ব্যাটিং বিপর্যয়ে বাংলাদেশ

মিজান আহমদ চৌধুরী, স্টেডিয়াম থেকে : সিলেট টেস্টে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। দলীয় ১৯ রানের মধ্যে হারিয়েছে ৪ ব্যাটসম্যানকে। শুরুটা হয়েছে ইনফর্ম ইমরুল কায়েসকে দিয়ে। লাঞ্চের পরপরই দলীয় ৮ রানে চাতারার বলে বোল্ড হয়ে যান তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে দুটি সেঞ্চুরি এবং একটি ৯০ রানের ইনিংস খেলা ইমরুল কায়েস (৫)।

ইমরুল কায়েসের পর অপর ওপেনার লিটন দাসও হতাশ করেন। ইমরুল আউট হওয়ার ৬ রানের ব্যবধানে জার্ভিসের বলে উইকটকিপার চাকাভার গ্লাভসবন্দি হলেন লিটন (৯)। নাজমুল হোসেন শান্ত আবারও ব্যর্থ। মাত্র ৫ রান করে চাতারার বলে চাকাভার গ্লাভবন্দি হন। এমন বিপদে হাল ধরার অন্যতম যোগ্য মানুষটি হলেন অধিনায়ক মাহমুদ উল্লাহ রিয়াদ। কিন্তু চাতারার বলে ‘ডাক’ মেরেই প্যাভিলিয়নে ফিরেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।

১১ ওভার শেষে বাংলাদেশর সংগ্রহ ৪ উইকেটের বিনিময়ে ২০ রান। ব্যাট করছে মুমিনুল (১*) ও মুশফিক (০*) ।

এর আগে দ্বিতীয় দিনে তাইজুল ইসলামের বোলিং ঘূর্ণিতে সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় দিনে তেমন সুবিধা করতে পারেনি জিম্বাবুয়ে। আগের দিনের ৫ উইকেটে ২৩৬ রানে দিন শুরু করা সফরকারীরা মাত্র ৪৬ রান যোগ করতে হারায় তাদের শেষ ৫ উইকেট। এই ৫ উইকেটের ৪ উইকেটই তুলে নেন তাইজুল ইসলাম। প্রথম ইনিংসে তার উইকেট সংখ্যা ৬টি। দ্বিতীয় দিনে ¯্রােতের বিপরীতে দাড়িয়ে নিজের চতুথ টেস্ট ফিফটি তুলে নেন পিটার মূর।

সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় দিনে খেলা ৫ উইকেটে ২৩৬ রান নিয়ে শুরু করে সফরকারী জিম্বাবুয়ে। অগের দিনে তাদের দুই ব্যাটসম্যান পিটার মুরের ৩৭ ও চাকাভার ২০ রান দিয়ে আবার খেলা শুরু করেন। তবে চাকাভা মাত্র ৮ রান যোগ করতেই নাজমুল শান্তের তালুবন্দি হন তাইজুলের শিকারে পরিণত হন। তবে অপর প্রান্তে অবিচল থেকে শেষের দিকের ব্যাটসম্যানদেরকে দিয়ে নিয়ের চতুর্থ টেস্ট ফিফটি তুলে নেন পিটার মুর (৬৩*)। তবে শেষ দিকে তাইজুল ঘূর্নিতে মাত্র ২৮২ রানে অল আউট হয়ে যায় জিম্বাবুয়ে। তাইজুল লাভ করেন ৬ উইকেট । এছাড়া নাজমুল অপু দুটি এবং রাহি ও মাহমুদউল্লাহ একটি করে উইকেট লাভ করেন।

এর আগে প্রথম দিনে ওয়ানডেতে টানা তিন ম্যাচে টস হারা হ্যামিল্টন মাসাকাদজা বিশেষ স্মারক কয়েনে টস ভাগ্যকে পেলেন পাশে। টস জিতে জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক নেন ব্যাটিং। দিন শেষে তার দলের ব্যাটসম্যানেরা তার এই সিদ্ধান্তকে সঠিক বলে প্রমান করেন।

