ইন্দোনেশিয়ায় সুনামিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৮০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: বেড়েই চলেছে ইন্দোনেশিয়ায় সুনামিতে নিহতের সংখ্যা। সোমবার (২৪ ডিসেম্বর) সংখ্যাটা স্পর্শ করল ২৮০ জনে। শনিবারের (২২ ডিসেম্বর) রাতের ভয়াবহ সুনামিতে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে ইন্দোনেশিয়ার বহু হোটেল, বাড়ি ও সমুদ্র সৈকত সংলগ্ন বিভিন্ন নির্মাণ।

ক্রাকাতোয়ায় অগ্নুৎপাতের জেরে এই সুনামি বলেই জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। এবারের সুনামি কোনও ভূমিকম্পের কারণে হয়নি। সম্ভবত লামপাংয়ের মাউন্ট ক্রাকাতোয়া আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের প্রভাবেই এ দিনের সুনামির কারণ। আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের জেরে ধস থেকেই কম্পন ও তা থেকে সুনামি বলে মনে করা হচ্ছে৷

দেশটির সরকার জানিয়েছে, কোনও রকম পূর্বাভাস ছাড়াই সুনামির কারণে ৩ থেকে ১০ ফুট উঁচু জলোচ্ছ্বাস সৃষ্টি হয়। এর ফলে সুন্দা প্রণালির দ্বীপগুলি ছাড়াও দক্ষিণ সুমাত্রা ও পশ্চিম জাভা প্রদেশের অনেক এলাকা প্লাবিত হয়েছে। দুর্গত অনেক এলাকায় এখনও উদ্ধারকর্মীরা পৌঁছাতে পারেননি। চূড়ান্তভাবে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

ইন্দোনেশিয়ার বিপর্যয় মোকাবিলা সংস্থা জানিয়েছে, রোববার (২৩ ডিসেম্বর) বিকাল ৪টা পর্যন্ত প্রাপ্ত হিসাবে সুনামির কারণে সুমাত্রা ও জাভার সমুদ্র তীরবর্তী এলাকায় ৫৬৬টি বসতবাড়ি ও ৯টি আবাসিক হোটেল বিধ্বস্ত হয়েছে। এছাড়া ৬০টি খাবারের দোকান ও ৩৫০টি নৌকা জলোচ্ছ্বাসে ভেসে গেছে।

ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইডোডো এক টুইট বার্তায় সুনামিতে হতাহতের ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন। পরিস্থিতি মোকাবেলায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে সর্বাত্মক উদ্যোগ নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

ভূপৃষ্ঠের তিনটি মহাদেশিয় প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থানের কারণে ইন্দোনেশিয়া এমনিতেই ভূকম্পন ও অগ্ন্যুৎপাতের বাড়তি ঝুঁকিতে রয়েছে। দেশটিতে রয়েছে কমপক্ষে ১৩০টি অগ্নিগিরি, যা কিনা প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের কথিত অগ্নিবৃত্তের (প্যাসিফিক রিং অব ফায়ার) অংশ।

সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জাবার পাডেংল্যাং অঞ্চলের বানতেন এলাকা। এখানেই রয়েছে উজাং কুলোন ন্যাশনাল পার্ক। ৩৩ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে এই এলাকা থেকেই। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মৃতের সংখ্যা বাড়ছে। দুর্গতদের নিয়ে আসা হয়েছে স্থানীয় মসজিদে। ২০০৪ সালে ভয়ঙ্কর এক সুনামির আঘাতে তছনছ হয়ে যায় ইন্দোনেশিয়া। মারা যান ১,২০,০০০ জন মানুষ।

শেয়ার করুন