সিলেটে হঠাৎ কালবৈশাখী, বিদ্যুৎ বিপর্যয়

ছবি: সিলেটের সকাল

সিলেটের সকাল রিপোর্ট :: ঘড়িতে বিকেল চারটা। সিলেট নগরের প্রাণকেন্দ্র জিন্দাবাজার। সন্ধ্যা হতে এখনও দুই ঘন্টা বাকি। তবে ওই সময়েই জলে উঠেছে সকল বিপনী-বিতান আর শপিং মলের আলোকবাতি। সড়কেও হেডলাইট জালিয়ে চলছে যানবাহন। সন্ধ্যা না হলেও আকষ্মিক কালবৈশাখীর কারণে বিকেলেই রাতের পরিবেশ বিদ্যমান হয়েছিল নগরীতে।

রোববার মৌসুমের প্রথম কালবৈশাখী ঝড় হয়েছে সিলেটে। দিনভর ভ্যাপসা গরম থাকলেও বিকেল চারটার কিছুক্ষণ আগেই আকাশ অন্ধকার হয়ে আসে। আকাশের কালো মেঘ ছুটতে শুরু করে দিক-বিদিক। হঠাৎ তীব্র বেগে ঝড়ো হাওয়া, বিদ্যুৎ চমকানো ও ক্ষণিকের মধ্যেই মুষলধারে বৃষ্টিপাত শুরু হয়। আকস্মিক বৃষ্টিতে অনেকেই কাকভেজা হন। তবে এ বৃষ্টিপাত বেশিক্ষণ স্থায়ী ছিলনা। এরপর সন্ধ্যার দিকেও আকষ্মিক ঝড়ো হাওয়া বয়ে গেছে নগরে।

ছবি: সিলেটের সকাল

নগরী ছাড়াও জেলার বিভিন্ন উপজেলার উপর দিয়েও ঝড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টি হয়েছে। কোন কোন স্থানে শিলাবৃষ্টিও হয়েছে বলে উপজেলা প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন।.

এদিকে প্রথম ঝড়েই বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দেয় সিলেটে। ঝড়ে বিদ্যুতের লাইনের ওপর গাছের ঢাল পড়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বিদ্যুত সংযোগ। ফলে বেশ কয়েক ঘন্টা অন্ধকার থাকে পুরো নগরী। যদিও সন্ধ্যার পর কিছু কিছু এলাকায় বিদ্যুত সংযোগ স্বাভাবিক হয়। তবে কানাইঘাট, জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট উপজেলার বেশিরভাগ এলাকা এখনও অন্ধকার রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিনিধিরা।

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে আগেই বলা হয়েছিল, ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৭০ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে। ঝড় শেষ হলে প্রকৃতপক্ষে কালবৈশাখী ঝড়ের গতিবেগ নির্ণয় করা যাবে।  দুপুরে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়, বিকেল ৩টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ী দমকা/ঝড়ো হাওয়া ও শিলাবৃষ্টিসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হতে পারে।

আজ সিলেটে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩১ দশমিক ০ ডিগ্রি এবং সর্বনিম্ন ২৩ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। আর ভোর ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ১৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। সোমবার সিলেটে সূর্য উদয় হবে ভোর ৫ টা ৪৫ মিনিটে এবং সূর্য অস্ত যাবে সন্ধ্যা ৬ টা ৯ মিনিটে।

শেয়ার করুন