‘ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে কাজ করবে সিলেট ও চট্টগ্রাম চেম্বার’

সিলেটের সকাল ডেস্ক:: সিলেট এবং চট্টগ্রামের ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে যৌথ উদ্যোগে কাজ করার জন্য সম্মত হয়েছে সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি এবং চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি। একই সাথে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের লক্ষে রেল, মহাসড়ক ও বিমানের ফ্লাইট চালুর ব্যাপারে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট যৌথভাবে দাবী জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন উভয় চেম্বারের নেতৃবৃন্দ।

শনিবার সকালে সিলেট চেম্বার কনফারেন্স হলে সিলেট ও চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি’র যৌথ সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভায় বলা হয়, সিলেট এবং চট্টগ্রামের মধ্যে ভৌগলিক, সামাজিক এবং ব্যবসায়ীক যে সম্পর্ক রয়েছে তা কাজে লাগিয়ে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ করলে সবক্ষেত্রে সাফল্যের দ্বার আরো উন্মোচিত হবে।

যৌথ সভায় সিলেট চেম্বারের পক্ষে সভাপতিত্ব করেন সিলেট চেম্বারের সভাপতি খন্দকার সিপার আহমদ এবং চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি’র পক্ষে নেতৃত্ব দেন চিটাগাং চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম।

সভায় অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান ও জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত ড. এ কে আব্দুল মোমেন। বক্তব্যে ড. মোমেন বলেন, সিলেট এবং চট্টগ্রামের মধ্যে সড়ক, রেল ও বিমান যোগাযোগ উন্নত করলে পর্যটন শিল্প, আইটি সেক্টরসহ বিভিন্ন খাতে শিল্পোদ্যোক্তারা লাভবান হবেন। তিনি বলেন, সিলেট ডিজিটাল সিটির মতো চট্টগ্রাম সিটিকে কিভাবে ডিজিটাল সিটিতে রূপান্তরিত করা যায় এজন্য আমরা সিটি মেয়রকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছি। তিনি জানান, সিলেট এয়ারপোর্টের জন্য বিশাল প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। তা বাস্তবায়িত হলে বর্তমান এয়ারপোর্ট চারগুন বৃদ্ধি পাবে।

চিটাগাং চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, কমিটমেন্টের দিক দিয়ে চট্টগ্রাম ও সিলেটের মানুষ যেমন দৃঢ়চেতা তেমনি এ দু’অঞ্চলের মানুষের মনও অনেক বড়। আমার শুনে ভালো লেগেছে সিলেটে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা নির্বিঘেœ ও শান্তিতে ব্যবসা করছেন, যেখানে তারা চাঁদবাজি ও কোন ধরণের হয়রানির শিকার হচ্ছেন না, এটি খুবই ইতিবাচক দিক। চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে সিলেট চেম্বারের বুথ খোলার প্রস্তাব করে বলেন, সেখানে বিনা ভাড়ায় আপনাদের জন্য স্পেস বরাদ্দ দেওয়া হবে। তিনি বলেন, সিলেটে এখনও পর্যাপ্ত গ্যাস রয়েছে, কি কারণে তা গ্রাহকদের দেওয়া হচ্ছে না তা আমি বুঝতে পারছিনা। শুধুমাত্র গ্যাসের কারণে অনেক শিল্প কারখানা গড়ে উঠছে না এবং অনেকেই ব্যাংক ডিফল্টার হয়েছেন। তিনি সিলেট এবং চট্টগ্রামের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের জন্য সপ্তাহে অন্তত তিনদিন ইউএস বাংলা ও রিজেন্ট এয়ারের সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্লাইট একমাসের মধ্যে চালুর দাবী জানান। এছাড়া ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্প স্থাপনে যেকোন সমস্যা সমাধানে যৌথভাবে সরকারের নিকট দাবী জানানোর প্রস্তাব করেন।

