সংবাদ সম্মেলনে অঝোরে কাঁদলেন বালাগঞ্জের নির্যাতিতা ছাত্রীর মা ॥ সকল অপরাধীকে গ্রেফতারের দাবি

সিলেটের সকাল রিপোর্ট:বালাগঞ্জ উপজেলার দেওয়ানবাজার ইউনিয়নের শিওরখাল মহিলা মাদ্রাসার ৭ম শ্রেণির ছাত্রীকে পাশবিক নির্যাতনকারী সকল অপরাধীকে দ্রুত গ্রেফতার এবং তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন তার মা জয়তেরা বিবি।
শনিবার সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি জানান। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মেয়েটির পিতা স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আতিকুল ইসলাম। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য পাঠ করতে গিয়ে অঝোরে কাঁদেন নির্যাতিতা মেয়েটির বাবা-মা।
লিখিত বক্তব্যে জয়তেরা বিবি বলেন, আমার অপ্রাপ্ত বয়স্ক মেয়েকে গত ২২ নভেম্বর সন্ধ্যায় শিওরখাল গ্রামের নিজ বসতঘরের বারান্দা থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে এলাকার চিহ্নিত অপরাধী আব্দুল আহাদ (২৫) ও আজই মিয়া (৩২) সহ আরও অন্তত ৪ জন মিলে বর্বর পাশবিক নির্যাতন করে। ঘটনার পর খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে রক্তাক্ত শরীরে অজ্ঞান অবস্থায় আমার মেয়েকে উদ্ধার করা হয়। পরক্ষণে তার জ্ঞান ফিরে আসলে তার ওপর নির্যাতনকারী ধর্ষক হিসেবে শিওরখাল গ্রামের আব্দুল করিমের পুত্র আব্দুল আহাদ ও আইয়ুব উল্ল¬ার পুত্র আজই মিয়াকে চিনতে পারার কথা উপস্থিত লোকজনের কাছে প্রকাশ করে। পরবর্তীতে আমার মেয়েকে রাতেই সংকটাপন্ন অবস্থায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জরুরি ভিত্তিতে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসা এবং পরীক্ষা নিরীক্ষা সম্পন্ন হয়। হাসপাতালের রিপোর্টেও আমার মেয়েকে গণধর্ষণের প্রমাণ রয়েছে। এ ঘটনার পরদিন গত ২৩ নভেম্বর আমার স্বামী আতিকুল ইসলাম বাদি হয়ে বালাগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর ০৮। মামলায় ঘটনার সাথে জড়িত এবং এলাকার চিহ্নিত অপরাধী আব্দুল আহাদ ও আজই মিয়ার নাম উল্লে¬খসহ অজ্ঞাত ৪জনকে আসামি করা হয়। পরবর্তীতে পুলিশি অভিযানে গত ২৪ নভেম্বর দুই আসামি আব্দুল আহাদ ও আজই মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য ঘটনার প্রায় দুই মাস অতিবাহিত হলেও জড়িত অন্য কোনো আসামি গ্রেফতার হয়নি।
এ ঘটনার প্রতিবাদে বিভিন্ন কর্মসূচিতে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, আইনজীবী, মানবাধিকার কর্মী, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। ঘটনার পর বিশেষ করে যুক্তরাজ্যে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে বিশিষ্ট মিডিয়া ব্যক্তিত্ব আহমেদ উস সামাদ চৌধুরী জেপি, মানবাধিকার কর্মী আকলিমা বিবিসহ প্রবাসী কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ বক্তৃতা করেন এবং জড়িত সকল অপরাধীর গ্রেফতার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান। এছাড়াও সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী ন্যক্কারজনক এ ঘটনার সংবাদ পেয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আমার মেয়েকে দেখতে যান।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নির্যাতিতা মেয়েটির বাবা জানান, স্থানীয় কিছু সরকার দলীয় নেতাকর্মীর শেল্টারে পুলিশ অপর আসামীদের গ্রেফতার করছে না। এমনকি বশির নামে এক আসামী এলাকায় আসার খবর পেয়ে পুলিশকে দ্রুত সংবাদ দেয়া হয়। পুলিশ আসলেও রহস্যজনক কারণে এ আসামীকে গ্রেফতার না করে চলে যায়। সংবাদ সম্মেলনে জয়তেরা বিবি সকল অপরাধীর গ্রেফতার ও তাদের শাস্তি নিশ্চিত করার ব্যাপারে মামলার যথাযথ তদন্ত এবং ন্যায়বিচার পাওয়ার স্বার্থে সকল মহলের আন্তরিক সহযোগিতা চেয়েছেন। বিশেষ করে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার, সিলেটের জেলা প্রশাসক, সিলেটের পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

শেয়ার করুন