সিলেটের সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ চীনা রাষ্ট্রদূত

সিলেটের সকাল রিপোর্ট :: বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সিলেটকে ‘সুন্দরী শ্রীভূমি’ অভিহিত করেছিলেন। কবি প্যারীচরণ দাসও সিলেটের প্রকৃতির সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়েছিলেন। পল্লীকবি জসীমউদ্দীনও সিলেটকে কবিত্বময় পরিবেশের আদি নিবাস বলে আখ্যা দিয়েছিলেন। এ সৌন্দর্যের নগরের তারিফ করলেন সফররত চীনা রাষ্ট্রদূত মি. ঝেং জুঁও। শুধু তাই নয়; এখানকার মানুষের মধ্যকার সম্প্রীতি দেখেও তিনি অভিভূত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরীর একটি অভিজাত হোটেলের হল রুমে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী আমন্ত্রণে আয়োজিত অভ্যর্থনা সভায় তিনি সিলেটের তারিফ করে বলেন, ‘সিলেট খুবই সুন্দর জায়গা। পরিবেশ, অর্থনীতি ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্রের দিক থেকে সারাদেশের মধ্যে সিলেটের অবস্থান অনন্য। এখানে সকল ধর্মের মানুষের বসবাস থাকলেও তাদের মধ্যে সম্প্রীতির বন্ধন রয়েছে। এটা দেখে আমি অভিভুত’।

মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে চীনা রাষ্ট্রদূত সিলেট সিটি কর্পোরেশন এলাকার বিভিন্ন প্রকল্প ঘুরে দেখার অভিজ্ঞতা বর্ণনাও করেন। তিনি চীনের বিভিন্ন প্রদেশের সাথে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধির উপরও গুরুত্বারুপ করে বলেন, সিলেট অঞ্চলে আরও বেশি চাইনীজ প্রতিষ্ঠান স্থাপনের ব্যাপারে তিনি সংশ্লিষ্টদের উৎসাহ দেবেন। এছাড়া সিলেটের চলমান উন্নয়ন অভিযাত্রায় চায়না সরকারের সহযোগিতার হাত প্রসারিত থাকবে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ায় দ্রুত ও টেকসই আর্থ-সামাজিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ নতুন উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশে চায়নার বাণিজ্যিক সম্পর্ক খুবই শক্তিশালী। সিলেট অঞ্চলে প্রযুক্তি, কৃষি ও শিক্ষা খাতে তার সরকার বিনিয়োগ করতে চায়।এটি করতে পারলে বাংলাদেশ তথা সিলেটের সাথে বাণিজ্য সম্পর্ক আরো জোরদার হবে। এতে করে দুই দেশই দারুণভাবে লাভবান হবে।’

চীনের রাষ্ট্রদূতকে ধন্যবাদ জানিয়ে মেয়র আরিফ বলেন, ‘সিলেট অসাম্প্রদায়িক একটি অঞ্চল। এখানে সকল ধর্মের মানুষের সামাজিক নিরাপত্তা ও সম্প্রীতির বন্ধন সু-দৃঢ়।’

তিনি সিলেটে তথ্যপ্রযুক্তি সহ বিভিন্ন খাতে চীনা সরকারের অর্থায়নের আহবান জানিয়ে বলেন, ভবিষ্যত সম্ভাবনা ও বিশ্ব বাণিজ্যে সিলেট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে উল্লেখ করেন তিনি। মেয়র বলেন,‘চীন বাংলাদেশের উন্নয়নের একটি সহযোগী রাষ্ট্র। বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে চীনের রয়েছে ব্যাপক বিনিয়োগ। এসব বিনিয়োগের পাশাপাশি সিলেটে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করতে পারলে বাংলাদেশ এবং চীন উভয় দেশই লাভবান হবে।’

অনুষ্ঠানে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী চীনা হাইকমিশনারকে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মনোগ্রাম খচিত ক্রেস্ট ও ফুল ও মনিপুরী নৃত্য পরিবেশন করে স্বাগত জানান। এ সময় সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিধায়ক রায় চৌধুরী, ওয়ার্ড কাউন্সিলরবৃন্দ, সচিব মোহাম্মদ বদরুল হক, প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল ইসলাম সুমন, প্রকৌশলী আলী আকবর, আব্দুল আজিজ, সামছুল হক পাটোয়ারী সহ সিসিকের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন