রাজ জ্যোতিষী ।। মো. মিজাহারুল ইসলাম

জলহীন তপ্ত ধরা ঝলসানো পোড়া,
অভাব হাহাকার রাজ্য জুড়ে খরা,
চিন্তিত রাজা ডাকে রাজ-জ্যোতি,
বোঝে হালচাল শোনে লাভ-ক্ষতি।

বলে জ্যোতিষী,রত্নভান্ডার যা কোসাগারে,
বিলাও মুক্ত হস্ত, কর দান চুপিসারে,
“তবে এক্ষুনি করো দান ” সম্মতি রাজার,
আসুক সুখ গুছে যাক দুঃখ প্রজার।

চুপচাপ আছে সব সভাসদ দলে
হতবাক বিহ্বল জ্যোতিষীর ছলে,
কতক বাহ’বা ছড়ায় সারা তল্লাটে
নাম যশ খ্যাতি সব নিমিষেই জুটে।

বিপদ তো গেল, তবে আপদকালিন,
সাময়িক বাঁচলো প্রজা গরীব দীনহীন,
জলের অভাব খরার প্রভাব রাজ্য জুড়ে,
রাজার চোখে জল ছলছল হৃদয় পোড়ে।

মাঠে ঘাটে হাটে নানা কথা রটে,
নিছক মিথ্যে না সব,সত্যই বটে!
দিনদিন বাড়ে দেনা বাড়ে দীনহীন,
রাজ্য ভান্ডার শূন্য বাড়ে রাজ ঋণ।

অযথা চিন্তা ভাবনা কেন মহারাজ?
আসমানে ভাসে মেঘ জলের জাহাজ,
মেঘে মেঘে ঘর্ষে ঘটাব বাজ,
যদি দেন সম্মতি শুরু করি কাজ।

জল চাই জল, চাই মেঘের ছানা,
প্রস্তুত আছে সব মন্ত্রী সেনা,
মেঘ হতে জল পারো, ভাসাও ভূ কূল,
যত লাগে গোলা বারুদ দিব বিলকুল।

অবশেষে জল নামে আসে গাছে ফুল,
আহ্লাদে আটখানা প্রজা বিরাট হুলস্থূল,
শোক নেই, দুখ নেই, নেই ঋণ দেনা,
ঘরে ঘরে খুশিতে সুখ দিলো হানা।

তাং- ১২/১১/১৮ খ্রীস্টাব্দ, সিলেট।

শেয়ার করুন