পোশাক শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত

টানা শ্রমিক বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে পোশাক শ্রমিকদের মজুরি বৈষম্য দূর করতে নতুন মজুরি কাঠামো ঘোষণা করেছে সরকার। শ্রমিকদের জন্য আগের ঘোষিত মজুরির কয়েকটি গ্রেডে আশানুরূপ মজুরি বৃদ্ধি না পাওয়ায় পোশাক শিল্পের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সরকার ছয় গ্রেডের মজুরি সমন্বয় করেছে বলে রোববার বিকেলে শ্রম মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

রোববার শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ানের সভাপতিত্বে মজুরি সমন্বয়ের এ ঘোষণা দেয়া হয়। এ সভায় সম্মানিত অতিথি হিসেবে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি উপস্থিতি ছিলেন। এই বৈঠকে মালিক-শ্রমিক ও প্রশাসনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সভা সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে ৩, ৪ ও ৫নং গ্রেডের সঙ্গে ১ ও ২নং গ্রেডের মজুরির সমন্বয় করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এর ফলে সমন্বয়ের পর সব গ্রেডে মজুরি বাড়বে। ‍

এর আগে গার্মেন্টস শিল্প দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের খাত হওয়ায় এ শিল্প এবং শিল্প খাতের শ্রমিকদের স্বার্থ সংরক্ষণের বিষয় বিবেচনায় সরকার ত্রিপক্ষীয় মজুরি কমিটি গঠন করে।

এর আগে গত বছর মালিক-শ্রমিকপক্ষের সঙ্গে কথা বলে পোশাক খাতে সর্বনিম্ন ৮ হাজার টাকা মজুরি চূড়ান্তের সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে এ মজুরি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। এ মজুরি কার্যকর নিয়ে শ্রমিকরা আন্দোলন করেন।

সরকারি মজুরি কাঠামো বৃদ্ধি ও বাস্তবায়নের দাবিতে  গত কয়েকদিন ধরেই কাজ বন্ধ রেখে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন পোশাক শ্রমিকরা। এতে পোশাক শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া সড়ক বন্ধ রেখে আন্দোলন, বাস ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও শ্রমিক আহতের ঘটনা ঘটে।

মালিক-শ্রমিক ও প্রশসনের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত ত্রিপক্ষীয় কমিটির বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, প্রথম গ্রেডের একজন কর্মী সব মিলিয়ে ১৮ হাজার ২৫৭ টাকা বেতন পাবেন। ২০১৩ সালের বেতন কাঠামোতে এই গ্রেডের মজুরি ছিল ১৩ হাজার টাকা। ২০১৮ সালে নতুন মজুরি কাঠামোর গেজেটে তা ১৭ হাজার ৫১০ টাকা করা হয়েছিল।

দ্বিতীয় গ্রেডের সর্বমোট বেতন ধরা হয়েছে ১৫ হাজার ৪১৬ টাকা। ২০১৩ সালের বেতন কাঠামোতে এই গ্রেডের বেতন ১০ হাজার ৯০০ টাকা এবং ২০১৮ সালের গেজেটে তা ১৪ হাজার ৬৩০ টাকা করা হয়েছিল।

তৃতীয় গ্রেডের সর্বমোট বেতন ঠিক হয়েছে ৯ হাজার ৮৪৫ টাকা, যা ২০১৩ সালের বেতন কাঠামোতে ৬ হাজার ৮০৫ টাকা এবং ২০১৮ সালের গেজেটে ৯ হাজার ৮৪৫ টাকা করা হয়েছিল।

চতুর্থ গ্রেডের সর্বমোট বেতন ধরা হয়েছে ৯ হাজার ৩৪৭ টাকা। ২০১৩ সালের বেতন কাঠামোতে এই গ্রেডের বেতন ৬ হাজার ৪২০ টাকা ছিল। ২০১৮ সালের নতুন কাঠামোর করা হয়েছিল ৯ হাজার ২৪৫ টাকা।

পঞ্চম গ্রেডে সর্বমোট বেতন ঠিক হয়েছে ৮ হাজার ৮৭৫ টাকা, যা ২০১৩ সালের বেতন কাঠামোতে ৬ হাজার ৪২ টাকা এবং ২০১৮ সালের গেজেটে ৮ হাজার ৮৭৫ টাকা ছিল।

ষষ্ঠ গ্রেডের সর্বমোট বেতন ধরা হয়েছে ৮ হাজার ৪২০ টাকা। ২০১৩ সালের বেতন কাঠামোতে তা ছিল ৫ হাজার ৬৭৮। আর ২০১৮ সালে মজুরি কাঠামোর গেজেটে তা বাড়িয়ে ৮ হাজার ৪০৫ টাকা করা হয়েছিল।

সপ্তম গ্রেডের মজুরি সব মিলিয়ে আট হাজার টাকেই রাখা হয়েছে। ২০১৩ সালের কাঠামোতে সর্বনিম্ন গ্রেডের বেতন ছিল ৫৩০০ টাকা।

টিপু মুনশি বলেন, সংশোধিত এই কাঠামো ২০১৮ সালের ১ ডিসেম্বর থেকেই কার্যকর ধরা হবে। বর্ধিত অংশের টাকা ফেব্রুয়ারির বেতনের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

আগামী সাত দিনের মধ্যে সংশোধিত কাঠামোর গেজেট প্রকাশ করা হবে জানিয়ে শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান জানান বাণিজ্যমন্ত্রী, যিনি নিজেও গার্মেন্ট খাতের একজন উদ্যোক্তা।

তিনি বলেন, শ্রমিকদের অধিকাংশই ভাংচুর চায় না। কাজ করতে চায়। আমি আশা করব, তারা সবাই শান্তিপূর্ণভাবে কাজে যোগ দেবেন।

বৈঠকে উপস্থিত শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধি গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি আমিরুল হক আমিনও সংশোধিত মজুরি কাঠামোকে স্বাগত জানিয়ে শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান জানান।

শেয়ার করুন