অবসরে বই পড়বেন, বই লিখবেন মুহিত

সিলেটের সকাল ডেস্ক :: সদ্য বিদায়ী অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, ‘আমাকে অনেকেই বলেন অবসরে কি করবো। বাংলাদেশে করার কোনো ক্ষেত্রের অভাব নেই। আমার সংগ্রহে ৫০ হাজার বই আছে। এগুলোর সব পড়া হয়নি। এগুলো পড়বো। আর আমি ৩৪টি বই লিখেছি। আরও বই লিখবো।’

সোমবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আমি খুশি এজন্য যে আমাকে ঝেটিয়ে বিদায় করতে হয়নি। অবসর না নিয়ে ঝেটিয়ে বিদায় হয়ে যাওয়ার থেকে অবসর নেওয়া অনেক ভালো। এদিক থেকে আমি খুব সৌভাগ্যবান যে, আমাকে কেউ বিদায় করেনি আমি নিজ থেকেই বিদায় নিয়েছি। এজন্য আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে অত্যন্ত কৃতজ্ঞ। আমি নিজেই আগে অবসরে গিয়েছি। আগামী ২৫ জানুয়ারি আমার ৮৫ বছর হবে। এ বয়সে এসে আমি অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছি গত ১০ বছর। এখনতো আমার অবসর নেওয়ার দরকার।’

 

বিদায়ী অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, এটা আমাদের টানা তৃতীয় পাঁচ বছর। এই পাঁচ বছর শেষে বাংলাদেশ এমন জায়গায় চলে যাবে যে এ গতি কেউ রোধ করতে পারবে না। আমরা গত ১০ বছরে বাংলাদেশের উত্তোরণ ঘটিয়েছি। বিশ্বের কোনো দেশ বাংলাদেশকে আর ভিক্ষুকের দেশ বলতে সাহস পায় না। দেশকে এ অবস্থায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে আমি ভূমিকা রাখতে পেরেছি বলে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করি। তবে এক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ যদি সাড়া না দিত তাহলে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন সম্ভব হতো না। আর প্রশাসন এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

তিনি বলেন, বিশ্বের কাছে বাংলাদেশ আস্থার জায়গায় পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন বিদায়ী অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেন, বাংলাদেশ নিজের যোগ্যতায় বর্তমান অবস্থায় এসেছে। আগে আমাদের ভিক্ষুক ও তলাবিহীন ঝুড়ির দেশ বলা হতো। আমরা সে জায়গা থেকে মধ্যম আয়ের দেশে পৌঁছেছি। এটা সম্ভব হয়েছে দেশের মানুষ ও প্রশাসনের জন্য।

এসময় বিদায়ী অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ও বর্তমান পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, আমি সবার সহযোগিতায় এতদিন দায়িত্ব পালন করেছি। আগামীতেও দায়িত্ব পালন করার জন্য সবার সহযোগিতা চায়।

মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী বলেন, সরকারি অফিসারদের ভালো মানুষ গড়ার কারিগর হচ্ছেন অর্থমন্ত্রী। রাজনীতিতে এ ধরনের লোকের বড় প্রয়োজন। স্যার (মুহিত) আমাদের ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। আমি মনে করি তার জায়গা পূরণ করাটা কঠিন হবে।

অনুষ্ঠানে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম বলেন, অর্থমন্ত্রী আমাদের জন্য বাতিঘর। বাতিঘর যেমন তার কাছে না গেলেও মানুষকে আলো দেয় তেমন তিনি আমাদের মধ্যে না থাকলেও দূর থেকে আমাদের দিকনির্দেশনা দেবেন।

অনুষ্ঠানে অর্থ সচিব আবদুল রউফ তালুকদার, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরসহ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন