আজীবন ক্ষমতায় থাকার প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করতেই কারাগারে রাখা হয়েছে : সিলেটে আমির খসরু

সিলেটের সকাল রিপোর্ট :: বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘কোন অপরাধ নয়, আজীবন ক্ষমতায় থাকার প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করতেই তিন বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে আর সিলেটের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা ইলিয়াস আলীকে গুম করা হয়েছে।’

সোমবার সিলেট জেলা বিএনপি আয়োজিত ‘কারান্তরীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, গুম নামক অপরাজনীতির ভয়াবহতা ও অবরদ্ধ গণতন্ত্র’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলী, ছাত্রদল নেতা ইফতেখার আহমদ দিনার, জুনেদ আহমদ ও গাড়ী চালক আনসার আলী গুমের ৭ বছর পূর্তিতে তিনদিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবেই এ আলোচনা সভার আয়োজন করে সিলেট জেলা বিএনপি।

জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুল কাহির চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, ‘জিয়া পরিবারের জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়েই দেশনায়ক তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ফরমায়েসী সাজা দেয়া হচ্ছে। যারা গুম নামক অপরাজনীতির শিকার হয়েছেন তাদের নাম বিএনপির খাতায় আজীবন লেখা থাকবে। গুমকৃত পরিবারের লোকজন যখন আমাদের জিজ্ঞেস করে আমরা প্রত্যাশা না দোয়া করবো। তখন তাদের জবাব দেয়ার ভাষা খুঁজে পাইনা।’

তিনি বলেন, ‘আমাদেরকে দুর্বল বলা হয়। কিন্তু আমরা এত খুন-গুম, হামলা-মামলা, গ্রেফতার-নির্যাতন, জুলুম-নিপীড়ন স্বত্তেও এখন পর্যন্ত ঠিকে আছি। আওয়ামী লীগ আছে ক্ষমতা আছে, ক্ষমতার মোহে আর পুলিশের পাহারায়। এই দিন থাকবেনা পরিবর্তন হবেই। খালেদা জিয়াকে মুক্ত করেই এদেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা হবে। এজন্য দরকার একটি গণ আন্দোলন। এই আন্দোলনকে গ্রামে-গঞ্জে সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে হবে।’

নগরীর মিরের ময়দানস্থ একটি অভিজাত রেষ্টুরেন্টের হলরুমে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক ও ডাকসুর সাবেক ভিপি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫০ বছরে এমন নিষ্টুর, হৃদয়হীন, ক্ষমতাপিপাসু সরকার জাতি আর কখনো দেখেনি। মানুষের ভোটাধিকার হরণ করতে যাদের লজ্জাবোধ নেই তাদের মুখে উন্নয়ন আর মানবতার ভুলি শুনলে হাসি পায়। ব্যর্থতা আমাদেরও আছে ৩০ ডিসেম্বরের ভোট চুরির নির্বাচনের পর লাগাতার হরতাল অবরোধ পালন করলে এই ভোট ডাকাত সরকার শপথ নিতে পারতো না।’

তিনি বলেন, ‘আপনাদেরকে মনে রাখতে হবে আমরা একটা কঠিন শক্তির বিরুদ্ধে লড়ছি। গুমকৃত পরিবার গুলোর সদস্যরা যখন প্রশ্ন করে আমরা কি দোয়া করবো। ফিরে আসার নিশ্চয়তা থাকলে সুস্থতার আর মৃত হলে মাগফেরাতের জন্য মোনাজাত করবো। কিন্তু এমন কঠিন প্রশ্নের জবাব আমার রাষ্ট্র সরকার দিতে পারেনা। আর পারবেও না। কারণ তারা আদর্শিক মোকাবেলায় ব্যর্থ হয়েছে বলেই গুম ও ক্ষমতা দখলের রাজনীতি করছে।’

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদের পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও বিশিষ্ট মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ব্যারিষ্টার রুমিন ফারহানা। সভায় বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ সহ বিভিন্ন পর্যায়ের বিপুল সংখ্যক সাংবাদিক, পেশাজীবি নেতৃবৃন্দ সহ দলীয় নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভায় আবেগঘন বক্তব্য রাখেন নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম. ইলিয়াস আলীর বড় ছেলে ব্যারিষ্টার আবরার ইলিয়াস, ইফতেখার আহমদ দিনারের বাবা ডাঃ মঈনুদ্দিন, জুনেদ আহমদের ছোট ভাই হাসান মঈনুদ্দিন আহমদ ও আনসার আলীর স্ত্রী মুক্তা বেগম।

সভায় প্রখ্যাত সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ ও বিএনপির অন্যতম শীর্ষ নেতা সাবেক মন্ত্রী ব্যারিষ্টার আমিনুল ইসলামের মৃত্যূতে শোক প্রকাশ করে তাদের মাগফেরাত কামনা করা হয়।

জেলা ওলামা দলের সভাপতি মুফতী মাওলানা সাদিকুর রহমানের পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে হওয়া সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় সিলেট বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক এমপি কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাবেক এমপি আলহাজ্ব শফি আহমদ চৌধুরী, মহিলা দলের কেন্দ্রীয় সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস ও সাধারণ সম্পাদিকা সুলতানা আহমেদ, সম্মিলিত পেশাজীবি পরিষদ সিলেট জেলা সভাপতি ডাঃ শামীমুর রহমান, সিলেট মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম জালালী পংকী প্রমুখ।

শেয়ার করুন