‘হট্টমালার ওপারে’তে মুগ্ধ দর্শক

সিলেটের সকাল ডেস্ক :: মহান একুশের চেতনায় সম্মিলিত নাট্য পরিষদ সিলেট আয়োজিত নাট্য প্রদর্শনীতে রোববার মঞ্চস্থ হয় দর্পণ থিয়েটার সিলেটের নাটক ‘হট্টমালার ওপারে’। কালজয়ী নাট্যকার বাদল সরকারের থার্ড থিয়েটার ফর্মের সিগনেচার পান্ডুলিপি এই হট্টমালার ওপারে।

বাদল সরকারের রচনায় নাটকটির নির্দেশনা দিয়েছেন এজাজ আলম। পরবর্তীতে যৌথভাবে পুণঃনির্দেশনা দিয়েছেন নাহিদ পারভেজ বাবু ও সুপ্রিয় দেব শান্ত। নাটকটির কেনা ও বেচা দুই মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন নাটকটির নির্দেশক নাহিদ পারভেজ বাবু ও সুপ্রিয় দেব শান্ত।

এছাড়াও অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন অতনু দে, হাসনা আলম অমি, কানন চন্দ, শুভ বর্মণ পার্থ, সামান্তা ঘোষ, প্রসেনজিৎ চক্রবর্তী সানি, রাহুল রাজ নাথ, এনামুল হক সামি, মল্লিকা চক্রবর্তী, জয়িতা জেহেন প্রিয়তী ও মহাশ্বেতা দেব পুরকায়স্থ শশী। সোমবার একই মঞ্চে উৎসবের অষ্টম দিন মঞ্চস্থ হবে থিয়েটার বাংলার নাটক ‘ম্যারিজ ফোর্স’।

অজান্তেই সিঁধেল চোর কেনা আর বেচা এসে পড়ে এপারের অচেনা এক রাজ্যে। কিন্তু এ তাদের ওপারের মতো চেনা হাটুয়াগ্রাম বা হট্টমালা নয়। ঝকঝকে তকতকে দেশটার আলিশান বাড়ি, বাগান, ফোয়ারা আর পাকা রাস্তা দেখে তারা অবাক। দেশটার মানুষরাও বড্ড সরল। যা খেতে চাও ইচ্ছে মতো গো গ্রাসে খেয়ে যাও। যা পেতে চাও তা দুইহাত ভরে নিয়ে নাও। কেউ দাম চাইবেনা। কারো যেন কোনো অভাব, দুঃখ, কষ্ট কিচ্ছু নেই। টাকা আর পয়সা তাদের কাছে নিছকই গোল গোল চ্যাপ্টা গয়না এবং চিত্র আঁকা কাগজ।

সোনা-দানার চেয়ে সেখানকার মানুষের প্রিয় হচ্ছে ফুল। তারপরও কেনাবেচার এসবকিছু বিশ্বাস হয় না। সোনা-দানা, টাকা-পয়সার প্রয়োজন নেই এমন কোনো মানুষ আছে নাকি! তারা ঠিককরে আলাভোলা মানুষ গুলোর সরলতার সুযোগে কিছ ুজিনিস চুরি করে পালিয়ে যাবে অন্য কোথাও। তাইতো স্টিলের প্লেট গ্লাস চুরি করতে ভোজনালয়ের সিঁদ কাটে তারা। কিন্তু আশ্চর্য হলো, সিঁদ কেটে ধরাপড়ে ও তাদের কেউ চোরবলে মারধর বা গালমন্দ করেনা।

আসলে চুরি করা কাকে বলে সে দেশের মানুষরা তা জানেনা। তার বদলে সবাই কাজ করে। কাজ করেই তারা নিজেদের জন্য বানিয়ে নেয় সবকিছু। আর এভাবেই বিচিত্র ঘটনাবলীর মাধ্যমে কেনাবেচার জীবনে উন্মোচিত হতে থাকে এক নতুন পথ।

বিশ্বব্যাপী সা¤্রাজ্যবাদ আর পুঁজির বিস্তার যখন মানুষকে নামিয়ে দিচ্ছে অর্থ-বাজারের নষ্ট প্রতিযোগিতায় তখন হট্টমালার ওপারে যেন আমাদের স্বপ্নের গ্রাম। যেখানে মানুষ তার নিত্যপ্রয়োজনীয় কিছুর জন্য অর্থ নয়, নির্ভরশীল হয় ভালোবাসার। নিজেরা কাজের মধ্য দিয়েই নিজেদের জীবনমান উন্নত করে। যার যার সামর্থ্য মতো কাজ করে সবাই, কিন্তু ভোগ করে সবাই সমানভাবে। বৈষম্যহীন এক সাম্যবাদী সমাজের কাছে নিয়ে যায় ‘হট্টমালার ওপারে’।

নাটক শেষে অংশগ্রহণকারী দলের হাতে উৎসব স্মারক ও পোস্টার তুলে দেন ইলেকট্রকি মিডিয়া জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি বাপ্পা ঘোষ চৌধুরী, সম্মিলিত নাট্য পরিষদ সিলেটের প্রধান পরিচালক অরিন্দম দত্ত চন্দন, পরিচালক চম্পক সরকার ও সভাপতি মিশফাক আহমদ চৌধুরী মিশু। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন নাট্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রজত কান্তি গুপ্ত।

২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই নাট্য প্রদর্শনীতে সিলেটের ১৪টি নাট্য সংগঠন তাদের প্রযোজনা নিয়ে অংশগ্রহণ করছে। আগামি ১০ মার্চ পর্যন্ত প্রতিদিন কবি নজরুল অডিটোরিয়ামে সন্ধ্যা ৭টায় নাটক মঞ্চস্থ হবে।

শেয়ার করুন