দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ীরা শেখ হাসিনাকে পুনরায় প্রধানমন্ত্রী দেখতে চায়

সিলেটের সকাল ডেস্ক :: দলমত নির্বিশেষে দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী এবং উদ্যোক্তাগণ প্রধানমন্ত্রীকে ‘আশার প্রতীক’ আখ্যায়িত করে পুনরায় তাঁকে দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছেন।

আজ বুধবার সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) আয়োজিত ‘ব্যবসায়ী সম্মেলন-২০১৮’তে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি তুলে ধরে ব্যবসায়ী নেতারা একাদশ জাতীয় নির্বাচনে নৌকার প্রতি তাদের এই সমর্থন জানান।

জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠানে গত ১০ বছরে দেশের বিভন্ন সেক্টরে উন্নয়নের ওপর একটি ভিডিও চিত্র উপস্থাপন করা হয়। সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ব্যবসায়ীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে সবার সহযোগিতা চান।

তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের জন্য শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে আওয়ামী লীগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

প্রধানমন্ত্রী বেসরকারি খাতের বিকাশে তাঁর সরকারের উদ্যোগসমূহ তুলে ধরে বলেন, আমি ব্যবসা বুঝি না এবং ব্যবসা করিও না। কিন্তু আপনাদের জন্য ব্যবসার পরিবেশ সৃষ্টি করতে পেরেছি। আমরা বেসরকারি খাতকে উন্মুক্ত করে দিয়েছি এবং ব্যবসা-বাণিজ্য সুযোগ সৃষ্টি করেছি।

তিনি বলেন, বেসরকারি খাত যে এদেশে বিকশিত হবে সে লক্ষে যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনকালে স্বল্প সময়ের মধ্যে প্রণীত সংবিধানেই নীতিমালা সন্নিবেশিত করা হয়।

শেখ হাসিনা ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে বলেন, পাকিস্তান আমলে ব্যবসায়ী বলতে ছিল দু-চারজন। এখন আমাদের ঘর ভরা, দেশ ভরা ব্যবসায়ী। দেশ স্বাধীন হয়েছিল বলেই আজ আপনারা বড় বড় ব্যবসায়ী হতে পেরেছেন।

‘বিবিআইএন’ এবং ‘বিসিআইএম-ইসি’ কানেকটিভির প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিবেশীর সঙ্গে একটা যোগাযোগ ও সদ্ভাব সৃষ্টি, সেটাও আমরা করতে পেরেছি।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আপনাদের সেবা করার আরেকবার সুযোগ দিন। আমার উন্নয়নের কাজগুলো যেন আমি সম্পন্ন করতে পারি।’
তিনি বাংলাদেশের উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে গ্রাজুয়েশন প্রাপ্তির উল্লেখ করে তিনি বলেন, আজকে বিদেশের যেথানেই যান সেখানে বাংলাদেশের মানুষ হিসেবে যে সম্মানটা পাচ্ছেন সেটা যেন অব্যাহত থাকে, সেটাই আমি চাই।

সম্মেলনে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বের প্রশংসা করেন এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশের অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায় সব সময় তাঁর পাশে থাকার অঙ্গীকার করেন।

সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক এবং দুর্নীতির প্রতি শেখ হাসিনার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির সমর্থন করে ব্যবসায়ীগণ প্রত্যাশাও ব্যক্ত বলেন, আগামী নির্বাচন হবে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে শান্তি সমৃদ্ধির দেশ গড়ার মাইলফলক।

দেশের শীর্ষ শিল্প উদ্যোক্তাবৃন্দ, সিইও, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, আমদানী-রপ্তানী প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তা, বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, তথ্য প্রযুক্তি এবং বিদ্যু ও জ্বালানিসহ বিভিন্ন সেবাখাতের সাথে সংশ্লিষ্ট বেসরকারি সংগঠনের কর্তাব্যক্তিগণ অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

এফবিসিসিআই সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, ‘আমরা চাই দেশের চলমান উন্নয়নের গতিধারা এবং ব্যবসায়ীদের জন্য বিদ্যমান ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ দেশে বজায় থাকুক।’

তিনি বলেন, ব্যবসায়ী সম্প্রদায় এমন নেতৃত্ব চায় যে কিনা দূরদৃষ্টি সম্পন্ন, সাহসী এবং যার দুয়ার সবসময় ব্যবসায়ীদের জন্য অবারিত থাকবে। শেখ হাসিনা এমনই একজন ব্যক্তিত্ব তিনি যে কোন সমস্যায় ব্যবসায়ীদের শেষ ভরসাস্থল।

আওয়ামী লীগে সভাপতি শেখ হাসিনার বেসরকারি খাত উন্নয়ন বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেন, শেখ হাসিনার সরকার দেশে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করে দিয়েছে। তাঁর দরজা দলমত নির্বিশেষে সকলের জন্য সব সময় খোলা থাকে। ব্যবসায়ীরা যে কোন প্রয়োজনেই তাঁকে কাছে পেয়ে থাকেন।

তিনি বলেন, কেউ বলতে পারবেন না, এই সরকারের সময়ে ব্যবসা করতে গিয়ে কোনরূপ প্রতিবন্ধকতার শিকার হয়েছেন বা হাওয়া ভবনের মত চাঁদা গুণতে হয়েছে। এরপর একে একে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের বক্তব্যে ফুটে উঠে আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশের প্রত্যাশা।

অন্যান্য ব্যবসায়ীদের মধ্যে আনিসুর রহমান সিনহা, হেলাল উদ্দিন আহমেদ, আনোয়ারুল আলম চৌধুরী, আনোয়ার হোসেন, এ কে আজাদ, আতিকুল ইসলাম, টিপু মুন্সি, প্রকৌশলি কুতুব উদ্দিন আহমেদ, রুবানা হক, আহমেদ আকবর সোবহান, সাইফুল ইসলাম, ফজলুর রহমান, আবদুল মুক্তাদির, মাইকেল পলি, মিজানুর রহমান চৌধুরী, মাহবুবুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

তথ্যসূত্র: বাসস

শেয়ার করুন