জলবায়ু পরিবর্তনে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় সপ্তম বাংলাদেশ

সিলেটের সকাল ডেস্ক::চরম প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সবচেয়ে বিপন্ন বা ক্ষতিগ্রস্ত দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান সপ্তম। ১৯৯৮ সাল থেকে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো নিয়ে প্রকাশিত এক সূচকে এ কথা বলা হয়েছে। এর নাম দেয়া হয়েছে ‘দ্য লং টার্ম ক্লাইমেট রিস্ক ইনডেক্স’। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে শীর্ষে রয়েছে পুয়ের্তো রিকো এবং শ্রীলঙ্কা। পোল্যান্ডের কাতোয়িস শহরে বুধবার বার্ষিক জলবায়ু সম্মেলনে প্রকাশ করা হয়েছে গ্লোবাল ক্লাইমেট রিস্ক ইনডেক্স ২০১৯। এর অংশ হলো উপরের ওই সূচক। এতে বলা হয়েছে, ১৯৯৮ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত চরম প্রতিকূল আবহাওয়ায় ক্ষতি বিশ্লেষণ করে এ সূচক তৈরি করা হয়েছে। ২০১৭ সালের জন্য তৈরি করা বার্ষিক এমন সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল নবম স্থানে।

তার আগের বছর বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৩তম। নেপাল ২০১৭ সালে ছিল চতুর্থ অবস্থানে। ভারত ছিল ১৪ তম অবস্থানে। উল্লেখ্য, গত বছর চরম প্রতিকূল আবহাওয়ার প্রভাবে বাংলাদেশে বন্যা, ভূমিধস, ঝড়, ঘূর্ণিঝড়ে নিহত হয়েছে কমপক্ষে ৪০৭ জন। বার্লিনভিত্তিক পরিবেশ বিষয়ক সংগঠন জার্মানওয়াচের তৈরি করা রিপোর্টে বলা হয়েছে, এতে বাংলাদেশের অর্থনীতির ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৮২ কোটি ৬৬ লাখ ৮০ হাজার ডলার। ওদিকে ইন্টারগভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (আইপিসিসি) এরই মধ্যে পূর্বাভাস দিয়েছে তাদের সায়েন্টিফিক রিপোর্টে। তাতে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে চরম প্রতিকূল অবস্থা বৃদ্ধি পেতে থাকবে। ওই সূচকের শীর্ষে যে চারটি দেশ আছে তাতে দেখা যায়, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিশ্বজুড়ে যেসব দেশ বিপন্ন অবস্থায় আছে তার মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো কতটা বিপদে আছে। ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, ভারি বর্ষণে নেপাল, বাংলাদেশ ও ভারতজুড়ে বন্যা দেখা দেয়। এতে আক্রান্ত হয়েছে কমপক্ষে চার কোটি মানুষ। এসব দেশে কমপক্ষে ২০০ মানুষ মারা গেছেন। এ অঞ্চলে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন কয়েক লাখ মানুষ। বন্যা দেখা দিয়েছে হিমালয়ের পাদদেশের এলাকাগুলোতে। এতে হয়েছে ভূমিধস। ধ্বংস হয়েছে হাজার হাজার বাড়ি। কৃষিজমি ও সড়কের হয়েছে মারাত্মক ক্ষতি। জার্মানওয়াচের রিপোর্ট বলছে, ১৯৯৮ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে চরম জলবায়ুর কারণে বিশ্বজুড়ে মারা গেছেন কমপক্ষে ৫ লাখ ২৬ হাজার মানুষ। এতে ক্ষতি হয়েছে ৩.৪৭ ট্রিলিয়ন ডলার।

শেয়ার করুন