জাফর ইকবালের ওপর হামলার এক বছর পূর্তি আজ

সিলেটের সকাল রিপোর্ট:: বিশিষ্ট কথা সাহিত্যিক ও জনপ্রিয় লেখক অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের ওপর হামলার এক বছর পূর্তি হচ্ছে আজ।

২০১৮ সালের এই দিনে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে রোবটিক প্রতিযোগিতার সমাপনী অনুষ্ঠান চলাকালে হামলার শিকার হন তিনি। তাৎক্ষণিক তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

হামলাকারী যুবক ফয়জুর রহমান ওরফে ফয়জুলকে ঘটনাস্থল থেকেই আটকে পুলিশে দেন শিক্ষার্থীরা। পরদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ ইশফাকুল হোসেন বাদী হয়ে মহানগর পুলিশের জালালাবাদ থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় হামলাকারী ফয়জুর রহমান ওরফে ফয়জুলসহ ৬ জনকে আসামী করে গত বছরের ৬ মে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। বর্তমানে মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে। মামলার ৬ আসামীর মধ্যে ফয়জুল ছাড়া বাকি ৫ আসামী জামিনে রয়েছে বলে পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক বিশ্বপ্রিয় চক্রবর্তী বলেন, ‘রোদ-বৃষ্টির কারণে মুক্তমঞ্চের উপরে ছাতার নিচে অধ্যাপক জাফর ইকবালসহ বিভাগের অন্যান্য সিনিয়র শিক্ষক বসেছিলেন। হঠাৎ ছাতার নিচ থেকে একটা শব্দ হলো, তারপর দেখতে পাই জাফর স্যার উঠে দাঁড়ালেন এবং স্যার এর মাথার দিক থেকে রক্ত বের হচ্ছিল। ওই মুহূর্তে পাশেই ছিল পুলিশের ভাড়া হিসেবে ব্যবহার করা একটি মাইক্রো, স্যারকে আমরা সেখান থেকে উদ্ধার করে দ্রুতই সেই গাড়িতে করে ওসমানী মেডিকেল কলেজে নিয়ে যাই। ’

এ ব্যাপারে মামলার প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা তৎকালীন জালালাবাদ থানার অফিসার ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম স্বপন বলেন, ‘সন্ত্রাসবিরোধ আইন ২০০৯-সংশোধনী ২০১৩ এর ৬(১)(ক)(অ)/৮/৯/১১/১২(ক)/১৩ এর ধারায় মামলা দায়ের করা হয়, যার অভিযোগপত্র নম্বর-৬১। মামলায় হামলাকারী ফয়জুলসহ ৬জনকে আসামী করা হয়। বাকি আসামীরা হলেন, ফয়েজের বাবা হাফেজ মাওলানা আতিকুর রহমান ও মা মিনারা বেগম, মামা মো. ফজলুর রহমান, ফয়েজের ভাই এনামুল হাসান এবং ফয়েজের বন্ধু মো. সোহাগ মিয়া।’

জালালাবাদ থানার ওসি শাহ হারুনুর রশীদ বলেন, তার জানামতে, এ মামলার আসামীদের মধ্যে কেবল ফয়জুল জেল হাজতে রয়েছে। বাকিরা জামিনে রয়েছে বলে জানান ওসি।

সংবাদ মাধ্যমের সাথে আলাপকালে অধ্যাপক জাফর ইকবাল বলেন, ‘পৃথিবীতে খুব বেশি মানুষ নেই যে, যারা হত্যাকারী তাদের সাথে দেখা করার সুযোগ পেয়েছেন। এটা আমার জন্য বড় অভিজ্ঞতা সেই ছেলেটিকে আমি সামনা সামনি কথা বলার সুযোগ পেয়েছি। এক বছর আগের এই ঘটনা আমি ভুলে গিয়েছি। অনেকে আমাকে জিজ্ঞেস করে যে এই ঘটনার কোনো প্রভাব আমার ওপর পড়ে কিনা। আশ্চর্যজনক যে এই ঘটনার কোনো প্রভাব আমার ওপর পড়েনি এবং আমি দ্রুতই সুস্থ্য হয়ে গেছি।’

শেয়ার করুন