতো “বৈ-সা-বি” উৎসব উদযাপিত হবে।

উৎসব, লোকাচার, কেককাটা, বৈশাখী প্রদর্শনী, পিঠা উৎসব, আলতা কিংবা মেহেদী উৎসব, মঙ্গল শোভাযাত্রাসহ সব আয়োজনে নতুন বছরের রক্তরাঙা সূর্যকে নবরূপে বরণ করে নিতে , আমাদের সংস্কৃতির শেকড়ে ফিরে যেতে প্রস্তুত ৩২০ একরের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

শেয়ার করুন