রাত পোহালেই ভোট উৎসব, অপেক্ষায় সিলেটের সাড়ে ২২ লাখ ভোটার

সিলেটের সকাল রিপোর্ট :: রাত পোহালেই শুরু হবে ভোট উৎসব। ভোটের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের জন্য ভোটাররাও অধির আগ্রহে অপেক্ষায়। নির্বাচন ঘিরে ফাঁকা হয়ে গেছে নগরীও। ভোটাররা চলে গেছেন নিজ নিজ এলাকায়। রোববার সকাল ৮টা থেকে ভোটযুদ্ধ শুরু হবে। চলবে টানা বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

ইতোমধ্যে ভোট গ্রহণের সব ধরণের প্রস্তুতিও সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন। শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণে মাঠে সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরাও রয়েছেন। সিলেটের ৬টি নির্বাচনী আসনে আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ বিভিন্ন দলের ৪৪জন প্রার্থী লড়ছেন। তাদের মধ্যে ছয়জনকে নির্বাচিত করবেন সংশ্লিষ্ট আসনের ভোটাররা।

সিলেটের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার এম কাজী এমদাদুল ইসলামের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সিলেটের মোট ৬টি সংসদীয় আসনে প্রার্থীর সংখ্যা ৪৪ জন। মোট ভোটার সংখ্যা ২২ লাখ ৫২ হাজার ৭৬৪ জন। মোট কেন্দ্র- ৯৯২টি। একটি সিটি কর্পোরেশন ও ১৩টি উপজেলার সমন্বয়ে গঠিত এ জেলায় মোট ৪৪ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ১৪ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন।

শনিবার সন্ধ্যার মধ্যে সিলেটের জেলা রিটানির্ং কর্মকর্তা কার্যালয় ও উপজেলায় সহকারি রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ভোটের সামগ্রী কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রেই পুলিশ, আনসার ও গ্রাম পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ভোটের দিনে ১৫ হাজার ২৫৪জন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া নির্বাচন নির্বিঘœ করতে ১৪ ইউনিট সেনাবাহিনী, ২৯.৫ প্লাটুন বিজিবি, ৩০০ র‌্যাব সদস্য মোতায়েন রয়েছে।

নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, সিলেটের ৬ সংসদীয় আসনের ৯৯২টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ (গুরুত্বপূর্ণ) কেন্দ্র ৬০৭ টি। এসব কেন্দ্রে নিয়মিত ফোর্সের পাশাপাশি বিশেষ নজরদারী করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) জেদান আল মুসা জানান, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণের জন্যে ৪ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

সিলেট রেঞ্জ ডিআইজি অফিসের পুলিশ সুপার নুরুল ইসলাম জানান, সাধারণ কেন্দ্রে ১৭ জন ও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ১৮ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন । এছাড়াও মোবাইল টিম স্ট্রাইকিং ফোর্সও রয়েছে।

সিলেটের রিটানির্ং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক কাজী এম এমদাদুল ইসলাম বলেন, ‘নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন সে জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন।’

এছাড়া জেলা রিটানির্ং কর্মকর্তা ও উপজেলায় সহকারি রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনিটরিং সেল খোলা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

শেয়ার করুন