সিলেট প্রেসক্লাবে সম্মাননায় ভুষিত হলেন আমজাদ হোসাইন

সিলেটের সকাল ডেস্ক :: সিলেটের শতবর্ষের সাংবাদিকতার স্মারক প্রতিষ্ঠান সিলেট প্রেসক্লাবে সদ্য প্রতিষ্ঠিত ‘সিলেট প্রেসক্লাব-লুৎফুর লায়লা ফাউন্ডেশন সাংবাদিক সম্মাননা’য় ভুষিত হলেন সিলেটের সিনিয়র সাংবাদিক মুহাম্মদ আমজাদ হোসাইন। শনিবার এক বর্ণিল আয়োজনের মধ্য দিয়ে তাঁর হাতে এই সম্মাননা তুলে দেয়া হয়।

সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, সাংবাদিকরা সমাজের অগ্রসর শ্রেণীর অংশ। আর্তসামাজিক উন্নয়ন, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তন, মানবিক মুল্যবোধ জাগ্রত করাসহ সত্য ন্যায়ের ঝান্ডা নিয়ে যারা এগিয়ে যান সাংবাদিকরা তাদেরই অংশ। দেশ ও জাতির কল্যাণে আরো জোরালো ভুমিকা রাখার জন্য এই অগ্রসর সমাজকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যেতে হবে।

আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, সিলেট প্রেসক্লাব তাদের ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় একের পর এক প্রশংসনীয় কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে অগ্রজদের সম্মান প্রদর্শনের কর্মসূচি সবার দৃষ্টি কেড়েছে। সাংবাদিক মুহাম্মদ আমজাদ হোসাইন’কে সম্মাননা প্রদান প্রেসক্লাবের সমৃদ্ধ সংস্কৃতিকে আরো গৌরবান্বিত করেছে।

সিলেট প্রেসক্লাবের আমীনূর রশীদ চৌধুরী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সময় টেলিভিশনের ব্যুরো প্রধান ইকরামুল কবির।

সাধারণ সম্পাদক ও একাত্তর টেলিভিশনের সিলেট ব্যুরো প্রধান ইকবাল মাহমুদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি হারুনুজ্জামান চৌধুরী, আজীবন সদস্য কলামিস্ট আফতার চৌধুরী, প্রবাসী সাংবাদিক নজরুল ইসলাম বাসন, সিলেট প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি এনামুল হক জুবের, সহ সভাপতি এম এ হান্নান, সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক সিলেটের ডাক এর বার্তা সম্পাদক সমরেন্দ্র বিশ্বাস সমর, সাবেক সহ সভাপতি ও দৈনিক জালালাবাদের নির্বাহী সম্পাদক আব্দুল কাদের তাপাদার, দৈনিক সিলেটের ডাক এর সিনিয়র সাব এডিটর আব্দুস সবুর মাখন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাংস্কৃতিক সম্পাদক আবুল কালাম, সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক কোষাধ্যক্ষ খালেদ আহমদ, মোঃ আফতাব উদ্দিন ও কবির আহমদ সোহেল, সিলেট কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের সহ সভাপতি গল্পকার সেলিম আউয়াল, সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক পাঠাগার ও প্রকাশনা সম্পাদক এডভোকেট আব্দুল মুকিত অপি, সিলেট প্রেসক্লাবের ক্রীড়া ও সংস্কৃতি সম্পাদক নূর আহমদ, সাবেক ক্রীড়া ও সংস্কৃতি সম্পাদক আহবাব মোস্তফা খান, সিনিয়র সদস্য গোলাম মর্তুজা বাচ্চু। শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন সিনিয়র সদস্য মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক।

সিলেট প্রেসক্লাবের প্রাক্তন সদস্য, বর্তমানে যুক্তরাজ্য প্রবাসী সাংবাদিক এনাম চৌধুরী তার পিতা-মাতার নামে ‘লুৎফুর- লায়লা ফাউন্ডেশন’ প্রতিষ্ঠা করেছেন। প্রেসক্লাবের সাথে সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী এ ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে প্রতি বছর প্রেসক্লাবের সদস্যভুক্ত একজন খ্যাতিমান সাংবাদিককে সম্মাননা প্রদান করা হবে। প্রথমবার এ সম্মাননার জন্য সিনিয়র সাংবাদিক মুহাম্মদ আমজাদ হোসাইনকে মনোনীত করে প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটি । সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী সাংবাদিক এনাম চৌধুরীর বাবা হাফিজ মাওলানা লুৎফুর রহমান চৌধুরী।