সিলেট চেম্বারের সভাপতি খন্দকার সিপার আহমদ বক্তব্যে বলেন, চট্রগ্রাম ও সিলেটের নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য দেশ-বিদেশের পর্যটকদের দারুণভাবে আকর্ষণ করে। কিন্তু সিলেট ও চট্রগ্রামের যাতায়াত ব্যবস্থার অপ্রতুলতার কারণে এই সম্পর্ক দিন দিন ম্লান হয়ে যাচ্ছে। তিনি সিলেটের সাথে চট্টগ্রামে সম্পর্ক সুদৃঢ় করণের লক্ষ্যে রেলসেবার মান উন্নয়ন, শ্রীমঙ্গলে প্রতিষ্ঠিত ২য় চা নিলাম কেন্দ্রের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা, প্রবাসী বিনিয়োগ বৃদ্ধি, পর্যটন শিল্পের বিকাশ এবং ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের কথা বিবেচনা করে সিলেট-চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম-সিলেট রুটে বিলাসবহুল, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন এসি কোচ সংযোজন, সিলেট-চট্টগ্রাম রেল লাইনকে ব্রডগেজে রুপান্তর এবং যাত্রী সেবার মান বৃদ্ধি, শ্রীহট্ট ইকোনমিক জোন এবং সিলেট ইলেকট্রনিক্স সিটিতে বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগে আকৃষ্টকরণের লক্ষ্যে সিলেট-চট্টগ্রাম-সিলেট রুটে বিমানের ফ্লাইট চালু, সিলেট-চট্রগ্রাম মহাসড়ক সংস্কার এর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানান। সিলেটের সাথে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীক সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে চিটাগাং চেম্বারের সাথে এক যোগে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের জন্য সিলেট চেম্বারে একটি সেল খোলার প্রস্তাবও করেন তিনি।

এসময় বক্তব্য রাখেন র‌্যাব-৯, সিলেটের অধিনায়ক লে. কর্নেল আলী হায়দার আজাদ আহমেদ, সিলেট চেম্বারের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাসুদ আহমদ চৌধুরী, পরিচালক মো. হিজকিল গুলজার, জিয়াউল হক, পিন্টু চক্রবর্তী, ফালাহ উদ্দিন আলী আহমদ, চট্টগ্রাম সমিতি সিলেটের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, লুব-রিফ বাংলাদেশ লি. এর পরিচালক সালাউদ্দিন ইউসুফ, ফুলকলির ডিজিএম মো. জসিম উদ্দিন খন্দকার, ওয়েল ফুডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর হাবিবুর রহমান, লংকা-বাংলা সিকিউরিটিজের সিলেট ইনচার্জ মো. শামছুদ্দিন, চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী মো. ছানাউর।

এসময় উপস্থিত ছিলেন সিলেট চেম্বারের সহ-সভাপতি মো. এমদাদ হোসেন, পরিচালক মো. সাহিদুর রহমান, নুরুল ইসলাম, মো. ওয়াহিদুজ্জামান (ভূট্টো), এহতেশামুল হক চৌধুরী, মুকির হোসেন চৌধুরী, আব্দুর রহমান, মো. আব্দুর রহমান জামিল, হুমায়ুন আহমেদ, মুজিবুর রহমান মিন্টু, সদস্য এম. এ. হান্নান সেলিম, সৈয়দ শহিদুল ইসলাম, মো. সাহাব উদ্দিন, আবেদুজ্জামান, ধ্রুব দাস, এহসানুল কবির, জাবেদ সিরাজ, মো. আব্দুল হক, নাজিম উদ্দিন, মো. আবুল হোসেন, এম. রফিকুল আলম, মো. সাইফুদ্দিন চৌধুরী, আনোয়ার হোসেন সেলিম, রাহাত তফাদার এবং চিটাগাং ও সিলেট চেম্বারের কর্মকর্তারা।

শেয়ার করুন