এক মঞ্চে মোমেন-আরিফ-মিসবাহ-আসাদ-আজাদ

সিলেটের সকাল রিপোর্ট :: রাজনৈতিক লড়াইয়ে বৈরিতা থাকলেও সিলেট নগরের উন্নয়নে এক মঞ্চে উঠেছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতারা। হাতে হাত রেখে উন্নয়নের জন্য ঐক্যবদ্ধ থাকারও ঘোষণা দেন তারা। শুক্রবার বিকেলে সিলেট নগরীর ঘাসিটুলায় উন্নয়ন কাজের ভিত্তিপ্রস্তর ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য ড. এ কে আবদুল মোমেন। এ অনুষ্ঠানের মঞ্চে অতিথি হিসেবে ছিলেন সিলেট সিটি মেয়র ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আরিফুল হক চৌধুরী, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ, সিটি কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা আজাদুর রহমান আজাদ, কাউন্সিলর তারেক উদ্দিন তাজ।

অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে তারা সবাই হাত তুলে ঐক্যবদ্ধ থাকার ঘোষণা দেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, ‘উন্নয়নের ক্ষেত্রে কোন দল নেই, উন্নয়ন সবার জন্য। প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য উন্নয়ন চান। সিলেট নগরীর উন্নয়নে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। আমরা যদি সকলে একসাথে হাত ধরে কাজ করি, তাহলে ‘নাথিং কেন স্টপ আজ’ (অর্থাৎ, কোন কিছুই আমাদের দমাতে পারবে না)।’

তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশে উন্নয়ন কাজ শুরু হয়ে শেষ হতে অনেক দেরি হয়। যে কারণে উন্নয়ন যে হারে হওয়া দরকার তা হয় না। সিলেট নগরীর ছোটবড় সব উন্নয়ন প্রকল্প দ্রুত শেষ করা দরকার। এজন্য সব দলমতের উর্ধ্বে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। স্থানীয় প্রতিনিধিদের এ বিষয়ে তদারকি করতে হবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী উন্নয়নের ব্যাপারে খুবই আন্তরিক। আমি তাঁর অধীনে কাজ করতে পেরে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি।

ড. এ কে আব্দুল মোমেন ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক চারলেন-এ উন্নীত করা, সিলেট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন, সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনসহ বড় বড় প্রকল্প যথাসময়ে শেষ করতে তাঁর সদিচ্ছার কথা উল্লেখ করে বলেন, এ কাজগুলো হয়ে গেলে সিলেটের উন্নয়নের পথ প্রসারিত হবে। মানুষকে সহজ সেবা দেওয়া সম্ভব হবে।

নির্বাচনের পর সিলেট নগরের নতুন ১৪টি প্রাইমারি স্কুল ও ৩টি মাদরাসার অনুমোদন চাওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ৮টি স্কুলের অনুমোদন ইতোমধ্যে হয়ে গেছে। যেখানে স্কুল প্রয়োজন আমি তা করে দেবো। আপনারা কেবল জায়গার ব্যবস্থা করবেন।

ফ্লাইট বন্ধ থাকায় নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধি পাঠানো যাচ্ছে না জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, ক্রাইস্টচার্চ শহরে মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ও আহতদের খোঁজ নিতে ও তাদের সহজে সেবা দিতে শনিবার সকালে তিনজন প্রতিনিধি পাঠানো হবে। এর মধ্যে নিউজিল্যান্ডের রাজধানি অকল্যান্ডে অবস্থানরত বাংলাদেশের অনারারি কনসাল জেনারেল ইঞ্জিনিয়ার শফিকুর রহমান এবং অস্ট্রেলিয়ার ক্যানভেরা থেকে বাংলাদেশ হাইকমিশনের দুইজন সেখানে যাবেন।

ঘন্টায় ঘন্টায় সেখানের খোঁজ নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, বিশেষভাবে উল্লেখ্য, ক্রাইস্টচার্চে আমাদের ক্রিকেট টিম অবস্থান করছে, যারা এ ঘটনার সময় নামাজের জন্য মসজিদে যাচ্ছিল। কিন্তু, আমাদের সৌভাগ্য যে, তারা মসজিদে পৌঁছার আগে হামলার তথ্য পেয়ে হোটেলে নিরাপদে ফিরে গেছে। তাদেরকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দিচ্ছে সেদেশের আইনশৃংখলা বাহিনী ও সরকার। খেলোয়াড়দের তাড়াতাড়ি বাংলাদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনাকে দুঃখজনক উল্লেখ করে নিহত মুসলমানদের মাগফিরাত ও সকলের কাছে দোয়া কামনা করেন।

১০নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি জালাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন কাউন্সিলর ইলিয়াছুর রহমান ইলিয়াছ, স্থানীয় কাউন্সিলর তারেক উদ্দিন তাজ, তৌফিকুল হাদী, আব্দুল মুহিত জাবেদ, সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর মাসুদা সুলতানা, সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান, সিলেট মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক আলম খান মুক্তি, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারি ও আওয়ামী লীগ নেতা জাবেদ সিরাজ প্রমুখ।

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ১০নং ওয়ার্ডের ‘এমজিএসপি’ প্রকল্পের আওতায় ঘাসিটুল-লামাপাড়া-মোল্লাপাড়া হয়ে সুরমা নদী পর্যন্ত আরসিসি ড্রেন নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এর আগে ও পরে মন্ত্রী নগরীর ৮নং ওয়ার্ডে গোয়ালিছড়া, কালীবাড়ী ছড়া, ১নং ওয়ার্ডে মালনীছড়া, মিরের ময়দান, ২নং ওয়ার্ডে রিকাবীবাজার ৪নং ওয়ার্ডের দর্শনদেউড়ি ও দরগাহ মেইন রোড, ১৪নং ওয়ার্ডে চালিবন্দর ও ২০ নং ওয়ার্ডে বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ পরিদর্শন করেন।

শেয়ার করুন