স্থাবর সম্পদ নেই ইয়াহইয়ার, গৃহিণী লুনা, চাকুরির পাশাপাশি ব্যবসা করেন মুনতাসির

সিলেট-২ আসনের প্রার্থীদের হলফনামা

সিলেটের সকাল রিপোর্ট :: সিলেটের ছয়টি আসনের মধ্যে একমাত্র নারী প্রার্থী তাহসিনা রুশদীর লুনা পেশায় একজন গৃহিণী। অন্যদিকে জাতীয় পার্টির মো. ইয়াহইয়া চৌধুরী এহিয়ার কোন স্থাবর সম্পদই নেই। আর এমবিএ পাস খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুহাম্মদ মুনতাছির আলী চাকুরির পাশাপাশি একজন ব্যবসায়ীও। তার বিরুদ্ধে একটি মামলা ছিল; যা থেকে তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায় এসব কথা জানিয়েছেন এ তিন প্রার্থী। বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগর উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-২ আসনে বিএনপি, জাতীয় পার্টি, খেলাফত মজলিসসহ অন্যান্য দলের ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে, দশম জাতীয় নির্বাচনের মতো একাদশ সংসদ নির্বাচনেও এ আসনে প্রার্থী দেয়নি ক্ষমতাসিন আওয়ামী লীগ। তারা আসনটি জোট সঙ্গী জাতীয় পার্টিকে ছাড় দিয়েছে। এ আসনের অন্য ৫ প্রার্থীর মধ্যে ৪জনই ব্যবসায়ী এবং একজন নিকাহ রেজিস্ট্রারী (কাজী) বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন।

নির্বাচন কমিশনে প্রদত্ত হলফনামায় বর্তমান সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির ইয়াহইয়া চৌধুরী উল্লেখ করেন, ‘বিশ্বনাথ উপজেলার দেওকলস গ্রামের বাসিন্দা তিনি। পিতার নাম এম এ হাই চৌধুরী। ডিপ্লোমা ইন ল’ পাস করে মৎস ও কৃষি ব্যবসায় নিয়োজিত। ব্যবসা থেকে বছরে ৬ লাখ ৩৫ হাজার টাকা ও সংসদ সদস্যের সম্মানী থেকে ৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা আয় করেন তিনি।’

অস্থাবর সম্পত্তির মধ্যে নিজ নামে নগদ ১৭ লাখ ৬৬ হাজার ৩৬৪ টাকা, ব্যাংকে জমা ৪৩ হাজার ২৮২ টাকা, ৬৩ লাখ ৯৭ হাজার ৭৯৮ টাকা মূল্যের একটি মোটরগাড়ি, ১ লাখ টাকার স্বর্ণালঙ্কার, ২ লাখ টাকার ইলেক্ট্রনিক সামগ্রী ও আসবাবপত্র রয়েছে। তবে পেশা ব্যবসা হলেও তার কোন স্থাবর সম্পত্তি নেই; দেনাও নেই।

এ আসনের হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে পরিচিত  তাহসিনা রুশদীর লুনা বিএনপির ‘নিখোঁজ’ সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলীর স্ত্রী।  তাদের ছেলে আবরার ইলিয়াসও একই আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন; যিনি এলএলবি অনার্স পাস।

বিএনপির প্রার্থী দলটির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা তাহসিনা রুশদীর লুনা হলফনামায় উল্লেখ করেন, ‘তিনি স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) পাস। দুদকের দায়েরকৃত মামলাসহ তিনটি মামলার আসামী থাকলেও সব ক’টিতেই তিনি খালাস পেয়েছেন। পেশায় গৃহিণী। তিনি সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক আমানত থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার ৪৯৬ টাকা এবং চাকরি থেকে আয় করেছেন ১৩ লাখ ৭৫ হাজার ১৩৬ টাকা।

অস্থাবর সম্পদের মধ্যে তার নিজ নামে নগদ আছে ১৫ লাখ ১ হাজার ৬৬৭ টাকা, ১৬ লাখ ৭৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি মোটরগাড়ি, বিবাহের সময় পাওয়া ৫ ভরি স্বর্ণ, ইলেক্ট্রনিক সামগ্রী ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা, ১ লাখ ৩০ হাজার টাকার আসবাবপত্র ও ১ কোটি ৪০ লাখ ৬১ হাজার ৪০২ টাকার অন্যান্য/নীট সম্পদ রয়েছে। এছাড়া তার স্বামীর নামে আছে ব্যাংকে জমা ২১ হাজার টাকা ও ৪৫ লাখ টাকা মূল্যের একটি মোটর গাড়ি। আর নির্ভরশীলদের নামে নগদ ২০ হাজার টাকা ও ব্যাংকে জমা রয়েছে ১৬ হাজার টাকা।

