ক্রাইস্টচার্চে হামলার নিন্দা বিশ্ব নেতাদের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুই মসজিদসহ কয়েকটি স্থানে দুই সন্ত্রাসীর বর্বরোচিত হামলায় অন্তত ৪৯ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন বিশ্ব সম্প্রদায়ের নেতারা।

শুক্রবার (১৫ মার্চ) স্থানীয় সময় বেলা ১টা ৩০ মিনিটে ক্রাইস্টচার্চে হ্যাগলি ওভাল মাঠের খুব কাছে অবস্থিত ডিনস অ্যাভ মসজিদ, লিনউড মসজিদে এবং আরেকটি স্থানে এ হামলা হয়।

হামলার ঘটনায় শোক প্রকাশ করে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেন, সব ধরনের চরমপন্থা ও এ জাতীয় কর্মকাণ্ডসহ সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধেই ফ্রান্সের অবস্থান। মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে এক হয়ে এসব সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধেই কাজ করে থাকে ফ্রান্স।

আরেক বিবৃতিতে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেটনো মারসুদি বলেছেন, হামলার ঘটনায় হতাহত এবং তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে দেশটির সরকার ও জনগণ।

একইসঙ্গে ক্রাইস্টচার্চে হতাহতদের মধ্যে ইন্দেনেশিয়ার কোনো নাগরিক রয়েছেন কি-না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এর আগে মারসুদি বলেছিলেন, ক্রাইস্টচার্চের সেই মসজিদে ছয়জন ইন্দোনেশীয় নাগরিক ছিলেন। হামলার সময় তিনজন পালাতে পারলেও, অপর তিনজনের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

হামলাটির নিন্দা জানিয়ে বিবৃতিতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ আরেক দেশ মালয়েশিয়ার ক্ষমতাসীন সরকার জোটের নেতৃত্বাধীন দলের নেতা আনোয়ার ইব্রাহিম।

হামলাটিকে মানবতাবিরোধী উল্লেখ করে তিনি বলেন, হামলার ঘটনায় হতাহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।

হামলায় একজন মালয়েশিয়ান নাগরিক আহত হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

হামলাটিকে ‘বর্ণবাদী ও ফ্যাসিস্ট’ হিসেবে আখ্যায়িত করে টুইট বার্তায় তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ানের মুখপাত্র ইব্রাহিম কালিন বলেন, হামলাটির মাধ্যমে ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে শত্রুতাই বোঝা যায়।

তিনি বলেন, আগেও আমরা ইসলাম ধর্মের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আলোচনা দেখেছি এবং এতে বহু মুসলমানও বিপথগামী এবং খুনের মতো জঘন্য অপরাধের মতাদর্শের অধীনে চলে গেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার টুইটার বার্তায় বলেন, ‘মসজিদে ভয়ঙ্কর হত্যাকাণ্ডের পর নিউজিল্যান্ডের জনগণের প্রতি আমার উষ্ণ সমবেদনা এবং শুভকামনা। ৪৯ জন নিরীহ মানুষ এমন কাণ্ডজ্ঞানহীন (ঘটনায়) মারা গেলেন, আরও অনেকে গুরুতর আহত হলেন। নিউজিল্যান্ডের পাশে থেকে যুক্তরাষ্ট্র তার সাধ্যের মধ্যে সম্ভব করবে। স্রষ্টা সবার সহায় হোন।’

আরেক টুইট বার্তায় অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও ফিজিতে নিযুক্ত আফগান রাষ্ট্রদূত ওয়াহিদুল্লাহ ওয়িইসি বলেছেন, জঘন্য এ হামলার ঘটনায় তিনজন আফগান নাগরিক আহত হয়েছেন।

এতে আফগান জাতির যারা হতাহত হয়েছেন, তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনাও প্রকাশ করেছেন তিনি।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মোহাম্মাদ ফয়সাল টুইটে বলেছেন, নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের জঘন্য এ হামলায় শোক প্রকাশ করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কোরায়শী।

এদিকে, মর্মান্তিক এ হামলায় নিউজিল্যান্ডে চলমান দুঃসময়ে দেশটির পাশেই রয়েছেন বলে জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ান প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, চরমপন্থীদের এ হামলায় আমরা গভীরভাবে শোকাহত। সেসময় হামলাটির মূল হামলাকারী ব্রেন্টন ট্যারেন্ট অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক, তা নিশ্চিত করেন তিনি।

দু’দেশের সম্পর্কের ব্যাপারে মরিসন বলেন, আমরা শুধু সহযোগী দেশই নই। আমরা একটি পরিবার।

হামলার ঘটনায় নিহতদের মধ্যে দুই বাংলাদেশিও রয়েছেন বলে ঢাকার সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন নিউজিল্যান্ডের পাশ্ববর্তী দেশ অস্ট্রেলিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম সুফিউর রহমান।

আহত ৪৯ জনের মধ্যেও একাধিক বাংলাদেশি রয়েছেন বলে খবর মিলেছে। তবে হামলার ঘটনায় অল্পের জন্য বেঁচে গেছেন দেশটিতে সফররত বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা।

শেয়ার করুন