ছুটির দিনে জনস্রোতে ভাসল বাণিজ্য মেলা

সিলেটের সকাল রিপোর্ট :: শুক্রবার ছিল ছুটির দিন। নগরীর শাহী ঈদগাহ’র শেখ রাসেল মিনি ন্টেডিয়ামে বাণিজ্য মেলায় কয়েক সহস্রাধিক মানুষের ভিড়। বড়দের পাশাপাশি মেলায় এসেছে ছোটরাও। কেনাকাটা ছাড়াও তারা বিভিন্ন রাইড উপভোগ করছে। মেতে উঠেছে আনন্দ-উল্লাসে। পরিবার, বন্ধু, আত্মীয় নিয়ে মেলায় এসেছিল অনেকে। ক্রেতা-দর্শনার্থীর স্রোতের কারণে তাই কাঙ্ক্ষিত রূপে ফিরে ৫ম সিলেট আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। এ মেলার আয়োজন করেছে সিলেট মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রিজ।

নগরীর শাহী ঈদগাহে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামে চলছে মাসব্যাপী এ মেলা। মেলায় দেশী-বিদেশী শতাধিক স্টল রয়েছে। রয়েছে শিশুদের জন্য মিনি শিশুপার্ক এবং মোটরবাইকের স্ট্যান শো গেইম অব ডেঞ্জারও। গত ৯ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার দ্বার উন্মোচন হলেও ১৮ মার্চ উপজেলা নির্বাচন থাকায় ও মেলায় আগত স্টল ও প্যাভিলিয়ন সম্পূর্ণ চালু না হয়নি। যে কারণে প্রথম দিকে মেলায় দর্শনার্থীদের উপস্থিতি কম ছিল। তবে, শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে এ মেলার উদ্বোধন করা হয়।

সন্ধ্যায় ঘুরে দেখা গেছে, মেলার প্রবেশপথ আর টিকিট কাউন্টারগুলোর সামনে মানুষের ঢল। ভেতরেও তিলধারণের ঠাঁই নেই। স্টল-প্যাভিলিয়নের কর্মকর্তা-বিক্রয় প্রতিনিধিদের সপ্তাহের অন্যদিনে বেশ অলস সময় কাটাতে দেখা গেলেও শুক্রবার ক্রেতা-দর্শনার্থীর ভিড় সামলাতে দেখা যায় তাদের।

বিভিন্ন স্টল-প্যাভিলিয়নের কর্মকর্তা ও বিক্রয় প্রতিনিধিরা জানান, বেচাকেনার পরিমাণ বেড়েছে । মেলায় প্লাস্টিক, ব্র্যান্ডের পোশাক, হোম টেক্সটাইল, ইলেকট্রনিক্স, খাদ্যপণ্য, ফার্নিচার ও ক্রোকারিজের দোকানে প্রচুর ক্রেতা-দর্শনার্থীর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

এবারের মেলায় রয়েছে দেশ-বিদেশের ৩৫ টি প্যাভিলিয়ন ও ১২০ টি স্টল। আর মেলাটি আর্ন্তজাতিকভাবেই পরিচালিত হচ্ছে। ফলে মেলায় থাইল্যান্ড, ইরান, তুরস্ক, নেপাল, চীন, ভারত, পাকিস্তান সহ বেশ কয়েকটি দেশের প্যাভিলিয়নও রয়েছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।

টিলাগড়ের বাসিন্দা শিউলি আক্তার বলেন, ‘ছুটির দিন হওয়ায় মেলায় এসেছি। কিছু কসমেটিকস পছন্দ হয়েছে তাই কিনে নিয়েছি। বেড়ানো এবং কেনাকাটা একসাথে হয়ে গেলও বলেও মন্তব্য করেন তিনি।’

এদিকে সন্ধ্যার পর মেলায় প্রবেশ ও বহিরাগমন পথ প্রায় অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছিল। মেলায় আসা যানবাহনের চাপে শিল্পকলা একাডেমীর সামন থেকে মেলার মাঠের সামন হয়ে শাহী ঈদগাহ পর্যন্ত সড়কের দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। একারণে এ সড়ক দিয়ে যাতায়তকারীদের এবং মেলায় আগতদের বেশ ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে।

তবে, সেখানে মেলা কর্তৃপক্ষের নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবীদের যানচলাচল স্বাভাবিক রাখতে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।

মেট্রোপলিটন চেম্বারের সচিব জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, প্রতিদিন সকাল ১০টা শুরু হয়ে চলবে রাত ১০টা পর্যন্ত। মেলার প্রবেশ মূল্য ২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর টিকেটের উপর প্রতিদিন রয়েছে র‌্যাফেল ড্র। তাছাড়া প্রতিবন্ধীদের জন্য ফ্রি প্রবেশ টিকেট দেয়া হবে এবং শিশু প্রতিবন্ধীদের জন্য মেলার সকল রাইড থাকবে উম্মুক্ত। মেলায় প্যাভিলিয়ন, মিনি-প্যাভিলিয়ন, রেস্তোরাঁ ও বিভিন্ন পণ্যের জন্য রাখা হয়েছে ১২০টি স্টল।

এছাড়া আগামী ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসে মেলার মাঠে সিলেট মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স ইন্ডাস্ট্রির পক্ষ থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা প্রদান করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

শেয়ার করুন