উইন্ড্রাস কম্পেন্সেশন স্কিম এবং এগ্রিকালচার ভিসার নামে তৎপর দালালচক্র, সতর্ক থাকার আহ্বান জিএসসির

 লন্ডন প্রতিনিধি :: উইন্ড্রাস কম্পেন্সেশন স্কিম এবং ইউকে এগ্রিকালচার ভিসা বিষয়ে এক সেমিনার গত সোমবার গ্রেটার সিলেট ডেভেলাপমেন্ট এন্ড ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল ইন ইউকের (জিএসসি) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। কেন্দ্রিয় কমিটি ও সাউথ ইস্ট রিজিওনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের চেয়ারপার্সন ব্যারিস্টার আতাউর রহমান। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্যারিস্টার আবুল কালাম চৌধুরী।

জিএসসির সাউথ ইস্ট রিজিওনের সাধারণ সম্পাদক ফজলুল করীম চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সেমিনারে আলোচনায় অংশ নেন- জিএসসি সাউথ ইস্ট রিজিওনের চেয়ারপার্সন মোহাম্মদ ইছবাহ উদ্দিন, মুক্তিযোদ্ধা এম এ মান্নান, কমিউনিটি নেতা ইফতেখার হোসেন চৌধুরী, সাংবাদিক সাজু আহমদ, সাউথ ইস্ট রিজিওনের সহ সভাপতি মাওলানা রফিক আহমদ রফিক ও এম গফুর, সাউথ ইস্ট রিজিওনের ট্রেজারার সুফী সুহেল আহমেদ, জয়েন্ট সেক্রেটারী আব্দুল মালিক কুটি ও মুহিব উদ্দিন চৌধুরী,সাউথ ইস্ট রিজিওনের মেম্বারশীপ সেক্রেটারী আখলাকুর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা মজুমদার আলী, সাংবাদিক খান জামাল, সাংবাদিক জাকির হোসেন কয়েছে, সাংবাদিক রেজাউল করিম মৃধা, সাংবাদিক এনাম চৌধুরী, সাংবাদিক এহসানুল আম্বিয়া শুভন, সাউথ ইস্ট রিজিওনের স্পোটস সেক্রেটারী রুহুল আমীন, ইয়ুথ সেক্রেটারী আজম আলী,গোয়াইন ঘাট ওয়েলফেয়ারের সহ সভাপতি মাওলানা নাজিম উদ্দিন, গোলাপগঞ্জ এডুকেশন ট্রাস্টের আশিক উদ্দিন, আব্দুল লতিফ,জগম্বর আলী, ফারুক মিয়া, জয়তুন মিয়া, বশির আহমদ, নাজমুল হুদা , সালেহ আহমদ, তাজ উদ্দিন, এনামুল হক রুহেল, নুর আহমদ, বদরুল ইসলাম,মোহাম্মদ আলী, নুরুল আলম প্রমুখ।

সেমিনারে বলা হয়- ‘ইউকে এগ্রিকালচার ভিসা ও উইন্ড্রাস কম্পেন্সেশন স্কিমকে পুঁজি করে কিছু সংখ্যক দালাল চক্র উঠে এসেছে। তারা দেশে সাধারণ সহজ সরল মানুষদেরকে প্রলোভন দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে সংবাদ এসেছে আমাদের কাছে। জিএসসি এসকল দালালদের কাছ থেকে সতর্ক থাকার জন্য জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষে কাজ করে যাচ্ছে। সেমিনারে বলা হয় ইউকে এগ্রিকালচার ভিসা কোন নতুন বিষয় নয়। ১৯৪৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ইউকের এগ্রিকালচার ইন্ডাস্ট্রিতে ইউরোপিয়ান দেশের লোকজন কাজ করতে আসতেন। মূলত রোমানিয়া এবং বুলগেরিয়ার লোকজন এই ভিসা নিয়ে আসতেন। রোমানিয়া এবং বুলগেরিয়া ২০১৩ সালে ইউরোপের অন্তর্ভুক্ত হলে আর এই ভিসার কোন প্রয়োজনীয়তা থাকেনি। বর্তমান ব্রেক্সিট এর কারণে এই ভিসায় নতুন এক সম্ভাবনা তৈরী হয়েছে। তবে এই স্কিমে বাংলাদেশের নাম কোথাও উল্লেখ নেই। অথচ দালালরা এই ভিসায় প্রলোভন দেখিয়ে লোকদের আকৃষ্ট করছে।’

সেমিনারে আরও বলা হয়, ‘১৯৪৮ সালে উইন্ডরাশ নামের জাহাজে করে জ্যামাইকা থেকে শ্রমিকদের যুক্তরাজ্যে নিয়ে আসা হতো। গত বছর বাংলাদেশিসহ ওই সময় যুক্তরাজ্যে আসা অভিবাসীদের রাষ্ট্রীয় সেবা পেতে সংকটে পড়লে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। অনেককেই নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর হুমকি দেওয়া হয়। কারণ তাদের ১৯৭৩ সালের আগে ব্রিটেনে পৌঁছার কোনও নথি দেখাতে পারেননি। উইন্ডরাশ কেলেঙ্কারিতে জ্যামাকাইন বা ক্যারিবীয় বংশোদ্ভূতদের অধিকাংশকে আটক বা প্রত্যর্পণ করা হলেও বাংলাদেশি ও দক্ষিণ এশীয় অভিবাসীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। যুক্তরাজ্য সরকার ক্ষতিপুরণ হিসেবে ২০০ মিলিয়ন ব্রিটিশ পাউন্ডের তহবিল গড়ে তুলেছে। এর আওতায় ইতিমধ্যে ২৩ জন বাংলাদেশি নাগরিকত্ব পেয়েছেন। তবে এটাকে হরিলুট মনে করলে চলবে না। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা সঠিক প্রমান পত্র দাখিল করতে পারলে এর ক্ষতিপুরণ পেতে পারেন। এজন্য উভয় ভিসার নামের দালালদের হাত থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয় সেমিনারে।

সেমিনারে পবিত্র কোরান থেকে তেলাওয়াত করেন সাউথ ইস্ট রিজিওনের রিলিজিয়াস সেক্রেটারী কামরুল হাসান চৌধুরী।

শেয়ার করুন