রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশকে ৪২ কোটি টাকা সহায়তা দেবে জাপান

কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবির

সিলেটের সকাল ডেস্ক:: মিয়ানমারে জাতিগত নিধনযজ্ঞ ও গণহত্যা থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের জন্য ৫০ লাখ ডলারেরও বেশি অর্থ সহায়তা দেবে জাপান সরকার। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) এর মাধ্যমে এ সহায়তা পাঠানো হবে। জাপানের পররাষ্ট্র দফতরকে উদ্ধৃত করে দেশটির সংবাদমাধ্যম এনএইচকে খবরটি জানিয়েছে।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর পূর্ব-পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধারার সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রায় ৭ লাখ মানুষ। তারা কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশের সঙ্গে মিয়ানমার প্রত্যাবাসন চুক্তি করলেও এখনও তা বাস্তবায়িত হয়নি। পালিয়ে আসা ৭ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গার মধ্যে কেবল ৮ হাজার জনের তালিকা হয়েছে প্রত্যাবাসনের জন্য। মিয়ানমার প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে না পারায় ফিরে যেতে রাজি হয়নি প্রত্যাবাসন তালিকায় থাকা রোহিঙ্গারাও। ন্যায়বিচার,নাগরিকত্ব এবং নিজ গ্রামে ফেরা ও ভূমির অধিকার ফিরে পাওয়ার দাবি পূরণের আগে মিয়ানমার যেতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে তারা।

জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে উদ্ধৃত করে সেদেশের সংবাদমাধ্যম এনএইচকে জানায়, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য ৫১ লাখ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৪২ কোটি টাকা) সহায়তা পাঠানো হবে। জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা মারাত্মক অপুষ্টিতে ভুগছে। তাদের জন্য শস্য উৎপাদন করতে কৃষকদেরকে এ অর্থ সহায়তা দেওয়া হবে।

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সহায়তার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন জাপানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী তারো কোনো। রোহিঙ্গাদের জীবন মান উন্নয়ন ও মিয়ানমারে তাদের প্রত্যাবাসনে সহায়তা জুগিয়ে যাওয়ারও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য,প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে রোহিঙ্গারা রাখাইনে থাকলেও মিয়ানমার তাদের নাগরিক বলে স্বীকার করে না। উগ্র বৌদ্ধবাদকে ব্যবহার করে সেখানকার সেনাবাহিনী ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে স্থাপন করেছে সাম্প্রদায়িক অবিশ্বাসের চিহ্ন। ছড়িয়েছে বিদ্বেষ। ৮২-তে প্রণীত নাগরিকত্ব আইনে পরিচয়হীনতার কাল শুরু হয় রোহিঙ্গাদের। এরপর কখনও মলিন হয়ে যাওয়া কোনও নিবন্ধনপত্র, কখনও নীলচে সবুজ রঙের রশিদ, কখনও ভোটার স্বীকৃতির হোয়াইট কার্ড, কখনও আবার ‘ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কার্ড’ কিংবা এনভিসি নামের রং-বেরঙের পরিচয়পত্র দেওয়া হয়েছে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মানুষকে। ধাপে ধাপে মলিন হয়েছে তাদের পরিচয়। ক্রমশ তাদের রূপান্তরিত করা হয়েছে রাষ্ট্রহীন বেনাগরিকে।

শেয়ার করুন