‘ওসমানীনগরে বৃদ্ধ আনিছ উল্যাহকে অর্থের লোভে খুন করা হয়’

ডেস্ক রিপোর্ট ॥ ওসমানীনগরে কানাডা প্রবাসীর বাড়ির কেয়ারটেকার বৃদ্ধ আনিছ উল্লাহ ওরফে অনিক হত্যার রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। অর্থের লোভে তাকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। সিলেট জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও মিডিয়া অফিসার মো: মাহবুবুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গত রোববার রাতে হাত-পা বাঁধা ও মুখ থেতলানো অবস্থায় কানাডা প্রবাসী আলা উদ্দিনের বাড়ির পানির ট্যাংকি থেকে বাড়ির কেয়ারটেকার আনিছ উল্লাহ ওরফে অনিক (৫০) এর লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পরদিন সোমবার নিহতের স্ত্রী আফসা বেগম বাদী হয়ে ওসমানীনগর থানায় মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওসমানীনগরের দিগল গয়াছপুর গ্রামের আজমল আলীর পুত্র সুমন আহমদ (৩০), মঙ্গলপুর গ্রামের মো. ইব্রাহীমের পুত্র শাওন মিয়া (৩৫) কে গ্রেপ্তার করে। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে শেরপুর থেকে গ্রেফতার করা হয় হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার সোরাবই গ্রামের প্রয়াত আবু মিয়ার পুত্র নানু মিয়া (২৪) কে।
নিহতের স্ত্রী জানান, গত রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে তার স্বামীর মোবাইলে কল করে না পেয়ে প্রবাসীর বাসায় যান তিনি। এ সময় দরজা তালাবদ্ধ দেখে তিনি পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ বাসায় ঢুকে ছাদের পানির ট্যাংকি থেকে আনিস উল্লাহর হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার করে।
জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা জানায়, আনিস উল্লাহ মসজিদ বা বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে টাকা-পয়সা দান করেন। আসামি সুমন অনেক লোকের কাছ থেকে টাকা ধার নিয়ে শোধ করতে না পেরে পলাতক অবস্থায় ছিল। ১৭ মার্চ রোববার শেরপুর বাজারে একটি চায়ের দোকানে বসে সুমন শাওন ও নানুর সাথে তাকে অপহরণ করে টাকা আদায়ের ছক করতে থাকে। সুমন তাদের বলে, তাজপুরের একজন লোকের কাছে সে ১৫ লক্ষ টাকা ও ১৫ ভরি সোনা পায়। কিন্তু সেই লোক তাকে এ টাকা ও সোনা ফিরিয়ে দিতে নানা টালবাহানা করছে। তাই, তাকে হত্যা করতে পারলে সুমন তাদের মোটা অঙ্কের টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেখায়।
রাত ৮টার দিকে তারা প্রবাসী আলা উদ্দিনের বাসায় যায়। নানু ও শাওনকে প্রবাসীর বাসায় রেখে সুমন বাসা ভাড়া নেওয়ার কথা বলে কেয়ারটেকার আনিস উল্লাহকে তার বাসা থেকে ডেকে আনে। তিনজন মিলে প্রবাসীর বাসার ভিতরে ঢুকে সকল কক্ষ দেখতে থাকে। এমন সময় সুযোগ বুঝে গামছা দিয়ে আনিস উল্লাহর মুখ বেঁধে ফেলে। তার হাত-পা বেঁধে শরীরের বিভিন্ন স্থানে কিল-ঘুষি মারতে থাকে। এরপর সুমন ও নানু তার গলায় ফাঁস লাগিয়ে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে।
পরে ছাদে পানির ট্যাংকির ভেতর তার লাশ লুকিয়ে রাখে। এরপর আসামিরা ঘণ্টাখানেক বাসার ভেতরে অবস্থান করে। তারা কেয়ারটেকারের স্ত্রী আফসা বেগমকেও মেরে ফেলার পরিকল্পনা করে। সুমন ও শাওন ওই বাসা থেকে বের হয়ে বাসার আশেপাশে ঘুরাঘুরি করতে থাকে। পরে তারা ভিকটিমের স্ত্রীকে হত্যার সুযোগ না পেয়ে চলে যায়। সন্দেহভাজন আরও দুই আসামিকে ধরতে ওসমানীনগর থানা পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে বলেও জানানো হয়।

শেয়ার করুন