জয়ে বছর শেষ করতে চান মাশরাফি

মিজান আহমদ চৌধুরী :  ২০১৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দিয়ে  আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যাত্রা শুরু হয়েছিল সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের। কিছুদিন আগে এই মাঠে হয়েছে  বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ের মধ্যকার টেস্ট ম্যাচ। এবার নয়নাভিরাম এই স্টেডিয়ামে ওয়ানডে ক্রিকেটের যাত্রা শুরু হবে। শুক্রবার এই মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে আতিথ্য দেবে বাংলাদেশ।ওয়ানডে সিরিজ ১-১ সমতা থাকায় শেষ ওয়ানডে ম্যাচটি হয়ে গেছে বাঁচা মরার ম্যাচ দুদলের জন্য।

এবছর ওয়ানডে ক্রিকেটে সাফল্যের  এদিক বিচারে ভারত ( ২০ ম্যাচে ১৪ জয়ে ৭৫%),ইংল্যান্ড ( ২৪ ম্যাচে ১৭ জয়ে ৭৩.৯১%) এবং নিউজিল্যান্ডের ( ১৩ ম্যাচে ৮ জয়ে ৬৬.৬৬%) পরই বাংলাদেশের অবস্থান। এমন একটি সফল বছরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটি থেকে ওয়ানডে সিরিজের ট্রফি জয় কম উচ্চতায় তোলেনি বাংলাদেশ দলকে।

এ বছর ২টি ওয়ানডে সিরিজের দু’টিরই ট্রফি জিতেছে বাংলাদেশ দল। শ্রীলংকা-জিম্বাবুয়েকে নিয়ে দেশের মাটিতে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় ওয়ানডে টুর্নামেন্ট এবং পাকিস্তান,শ্রীলংকাকে হারিয়ে এশিয়া কাপের মতো বড় আসরের ফাইনালিস্ট বাংলাদেশ। ইতোমধ্যে ১৯ ওয়ানডে ম্যাচে ১২ জয়, ৭ হার এ বাংলাদেশ দলের সাফল্যাঙ্ক ৬৩.১৫%।

সফল বছরের শেষটায়ও সাফল্যের হাসি হাসতে চায় বাংলাদেশ দল। সিলেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের ফাইনালকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে সে প্রত্যাশার কথাই জানিয়েছেন মাশরাফি-‘ জয় দিয়ে শেষ করতে পারলে ভালো হবে। এই সিরিজের প্রথম ম্যাচের পর বলেছিলাম যে, এ বছরের জয়ের পার্সেনটেজ বেশ ভালো। জয় দিয়ে শেষ করতে পারলে খুব ভালো হবে। এ বছর  খুব বড় একটা টুর্নামেন্ট জেতার সুযোগ ছিল। বছরের শুরুতেও একটা ত্রিদেশীয় সিরিজ হেরেছি। এছাড়া সব মিলিয়ে আমার কাছে মনে হয় ওয়ানডে ফরমেটটা বেশ ভালো গিয়েছে। শেষটাও উইনিং সাইডে থাকতে পারলে ভালো হবে।’

আর মাত্র ৬ মাস পর ওয়ার্ল্ড কাপ।  তার আগে হোমে এই ম্যাচটাই বাংলাদেশের শেষ প্রস্তুতির সুযোগ। সে কারনেই আত্মবিশ^াসের পারদ নিয়ে ওয়ার্ল্ড কাপ মিশনের রসদ পেতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ জয়ে চোখ মাশরাফির-‘অবশ্যই এ ম্যাচটা জিততে পারলে পরবর্তী সিরিজের আত্মবিশ্বাস ভালো থাকবে। ’

২০০৬ সালে ২৮ ওয়ানডে ম্যাচে ১৮ জয়ে ক্রিকেট দুনিয়াকে দারুন একটা বার্তা দিতে পেরেছিল বাংলাদেশ। ২০১৫ সালে ১৮ ওয়ানডে ম্যাচে ১৩ জয়ের কথাও ভোলার নয়। বাংলাদেশের ওয়ানডে ইতিহাসে স্মরনীয় এই দুই বছরে বাংলাদেশ দলের সাফল্যে অংশীদার ছিলেন মাশরাফি। এ বছরও দারুন একটি সাফল্যগাঁথায় আছেন তিনি। শেষটা রঙীন হলেই সাফল্যের হাসিটা চওড়া হবে।

এদিকে বর্তমানে ৬৯ ম্যাচ নেতৃত্ব দেওয়ার রেকর্ডে হাবিবুল বাশারের সঙ্গে অবস্থান মাশরাফির। এবার নতুন মাইলফলকের সামনে দাঁড়িয়ে গর্ব বোধ করছেন বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক। পরিসংখ্যানে সমান থাকলেও সাফল্যর দিক দিয়ে অনেক আগে সাবেক অধিনায়ককে ছাড়িয়ে গেছেন। সর্বোচ্চ ৩৯ জয়ে দলকে নেতৃত্ব দিয়ে দেশের সেরা ওয়ানডে অধিনায়ক এখন মাশরাফি। হাবিবুলের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জয় পেয়েছিল ২৯ ম্যাচে। তৃতীয় স্থানে থাকা সাকিব আল হাসানের অধিনায়কত্বে বাংলাদেশের জয় ৫০ ম্যাচে জিতেছে ২৩ টি।  সেই হিসেবে শুক্রবারের ম্যাচটি হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক হিসেবে মাশরাফির ৭০তম ম্যাচ।

এতসব রেকর্ড, মাইলফলক নিয়ে বিস্তর আলোচনা হলেও এ বিষয়ে বরাবরই নির্লিপ্ত থেকেছেন নড়াইল এক্সপ্রেস। তবুও বৃহস্পতিবারর সংবাদ সম্মেলনে নিজের অনুভূতি জানালেন গর্বের সঙ্গে, ‘এটা আমার এবং পরিবারের জন্য খুব গর্বের। বাংলাদেশ দলকে অনেক সময় ধরে নেতৃত্ব দিতে পেরেছি, এর চেয়ে ভালো লাগা অনুভূতি আর কিছু হতে পারে না। কাল (শুক্রবার) যদি মাঠে নামতে পারি তাহলে ওয়ানডে ফরম্যাটে সবথেকে বেশি অধিনায়কত্ব করার সুযোগ হবে। এটা অবশ্যই আমার জন্য অনেক ভালো অনুভূতির ব্যাপার।

 

শেয়ার করুন