রাত পোহালেই নির্বাচন: কে হচ্ছেন বালাগঞ্জ উপজেলার কাণ্ডারি!

আবুল কাশেম অফিক, বালাগঞ্জ প্রতিনিধি :: রাত পোহালেই অনুষ্ঠিত হচ্ছে বালাগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভোট। সকাল আটটা থেকে একটানা চলবে বিকেল চারটা পর্যন্ত। উপজেলায় ৬টি ইউনিয়নের ৮০ হাজার ৬শ’ ৯ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদের ১২ প্রার্থীর মধ্য থেকে বেছে নেবেন নতুন কাণ্ডারি।

ইতিমধ্যে উপজেলার সবকটি ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনের সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ করতে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা মাঠে তৎপরতা শুরু করেছেন। গত শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা শেষ হয়। তবে এবারের নির্বাচনে সাধারণ ভোটারদের মাঝে ভোট নিয়ে তেমন আগ্রহ দেখা যায়নি। তবে শেষ মুহুর্তে এসে নির্বাচনে কারা জয়ী হচ্ছেন এ ব্যাপারে আলাপ-আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

এবারের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মূলত লড়াই হবে দুইজনের মধ্যে। তারা হলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত ‘নৌকা’ প্রতীক নিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোস্তাকুর রহমান মফুর, ‘ঘোড়া’ প্রতীকে নিয়ে উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির উপদেষ্টা আব্দাল মিয়া।

এছাড়া ‘আনারস’ প্রতীক নিয়ে বিএনপির যুক্তরাজ্য প্রবাসী নেতা মুহাম্মদ গোলাম রব্বানী এবং ‘লাঙ্গল’ প্রতীক নিয়ে জাতীয় পার্টির আব্দুর রহিম নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে দলীয় সিদ্ধান্তের বাহিরে গিয়ে নির্বাচন করায় ইতিমধ্যে আবদাল মিয়া ও গোলাম রব্বানীকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এদিকে, এবারের নির্বাচনে ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপি না থাকলেও চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দুই বিএনপি নেতা প্রার্থী থাকায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন ‘নৌকা’ প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী মোস্তাকুর রহমান মফুর।

উপজেলা আওয়ামী লীগের ভেতরে লবিং-গ্রুপিং দ্বন্দ্ব থাকলেও বিগত সংসদ নির্বাচনের মতো নৌকা’র প্রার্থীর পক্ষে যেভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করেছেন সেভাবেই মোস্তাকুর রহমান মফুরের বিজয়ের লক্ষ্যে দুটি গ্রুপের নেতাকর্মীরা মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন।

অন্যদিকে তিনভাগে বিভক্ত উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা,বড় একটি অংশ আবদাল মিয়ার সঙ্গে এবং একটি অংশ মুহাম্মদ গোলাম রব্বানীর সঙ্গে রয়েছেন। উপজেলা বিএনপি সভাপতি, সহ-সভাপতি নেতৃত্বাধীন বেশকিছু নেতাকর্মীরা হাইকমান্ডের অনুসরণে নিরবতা পালন করছেন।

তবে বিএনপির এমন দ্বিধাবিভক্তিতার মধ্যেও গতকাল ও আগেরদিন উপজেলা বিএনপির বেশ কিছু নেতাকর্মী কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে আবদাল মিয়াকে নিয়ে শোডাউন করতে দেখা যায়। এতে তার সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসে।

উপজেলা নির্বাচনে জামায়াত, খেলাফত মজলিস, জমিয়তসহ সমমনা ইসলামী রাজনৈতিক দলগুলোর কোনো প্রার্থী না থাকায় তাদের নিরব ভোট যে বাক্সে পড়বে সেখানে ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াতে পারে।

এছাড়া নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫ জন ও সংরক্ষিত মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা রয়েছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা হচ্ছেন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী (টিউবওয়েল), মোঃ সামস উদ্দিন সামস (চশমা), সুজিত চন্দ গুপ্ত বাচ্ছু (বাল্ব), শেখ নুরে আলম (মাইক), সৈয়দ মোস্তাক আহমদ (তালা)।

মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে মোছা. কুলসুমা বেগম (পদ্মফুল), সেবু আক্তার মনি (ফুটবল), ও সুক্তি রানী দাস (কলস)। মহিলা ও পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান এর মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে নির্বাচন কতটুকু অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হচ্ছে এ নিয়ে ভোটার, জনসাধারণ, প্রার্থী ও সমর্থকদের মধ্যে আশঙ্কা কাজ করছে।

শেয়ার করুন