গোলাপগঞ্জে বিনিয়োগ করতে এসে হয়রানির শিকার প্রবাসী পরিবার

সিলেটের সকাল ডেস্ক :: গোলাপগঞ্জের কানিশাইলে যুক্তরাজ্য প্রবাসী এক বৃটিশ নাগরিকের সম্পত্তি আত্বসাতের চেষ্টা ও ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনায় হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। নিজের স্বজনরা এ চক্রান্ত করছে বলে অভিযোগ করেছেন ওই প্রবাসী। শনিবার সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী গোলাপগঞ্জের কানিশাইল গ্রামের মৃত তমির আলীর পুত্র আব্দুর রহিম।

লিখিত বক্তব্যে আব্দুর রহিম বলেন, ‘সবুজ শ্যামলীমার অপার সম্ভাবনাময় এই দেশ বর্তমান সরকারের বিশ্ব নন্দিত প্রধানমন্ত্রী জাতীর জনক বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে যাচ্ছে। এই উন্নয়নের অভিযাত্রায় একজন গর্বিত সদস্য হওয়ার লক্ষ্যে এবং নিজ দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে সামান্যতম ভূমিকা রাখার মানসে নিজ এলাকায় শিল্প কারখানা প্রতিষ্ঠা করার উদ্দেশ্যে সরকার কর্তৃক অনুমতিক্রমে ‘অরিজিন গ্রুপ’ নামক মিনারেল পানি উৎপাদনের কারখানা এবং নাভানা এল পি জি লিমিটেড এর সহিত চুক্তিনামা সম্পাদন করে গোলাপগঞ্জের ঢাকাদক্ষিণে অরিজিন গ্রুপ স্থাপন করে পাঁচ লক্ষ টাকার প্রাথমিক চুক্তিনামা সম্পাদন করি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রবাসী বাংলাদেশীরা দেশে এসে বিভিন্ন ধরণের শিল্প কারখানা স্থাপন করে চলেছেন। এক্ষেত্রে আমরা সরকারের সার্বিক সহযোগিতা, উৎসাহ ও প্রেরণা পেয়ে যাচ্ছি। তিনি বলেন, আমার এবং আমার পরিবারের ব্যবসা বাণিজ্যের প্রধান লক্ষ্যই হচ্ছে এলাকায় পিছিয়ে পড়া মানুষের কর্ম সংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা। আমরা আগামীতে বৃহত্তর সিলেটের বিভিন্ন এলাকায় অনেকগুলো বাণিজ্যিক প্রকল্প স্থাপনের চিন্তাভাবনা করছি।’

আব্দুর রহিম বলেন, ‘আমার পরিবার যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে বসবাস করে। সঙ্গত কারণে আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তি দেখাশোনা ও দখল রক্ষার জন্য আত্মীয় স্বজনের ওপর ভরসা করতে হয়। কিন্তু দুঃখের বিষয় এক্ষেত্রে অন্যান্য প্রবাসী বিড়ম্বনার মত দুর্ভাগ্য আমাদের কপালেও জুটে। ২০০৬ সালে আমার ভাই আব্দুল মালিক দেশে এসে পৈত্রিক সম্পত্তি চিহিৃত এবং দখলে নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করলে গুটিকয়েক আমাদের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়-স্বজন তা দিতে অস্বীকার করেন ও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। যার ফলে আমার ভাই আব্দুল মালিক বাংলাদেশ সুপ্রীমকোর্ট-এর হাইকোর্ট বিভাগে একটি রিট পিটিশন দাখিল করেন। পরবর্তীতে বিগত ২০০৬ সালের ১৫ অক্টোবর সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ থেকে আমার ভাইয়ের নিরাপত্তার জন্য একটি আদেশ প্রাপ্ত হন। আমার আরেক সহোদর প্রবাসী আব্দুল কাদিরও কুচক্রি মহলের নানান অপতৎপরতায় জীবন নিয়ে শংকিত ও আতংকগ্রস্থ। আমাদের এলাকায় একটি কুচক্রি মহল আমার বাবার মৃত্যুর পর থেকে আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে আমার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরণের হয়রানিমূলক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের প্রভাব দেখিয়ে আমাকে হুমকি-ধামকি, মামলা মোকদ্দমার ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে আসছে। এমনকি আমি যাতে দেশত্যাগ করি সেজন্য প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে যাচ্ছে। এসব কারণে প্রস্তাবিত মিনারেল ওয়াটার প্লান্টটি মুখ থুবড়ে পড়তে যাচ্ছে। আদৌ প্রকল্পটি চালু করতে পারব কি-না সে বিষয়ে আমরা যথেষ্ট সন্দিহান।’

সংবাদ সম্মেলনে আব্দুর রহিম আশাবাদ ব্যাক্ত করে বলেন, যে বা যারা পর্দার আড়ালে থেকে কুচক্রি মহলকে শক্তি দিয়ে সহযোগিতা করছেন নিশ্চয়ই একদিন দেশ ও জাতির সামনে তাদের স্বরূপ উন্মোচিত হবে। তিনি তার ব্যবসা বাণিজ্য পরিচালনায় স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ এলাকাবাসির সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, আব্দুর রহিমের ভাই প্রবাসী আব্দুল কাদির, আইনজীবি সাজেদুল ইসলাম সজীব, মহিউদ্দিন লিটন, মাহমুদ আহমদ প্রমুখ।

শেয়ার করুন