এর আগে শনিবার বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ের টেস্ট ম্যাচ শুরুর আগে ব্যাতিক্রম ধর্মী ঘণ্টা বাজিয়ে স্টেডিয়ামের টেস্ট ক্রিকেটে পথচলা শুরু করেন আইসিসি ট্রফি জয়ী বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক আকরাম খান ।এই ঘন্টা বেজে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে সিলেটবাসীর প্রতিক্ষীত টেস্ট ভেন্যুর যাত্রা শুরু হয়। বাংলাদেশের কোন টেস্ট ভেন্যুর অভিষেক মূহুর্তে বিছানো হয়নি লাল গালিচা।তবে এ ম্যাচে ছিলো এমন বিশেষ আয়োজন ছিলো।
শনিবার সকাল ১০টায় শুরু হয় প্রথম দিনের খেলা । জিম্বাবুয়ের হয়ে ওপেন করতে নামেন অধিনায়ক হ্যামিল্টন মাসাকাদজা ও ব্রায়ান চেরি । বাংলাদেশ মাত্র এক পেসার নিয়ে খেলতে নামায় প্রথম ১০ ওভার বাংলাদেশের বোলারদেরকে ভালো ভাবে সামলাতে থাকেন তাদের দুই ওপেনার । তবে দলীয় ৩৫ রানে সফরকারী জিম্বাবুযে তাদের প্রথম উইকেট হারায়। ৩১ বলে ১৩ রান করে ব্রায়ান চেরি তাইজুলের শিকারে পরিণত হন। এরপর উইকেটে আসেন জিম্বাবুয়ের নির্ভরযোগ্য ব্যাটম্যান ব্রেন্ডেন টেইলর। তবে তিনি মাত্র ৬ রান করে তাইজুলের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হলে হতাশা ভর করে জিম্বাবুয়ে শিবিরে।অন্যদিকে ওপর প্রান্তের ব্যাটসম্যানদের যাওয়া আসার মাঝে নিজের টেস্ট ক্যারিয়ারের ৮ম ফিফটি তুলে নেন অধিনায়ক মাসাকাদজা। তবে লাঞ্চ বিরতি থেকে এসে কোন রান যোগ না করেই সিলেটের লোকাল বয় আবু জাহেদের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ৫২ রান করে ফিরেন জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক। এরপর জিম্বাবুয়ের হয়ে ব্যাটিংয়ে হাল ধরেন অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান শন উইলিয়ামস ও সিকান্দার রাজা। তারা দুজন মিলে চতুর্থ উইকেট জুটিতে ৪৪ রান সংগ্রহ করেন। সিকান্দার রাজা দলীয় ১২৯ রানে মাথায় ব্যক্তিগত ১৯ রান করে নাজমুর হোসেনের অভিষেক টেস্ট উইকেটের শিকারে পরিণত হলেও রানের চাকা সচল রাখেন উইলিয়ামস। নিজের দ্বিতীয় দ্বিতীয় টেস্ট ফিফটি তুলে নিজের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি থেকে ১২ রান দূরে থাকতে বাংলাদেশের অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহর দুর্দান্ত শিকারে পরিণত হন তিনি। স্লিপে দাড়িয়ে থাকা মিরাজ ঝাপিয়ে পড়ে বলটি ক্যাচে পরিণত করেন। শেষ দিকে পিটার মুরের (৩৭*) ও চাকাভার (২০*) ব্যাটে ভর করে ২৩৬ রানে ৫ উইকেটে দিন শেষ করে জিম্বাবুয়ে।

এদিকে এ ম্যাচে টেস্টে সাদা পোশাকে অভিষেক হয়ে গেল স্পিনার নাজমুল ইসলাম অপু এবং আরিফুল হকের। নাজমুলের অভিষেক অনেকটা অনুমিত থাকলেও আরিফুলের অভিষেকটা বেশ চমক। একাদশে নেই মুস্তাফিজুর রহমান। একমাত্র বিশেষজ্ঞ পেসার হিসেবে আছেন আবু জায়েদ চৌধুরী। আরও দুই স্পেশালিস্ট স্পিনার হিসেবে আছেন মেহেদী হাসান মিরাজ এবং তাইজুল ইসলাম। অন্যদিকে জিম্বাবুয়ের হয়ে অভিষেক হয় টেস্ট ক্রিকেটে ব্রেন্ডন মাভুতা ও ওয়েলিংটন মাসাকাদজা।
বাংলাদেশ একাদশ: মাহমুদউল¬াহ, ইমরুল কায়েস, লিটন দাস, মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, আবু জায়েদ চৌধুরী, আরিফুল হক, নাজমুল হোসেন শান্ত, নাজমুল ইসলাম অপু।
জিম্বাবুয়ে দল: হ্যামিল্টন মাসাকাদজা (অধিনায়ক), ব্রায়ান চেরি, ব্রেন্ডন টেইলর, শন উইলিয়ামস, সিকান্দার রাজা, পিটার মুর, রেগিস চাকাভা, কাইল জার্ভিস, ব্রেন্ডন মাভুতা, ওয়েলিংটন মাসাকাদজা, তেন্দাই চাতারা।

 

 

শেয়ার করুন