স্থাবর সম্পদের মধ্যে নিজ নামে কৃষি ও অকৃষি জমি আছে ৩২ লাখ ৭৩ হাজার ৯০০টাকা মূল্যের। এছাড়া স্বামীর নামে ১৪ লাখ টাকা মূল্যের কৃষি ও অকৃষি জমি আছে। স্বামীর নামে ঢাকায় দেড় কোটি টাকা মূল্যের একটি বাড়ি রয়েছে। যৌথ মালিকানায় ৩ লাখ ৪২ হাজার টাকা মূল্যের অকৃষি জমি আছে তার। এছাড়া আত্মীয়-স্বজনের নিকট তার ৪২ লাখ ৬৯ হাজার ৮৩৫ টাকা ঋণ রয়েছে।

এমবিএ পাস খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুহাম্মদ মুনতাছির আলী চাকুরির পাশাপাশি একজন ব্যবসায়ীও। তার বিরুদ্ধে একটি মামলা ছিল; যা থেকে তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন। ব্যবসা থেকে তার বছরে আয় ৭ লাখ ১ হাজার ২৭৫ টাকা। আর চাকুরি থেকে আয় ৯ লাখ ২ হাজার ৬০০টাকা। এছাড়া প্রবাসে থাকা ভাই ও বোনের পাঠানো রেমিটেন্স থেকে ১৩ লাখ ২ হাজার ৬০০ টাকা বছরে পান তিনি। তবে প্রবাসে থাকা তার এক বোনের কাছে ১৮ লাখ ৬১ হাজার টাকার দেনা রয়েছে তার।

অস্থাবর সম্পদের মধ্যে প্রার্থীর নিজ নামে আছে ৫৭ লাখ ৫৮ হাজার ৯৮৪ টাকা। এর মধ্যে নগদ আছে ২ লাখ ৫৫ হাজার টাকা, ব্যাংকে জমা আছে ৫ লাখ ১৩ হাজার ৯৮৪ টাকা। তার নিজ নামে শেয়ার আছে ৩৬ হাজার, যার মূল্য ৩৬ লাখ টাকা। ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের ২৫ ভরি স্বর্ণ আছে তার নামে। বীমায় আছে ৩ লাখ টাকা আর তার নিজ নামে ইলেক্ট্রনিক সামগ্রী ও আসবাবপত্র আছে ৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা মূল্যের। এছাড়া অস্থাবর সম্পদ হিসেবে স্ত্রীর নামে নগদ আছে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা ও দেড় লাখ টাকা মূল্যের ১০ ভরি স্বর্ণ।

বিএনপির আরেক প্রার্থী মো. আবরার ইলিয়াসের শিক্ষাগত যোগ্যতা এলএলবি অনার্স। পেশা হিসেবে হলফনামায় ‘নির্ভরশীল’ বলে উল্লেখ করেছেন; যে কারণে তার কোনো আয় নেই। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে ৩৬ হাজার টাকা রয়েছে। যার মধ্যে নগদ বিশ হাজার টাকা ও ব্যাংকে জমা ১৬ হাজার টাকা। স্থাবর সম্পদের মধ্যে যৌথ মালিকানায় ৩ লাখ ৪২ হাজার টাকা মূল্যের অকৃষি জমি আছে।

এইচএসসি পাস ন্যাশনাল পিপলস পার্টি মনোনীত প্রার্থী মো. মনোয়ার হোসেনের পেশায় ব্যবসায়ী। তারও কোনো ধরণের স্থাবর সম্পত্তি নেই।

এইচএসসি পাস বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি মনোনীত প্রার্থী মো. মোশাহিদ খানও পেশায় ব্যবসায়ী। তিনি বছরে দেড় লাখ টাকা আয় করেন। স্থাবর সম্পদের মধ্যে নিজ নামে আছে ০.১২ একর জমি।

স্ব-শিক্ষিত গণফোরামের প্রার্থী মোকাব্বির খান পেশা হিসেবে উল্লেখ করেছেন বিদেশে ব্যবসা। একটি মামলা থাকলেও মামলাটি আদালতে নিষ্পত্তি হয়েছে। এ প্রার্থীর বার্ষিক কোনো আয় নেই। স্থাবর সম্পদের মধ্যে যৌথ মালিকানায় ৪বিঘা কৃষি জমি রয়েছে।

জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম দলের কাজী আমিন উদ্দিন শিক্ষাগত যোগ্যতায় তাকমীল উত্তীর্ণ। এ প্রার্থী পেশায় ওসমানীনগর উপজেলার একটি ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্টার।

এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন আরও চারজন। যাদের সকলেরই মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে বাদ পড়ে। তারা হলেন- পিএইচডি ডিগ্রিধারী অধ্যক্ষ এনামুল হক সরদার, স্নাতকোত্তর পাস মোহাম্মদ আব্দুর রব, অষ্টম শ্রেণি পাস মুহিবুর রহমান এবং স্বশিক্ষিত মো. আমির উদ্দিন।

শেয়ার করুন