সিনিয়র সাংবাদিক মুহাম্মদ আমজাদ হোসাইনের সম্মাননা প্রদান উপলক্ষে শনিবার দুপুরে নবীণ প্রবীণ সাংবাদিকদের মিলন মেলায় রূপ নিয়েছিলো সিলেট প্রেসক্লাবের আমীনূর রশীদ চৌধুরী মিলনায়তন। সবাই প্রবাসী সাংবাদিক এনাম চৌধুরী ও সিলেট প্রেসক্লাবের যৌথ উদ্যোগের প্রশাংসা করেন। সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, সিলেট প্রেসক্লাব-লুৎফুর লায়লা ফাউন্ডেশনের সাংবাদিক সম্মনানার প্রবর্তন করে প্রবাসী সাংবাদিক এনাম চৌধুরী বাবা-মার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের অনন্য নজির সৃষ্টি করেছেন। মেয়র প্রেসক্লাবের অগ্রযাত্রায় তার সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে জানান।

সিলেট প্রেসক্লাবের প্রাক্তন সভাপতি হারুনুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ঐক্য এবং ঐতিহ্য তথা সাংবাদিকদের মর্যাদা বৃদ্ধি ও উন্নয়নে এখনো মরহুম আমীনুর রশীদ চৌধুরী ও মরহুম বোরহান উদ্দিন খানকে সবাই মনে রাখে। নিজের এবং কমিউনিটির মর্যাদা রক্ষায় সাংবাদিকদের সচেতন থাকার আহবান জানান তিনি। বিশেষ করে আমজাদ হোসাইনের মত সাদা মনের সাংবাদিককে সম্মাননা প্রদানের জন্য তিনি প্রেসক্লাবের উদ্যোগের প্রশংসা করেন।

অনুভুতি ব্যক্ত করতে গিয়ে সম্মাননাপ্রাপ্ত সাংবাদিক মুহাম্মদ আমজাদ হোসাইন আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, প্রেসক্লাবের এই সম্মাননা তাঁর জীবনের সেরা পাওয়া। তিনি বলেন, জীবনের ফেলে আসা দিনগুলোতে কখনো সত্য ন্যায় থেকে বিচ্যুত হননি। কি পেয়েছেন, কী পাননি তা নিয়ে কখনো ভাবার সময় হয়নি। তিনি বলেন, ভালোবাসা পেলে মানুষ ঘুরে দাড়ায়, সত্য পথে এগিয়ে চলে, সুস্থ হয়ে উঠে। তেমনি সমাজের আশপাশের মানুষের ভালোবাসায় আমি বারবার শারিরিক সুস্থতা পেয়ে আপনাদের সামনে ফিরে এসেছি।

সিলেট প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহসভাপতি এনামুল হক জুবের তার বক্তব্যে সম্মাননাপ্রাপ্ত সাংবাদিক আমজাদ হোসাইনের বর্নাঢ্য জীবনের নানা দিক তুলে ধরেন।

সিলেট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল মাহমুদ প্রেসক্লাবের ভবিষ্যত পরিকল্পনা ও সম্মাননাসহ অগ্রজ এবং নবীনদের সেতুবন্ধন সৃষ্টিতে নানা উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।

সভাপতির বক্তব্যে সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকরামুল কবির বলেন, প্রেসক্লাব তাঁর ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় এগিয়ে যাচ্ছে। অব্যাহত কার্যক্রমের একটি অংশ ‘সিলেট প্রেসক্লাব-লুৎফুর লায়লা ফাউন্ডেশন সাংবাদিক সম্মাননা’।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মতিন উদ্দিন জাদুঘরের প্রতিষ্ঠাতা ডাঃ মোস্তফা শাহজামান বাহার, প্রেসক্লাবের সাবেক সহ-সভাপতি আতাউর রহমান আতা, কোষাধ্যক্ষ শাহাব উদ্দিন শিহাব, পাঠাগার ও প্রকাশনা সম্পাদক খালেদ আহমদ, কার্যনির্বাহী সদস্য দিগেন সিংহ, সদস্য চৌধুরী দেলওয়ার হোসেন জিলন, ছিদ্দিকুর রহমান, মো. আমিরুল ইসলাম চৌধুরী এহিয়া, মুহাম্মদ তাজ উদ্দিন, খায়রুল জাফর চৌধুরী, মো. দুলাল হোসেন, মো. মনির আহমদ, নাজমুল কবীর পাভেল, আবু সাঈদ মো. নোমান, মো. কামরুল ইসলাম, মুনশী ইকবাল, ইউনুছ চৌধুরী, নৌসাদ আহমেদ চৌধুরী, শেখ আব্দুল মজিদ, মো. আব্দুল মোমিন ইমরান, মো. করিম মিয়া, আবুল কালাম কাওছার, সহযোগী সদস্য মাসরুর রাসেল ও শিপন আহমদ প্রমুখ।

শেয়ার করুন