সিলেটবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানালেন মুক্তাদির

সিলেটের সকাল ডেস্ক :: সিলেট-১ (সিটি কর্পোরেশন ও সদর উপজেলা) নির্বাচনী আসনের দলীয় নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের ভোটার ও নাগরিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন সদ্য সমাপ্ত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনের বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী দলটির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত প্রহসনের নির্বাচনে সারা দেশের মানুষের মত আমিও সংক্ষুব্ধ-মর্মাহত। সিলেট-১ নির্বাচনী এলাকার সর্বস্তরের মানুষ দেখেছেন কিভাবে আমাদের নিশ্চিত বিজয় ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। প্রশাসন ও আওয়ামী লীগের যৌথ উদ্যোগে স্বাধীন জনমত ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের কবর রচিত হয়েছে গত ৩০ ডিসেম্বর। ইনশাআল্লাহ, অদূর ভবিষ্যতে এদেশের মানুষ এই অপকর্মের সমুচিত জবাব দেবেন।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের এক মাস আগে থেকে যখন আমরা সিলেট সদর ও মহানগরীতে ধানের শীষের প্রচারণায় নেমেছিলাম, তখন থেকেই আওয়ামী লীগ ও প্রশাসনের চরম বাধার মুখে পড়ি। নির্বাচনের আগের দিন পর্যন্ত একটির পর একটি গায়েবী মামলা বিএনপি, ২৩ দল এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্টভূক্ত দলগুলোর নেতাকর্মীদের গণগ্রেফতার করা হয়েছে। নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি তল্লাশী করে তাদের স্বজনদের নির্যাতন করে এক চরম অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়। এরপরও সিলেট-১ আসনে ধানের শীষের পক্ষে গণজোয়ার থেকে থাকেনি। ফলে, বাধ্য হয়ে সরকার রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে ইতিহাসের কলঙ্কময় সাজানো নির্বাচনের পথ বেছে নেয়।’

খন্দকার মুক্তাদির বলেন, ‘নির্বাচনী প্রচারাভিযানকালে সিলেটের সর্বস্তরের মানুষ ধানের শীষ এবং ব্যক্তিগতভাবে আমাকে যে ভালবাসা প্রদান করেছেন, তাতে আমি বিমোহিত-মুগ্ধ। সিলেটবাসীর এই অভূতপূর্ব ভালবাসায় আমি চিরকৃতজ্ঞতার বাঁধনে আবদ্ধ হয়েছি। ইনশআল্লাহ, আমৃত্যু প্রিয় সিলেটবাসীর হাসি-আনন্দ, দুঃখ-বেদনায় পাশে থেকে এই কৃতজ্ঞতার ঋণ শোধ করতে চেষ্টা করবো।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনী প্রচারাভিযানকালে গত এক মাসে আমাদের অসংখ্য নেতাকর্মী গ্রেফতার হয়েছেন, অনেকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও এবং আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের দ্বারা নির্যাতিত হয়েছেন, পুলিশী তল্লাশীর নামে বাসা বাড়ি তছনছের কারণে অনেকের সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আমাদের অগণিত নেতাকর্মী এখনো কারাপ্রকোষ্টে বন্দি রয়েছেন, সন্ত্রাসী হামলায় আহত অনেকে এখনো শয্যাশায়ী। তাদের সকলের প্রতি আমরা সহমর্মিতা-সমবেদনা। ইনশআল্লাহ আপনাদের ভাই হিসেবে, আপনাদের সন্তান হিসেবে আপনাদের এই দুর্দশার সময়ে আপনাদের পাশে থাকার সর্বাত্মক চেষ্টা করবো।’

খন্দকার মুক্তাদির বলেন, ‘প্রতিটি অন্ধকার রাতের পর আমরা একটি আলোকিত ভোরের অপেক্ষায় থাকি। ৩০ তারিখের প্রহসনের নির্র্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনৈতিক আকাশে যে অন্ধকার কালোরাতের সূচনা হয়েছে, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন চূড়ান্ত সফলতার মাধ্যমে বিএনপি তথা এদেশের গণতান্ত্রিক শক্তি একটি আলোকিত আগামীর সূচনা করবে- সমগ্র দেশবাসীর মত এটি আমারও প্রত্যাশা। ইনশাআল্লাহ, সকল বন্ধুর পথচলায় আমিও সিলেটবাসীর সহযাত্রী হিসেবে থাকবো।’

উল্রেখ্য, গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরকে লক্ষাধিক ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের প্রার্থী ড. এ কে আবদুল মোমেন।

শেয়ার করুন